
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় মানুষের মাঝে অন্যতম একজন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গাড়ি চালানো শিখেছিলেন তিনি। এখন তার কাছে আছে প্রায় ১০০টি দামী গাড়ি। কিমের এক একটি গাড়ির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি টাকা। তার ব্যক্তিগত বিমান তো আছেই, সেই সাথে রয়েছে প্রাইভেট রানওয়ে। কিমের প্রায় প্রতিটি প্রাসাদের পাশেই নিজস্ব রানওয়ের ব্যবস্থা আছে। অবসর সময়ে তিনি সিনেমা দেখেন নিজের ব্যক্তিগত হলে বসে। এটি তৈরিতে খরচ পড়েছে প্রায় ২ লক্ষ মার্কিন ডলার। হলটিতে ১০০০ মানুষ একসাথে বসে সিনেমা দেখতে পারবে।কিম তার নিজের জন্য একটি দীর্ঘজীবী প্রতিষ্ঠান গঠন করেছেন। যেখানে প্রতিদিন ১৩০ জন ডাক্তার তার দেখভাল করেন।তিনি তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে শুধু একটি ছোট ব্যাগ উপহার দিয়েছিলেন, যেটির দাম বাংলাদেশি মূদ্রায় ২ লক্ষ টাকা। শুধু তার স্ত্রীকে নয়, দেশের উচ্চপদস্থদের অনেকেই বেশ দামী উপহার পেয়ে থাকেন নেতার কাছ থেকে। ২০১০ সালে এমন ১৬০ জন কর্মকর্তা মার্সিডিজ বেন্জ গাড়ি উপহার পান, যার মূল্যমান ১১.৭ মিলিয়নের কাছাকাছি। কিম কোন জায়গায় থাকেন কেউ তা বলতে পারে না। কারণ অনেকের মতে তার ভিন্ন ভিন্ন ১৭ টি বিলাসবহুল প্রাসাদ আছে। আছে একটা নিজস্ব দ্বীপও।কিমের সংগ্রহে অনেক দামী দামী পিয়ানো আছে।এর সংখ্যা তিন ডজনের কম নয়। যার এক একটার দাম প্রায় ৬৪,৪৫১ ডলার।মাঝে মাঝেই তিনি সুর তোলেন ঘরে রাখা দামি দামি পিয়ানো দিয়ে। কিম বাস্কেটবল এর খুবই ভক্ত। এমনকি, বাস্কেটবল এর কিংবদন্তি রড মানুষ অনেক টাকা খরচ করে উত্তর কোরিয়া ভ্রমনে এনেছিলেন।তার আরেকটি শখের সংগ্রহ হলো ঘোড়া। রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া উৎপাদন ও তত্ত্বাবধানের খরচ বহন করা হয়।এছাড়াও golf খেলার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ আছে। এই নেতার শখ পূরণে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বছরে ৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়।জনসম্মুখে এলে কিমের হাতে ঘড়ি নেই, এমনটা সচরাচর ঘটে না। দামি দামি ঘড়ির সংগ্রহ রয়েছে তার। সবমিলিয়ে শুধু তার ব্যক্তিগত হাত ঘড়ির পিছনেই খরচ করেছেন ৮২ লক্ষ ডলারের বেশি।অবসরে প্রমোদতরীতে সময় কাটান কিম। প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের নিজস্ব ইয়াট নিয়ে সমুদ্রে ঘুরে বেড়ান তিনি।উত্তর কোরিয়ার উপকূল এলাকায় ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি প্রমোদতরী রয়েছে তার। এরই পাশে আছে থিম পার্ক এবং একটি ফুটবল মাঠ।খেতে পছন্দ করেন কিম জং উন। ডায়েট নিয়ে কোনো ধরণের কার্পণ্য নেই তার। একা একা নয়, সঙ্গী-সাথী নিয়ে থাকতে পছন্দ করেন কিম জং-উন। সব সময় তার চারপাশে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়ে থাকতে পছন্দ করেন।তিনি পর্ক খেতে চাইলে আনানো হয় সুদূর ডেনমার্ক থেকে। আর ইরান থেকে আসে প্রিয় খাদ্য ক্যাভিয়ার। বিফ খেলে আনানো হয় জাপান থেকে।নিজের খাওয়ার পিছনে ঠিক কী পরিমাণ অর্থ খরচ করেন, তার প্রকৃত অঙ্কটা এখনো অজানাই। তবে, সেটা যে মাসে কয়েক মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।কিমের একেকটি সিগারেটের প্যাকেটের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০০০ টাকা।বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময়, হেঁয়ালি এবং অনিশ্চিত একজন ব্যক্তি কিম। সময়র সাথে সাথে কিম জং উনের রহস্যময়তা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।



