রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য খরচ করা হয় কোটি কোটি অর্থ। যখন তারা অন্য দেশে যান, তখন প্রথমেই মাথায় রাখতে হয় তাদের সুরক্ষার বিষয়টি।
তাই যে কোনো বিমানে উঠে বিদেশ সফরে যেতে পারেন না তারা। তাদের জন্য প্রস্তুত থাকে বিশেষ বিমান।
চীনের চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর জন্য নির্মিত বিমান বোয়িং ৭৪৭-৪০০। প্রেসিডেন্টের সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত বিমানেই চলাফেরা করতে পারেন সাধারণ মানুষও।
কারণ প্রতিবার প্রেসিডেন্টের যাত্রা শেষ হলেই এটি পুনরায় চলে যায় চীনের রেগুলার এয়ারলাইনের জিম্মায়।
ঘন্টায় ৯৮২ কিলোমিটার গতিবেগে চলা বিমানটি বানাতে খরচ হয়েছে আনুমানিক ২৫ কোটি ডলার। যেখানে ৪১৬ জন যাত্রী এক সঙ্গে বসতে পারেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য তৈরি থাকে এয়ারফোর্স-১ বিমান।
এর কাজই হচ্ছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ও তার সফর সঙ্গীকে বহন করা। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিমান হিসেবে বিবেচিত।
বিমানটিতে মোট চারটি ইঞ্জিন রয়েছে। যার মাধ্যমে প্লেনটি ঘন্টায় প্রায় ৭০০ মাইল বেগে চলতে সক্ষম।
এতে রয়েছে উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি ভরার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
এর মধ্যে অবস্থানের সময় হোয়াইট হাউসকে যে কোনো কমান্ড দিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ারবাস এ৩৩০-২০০। যা বানাতে খরচ হয়েছে আনুমানিক ২৭ কোটি ডলার।
সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯১৩ কিলোমিটার এবং যাত্রী নেওয়ার ক্ষমতা ২৫৩ জন।
বিশাল আকৃতির এই বিমানেই প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত রান্নাঘর, বেডরুম আছে। তাছাড়াও একান্তে সময় কাটানোর জন্য আছে বিশেষ জায়গা।
জার্মানির প্রেসিডেন্টের অতিকায় বিমান এয়ারবাস এ৩৪০-৩১৩এক্স ভিআইপি।
কনরাড অ্যাডেনর নামের এই বিমান বানাতে খরচ হয়েছে আনুমানিক ৩০ কোটি ডলার। যার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯১২ কিলোমিটার।
বিলাসিতায় মোড়ানো এই বিমানে আছে সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা। আছে জ্বালানীর অতিরিক্ত ট্যাঙ্ক।
জরুরি প্রয়োজনে উড়ন্ত হাসপাতালে পরিণত হতে পারে এটি। এ ছাড়া জার্মান চ্যান্সেলরের বিলাসিতা এবং সুরক্ষার সমস্ত ব্যবস্থাই আছে।
বর্তমানে আলোচিত প্রেসিডেন্ট পুতিনের ব্যক্তিগত বিমানটির নাম‘ ফ্লায়িং ক্রেমলিন ’। যার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০০ কিলোমিটার।
৪ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিমানটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের এয়ারফোর্স ওয়ানের চেয়ে বেশি গতিসম্পন্ন।
নিও-ক্লাসিক্যাল স্টাইলে তৈরি বিমানটির কনফারেন্স কক্ষের টেবিলটিও সোনায় মোড়ানো। রয়েছে বিলাসীতার যাবতীয় সুবিধা।
এছাড়াও বিমানটিতে এন্টি মিসাইল প্রটেকশন রয়েছে। এতে রয়েছেন দু’জন ক্রু সদস্য।
একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কমান্ড সেন্টারও রয়েছে। এই কমান্ড সেন্টার থেকে সেনাবাহিনীকে পরিচালনা করা যায়।
ফলে বিমান ভ্রমণ থেকেও যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
মজার ব্যাপার হচ্ছে বিমানের টয়লেটটিও সোনার পাতে মোড়ানো। বাদ পড়েনি বাথরুমের সিঙ্কটিও। বাথটাবটির দামই ৫০ হাজার পাউন্ড।
আছে জিম এবং বিরাট সাইজের পালঙ্কও। বিমানের প্রতিটি কোনায় চোখে পড়ে আভিজাত্য।
বিমানের একটি কক্ষের পেছনেই ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ১৩ লাখ পাউন্ড।
কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্টের অতিকায় বিমান এয়ারবাস এ৩৩০-২৪৩ প্রেস্টিজ।
ঘণ্টায় প্রায় এক হাজার কিলোমিটার গতিবেগে ছুটে চলা বিমানটি বানাতে খরচ পড়েছে আনুমানিক ২৫ কোটি ডলার।
একসঙ্গে ৫০ জন যাত্রীকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে এই বিমান। তাছাড়া এই বিমানে চিকিৎসার যাবতীয় উপকরণ মজুদ আছে প্রেসিডেন্টের জন্য।
জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্টের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকে বোয়িং ৭৬৭-২০০ইআর বিমান। অত্যাধুনিক এই বিমান বানাতে খরচ হয়েছে আনুমানিক ২৫ কোটি ডলার।
জিম্বাবুয়ে আফ্রিকার দরিদ্র দেশ হওয়া সত্বেও বিলাসবহুল এই বিমান রয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের জন্য। যেখানে সব মিলিয়ে ৪০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে।
ভিআইপি বিমান এয়ারবাস এ৩৩০। যা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকে।
সাধারণত বিদেশ সফরে বিশেষ সিকিউরিটি সম্পন্ন এই বিমান ব্যবহার করেন তিনি।
ঘণ্টায় ৬৬৭ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলা বিমানটির। একসঙ্গে ১৫৮ জন যাত্রী বহন করার ক্ষমতা আছে।