অন্যান্য


মাটি খুঁড়তে না খুঁড়তেই গুপ্তধনের দেখা!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৬ মার্চ ২০২৩, ০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার

মাটি খুঁড়তে না খুঁড়তেই গুপ্তধনের দেখা!

মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এলো গুপ্তধন! আমস্টারডামের রোকিন মেট্রোস্টেশনে দেখা মিলবে এই গুপ্তধনের। 
 
প্রায় ২০ বছর আগে খোঁজ পাওয়া এই গুপ্তধনের উদ্ধারকার্য সম্পূর্ণ করতেই লেগে গিয়েছিল টানা ১৫'টি বছর।

২০০৩ সালে আমস্টেল নদীর দুই প্রান্তকে সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যে, একটি বিশেষ মেট্রোলাইন তৈরীর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাটি খননের কাজে নেমেও পড়েছিলেন কর্মীরা। 

তবে কাজ শুরু করার প্রাথমিক পর্যায়েই, মাটির গভীরে কিছু একটার হদীস পেয়ে বিচলিত হয়ে যান তারা। এরপরে উৎসুক কর্মীরা মাটি সড়াতেই সন্ধান পেতে থাকেন একের পর এক প্রত্নসামগ্রীর। একথা প্রশাসনের কান পর্যন্ত গড়াতেও বেশী একটা সময় লাগল না।

এরপরে প্রযুক্তিবিদসহ প্রত্নতাত্ত্বিকরা সকলেই সেই স্থানে হাজির হয়ে যান। গঠন করা হয় বিশেষ একটি দল। সবার তখন একটাই উদ্দেশ্য মাটির নিচের সেই রহস্য উৎঘাটন করা।

মাটির প্রায় ৩০ কিলোমিটার গভীর থেকে এসব প্রত্নসামগ্রী সংগ্রহ করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। প্রথমে মাটি কাটার যন্ত্রের সাহায্যে সুরঙ্গপথ তৈরি করে উত্তোলন করা হয়েছিল নরম মাটি। এরপর সেই মাটিগুলোকে পরিষ্কার করে ধীরে ধীরে বের করে আনা হয় প্রত্নসামগ্রী গুলো।
 
তবে এই পদ্ধতি এত কঠিন ছিল, যে প্রত্নসামগ্রী উদ্ধারের জন্যে যেই সাড়ে ৪ কিলোমিটার পথ তৈরী করতে হয়েছিল তাতেই সময় লেগে গিয়েছিল টানা ১৫ বছর। অবশেষে বহু বছরের প্রচেষ্টায় প্রায় ১০ হাজারের মতো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল।
 
এসব নিদর্শন গুলোর মধ্য অন্যতম আকর্ষণীয় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হচ্ছে ১ লক্ষেরও বেশি বছরের পুরানো ঝিনুকের খোলস, এবং ৫০০ বছরের পুরানো কিছু মুদ্রা। এসব ছাড়াও আরো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পাওয়া গেছে হাজার হাজার বছর আগের মানুষের তৈরী বর্ম,রৌপ্য, তলোয়ার,ছোট মূর্তি, বন্য প্রাণীর হাড় ইত্যাদি।

শুধুমাত্র এসব প্রত্নসামগ্রী সংগ্রহের স্বার্থে আমস্টারডামের উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোলাইনের নির্মাণ কাজ শেষ হতে ১৫'টি বছর লেগেছিল । ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চলতে থাকা এই নির্মাণ কাজে, উলটো পরিমানের চাইতে দ্বিগুণ খরচ গুনতে হয়েছে। এরজন্য ভোগান্তির শিকারও হয়েছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। 

তবে এত পরিশ্রম বিফলে যেতে দেননি আমস্টারডাম প্রশাসন। ঐতিহাসিক গুরত্ব বহনকারী এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে রোকিন স্টেশনকে সাজানো হয়েছে বিশেষ রূপে। 

মেট্রো প্ল্যাটফর্মের ওঠানামার দুই সিঁড়ির মাঝে করা একটি কাঁচের ঘরে দেখা মিলবে এসব প্রত্নসামগ্রীর। যা এই শহরের ' ভূগর্ভস্থ প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর ' হিসেবেও বেশ পরিচিত। 

রোকিন স্টেশনে সংরক্ষিত এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখে দর্শনার্থীদের মনে শুধু একটি প্রশ্নই উঁকি দেয়, শত শত বছরের পুরানো এসমস্ত জিনিস মাটির নিচে কী করে আসলো? 

মূলত আমস্টেল নদী সময়ের সঙ্গে তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে। বহুযুগ ধরে প্রবাহিত এই নদীর মাধ্যমেই রোকিন এলাকাতে এই প্রত্নসামগ্রী গুলো ভেসে এসেছিল। পরবর্তীতে পলি জমতে জমতে এসব নিদর্শনগুলো এখানকার মাটিতেই আটকা পড়ে যায়।

তবে মাটির নিচে যে শুধুমাত্র শত শত বছরের পুরানো জিনিসপত্রই পাওয়া গেছে তা কিন্তু নয়। সেই সাথে পাওয়া গেছে কয়েক দশকের পুরানো আধুনিক জিনিসপত্রও। 

যেমন মোবাইল ফোন,ক্যালকুলেটর,চুরুটের পাইপসহ আরো অনেক কিছু। এতটা সল্প সময়ে এসব আধুনিক জিনিসপত্র কিভাবে মাটির এত গভীরে গেল তা নিয়ে বেশ চিন্তায় আছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। আমস্টারডামের মাটি ধীরে ধীরে ধসে যাওয়ার ফলেই এমনটা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবার, মাটির ধসের বিষয়ে অনেকে দ্বিমতও পোষণ করেছেন। তাদের দাবী অনুযায়ী, উনিশ এবং বিশ শতকের দিকে আমস্টেল নদীতে বর্জ্য ফেলা হতো, যার কারণেই এই এলাকাতে এসব আধুনিক জিনিসপত্র পাওয়া গেছে।


তবে এসব তর্ক বিতর্কের বাহিরে বর্তমানে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে রোকিন স্টেশনের জাদুঘরটি। সেই সাথে এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে প্রতিদিন ভীড় জমাচ্ছেন হাজারো পর্যটক।







জনপ্রিয়


অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন

আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের বীমা খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত ‘IDRA Insurance Excellence Award 2025’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দারাজে শুরু হলো ২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও ঝামেলাহীন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে বাংলাদেশে শুরু হলো দারাজের বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মাসব্যাপী আয়োজন, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প

ঐতিহ্যবাহী ফুড এন্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল-২০২৪ এর বিশেষ আয়োজন রাঙ্গামাটিতে

০১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি।

ইন্ট্রা ডিএস ফুটসালে টানা তৃতীয়বারে মতো চ্যাম্পিয়ন “ডিএস'২০ ব্যাচ”

এ নিয়ে তিনবারের আসরে টানা তিনবারেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো তাহসিন সাদাতের দল।