অন্যান্য


ত্বকের নিচে বসবে মোবাইল ডিভাইস, চার্জ দেবে শরীর


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৯ মার্চ ২০২৩, ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

ত্বকের নিচে বসবে মোবাইল ডিভাইস, চার্জ দেবে শরীর

ত্বকের নিচেই বসবে মোবাইল ডিভাইস, চার্জ দেবে শরীর— সামনের দিনে আসতে চলেছে এমনই তাক লাগানো আবিস্কার। 

শুধু তাই নয়, এমন দিনও নাকি আসছে, যেদিন যেখানে থাকবে না কোনো স্মার্টফোন।  মানুষ তার ফোনটি রিসিভ করে আর কানে তুলবে না, বা কোনো প্রয়োজনে কথা বলার জন্য কাউকে আর ফোন করবে না। 

যখন প্রয়োজন হবে মোবাইলে কথা বলার, শুধু ইচ্ছা পোষণ করবে আর সেই ব্যক্তির কাছে চলে যাবে কল। আবার কল আসলেও সরাসরি কল রিসিভ করে কানে ফোন ধরে রেখে কথা বলা লাগবে না। 

এমন দিন আর খুব বেশি দূরে নয়— এমনটি মনে করছেন মোবাইল ফোনের জনক আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ার ও আবিষ্কারক মার্টিন কুপার। গত কয়েকদিন আগে জনপ্রিয় একটি সংবাদ মাধ্যমে একটি ইন্টারভিউতে এমন তথ্য প্রকাশ করেন তিনি। 

মার্টিন কুপার মনে করেন, ভবিষ্যতে এমন দিন আসতে যাচ্ছে, যেখানে দেখা যাবে, মানুষের কানের নিচে সংযুক্ত থাকবে ফোনের ডিভাইস, যার মাধ্যমে কথা বলা ও শোনা যাবে। 

এমনকি মোবাইল চার্জ করা, যা এখনকার সময়ের সব থেকে বিরক্তিকর কাজ; সেটিও করার প্রয়োজন হবে না। এটি মানুষের শরীর থেকেই চার্জ করে নেওয়া যাবে। 

মোবাইলের এই আবিষ্কারক বলেন, ‘‘মানুষের শরীরই হতে পারে একটি পারফেক্ট চার্জার। আমরা যখন খাবার খাই তখন সেই খাবার থেকে শরীরে শক্তি উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়াটাকেই বিজ্ঞানীরা হয়ত কাজে লাগাতে পারে।’’ 

শরীরে উৎপন্ন হওয়া শক্তিটাকে পরিবর্তন করে ওই ডিভাইসটি চার্জ করে নেওয়া যাবে, তাছাড়া ছোট ওই ডিভাইস চালাতে খুব বেশি শক্তির প্রয়োজন হবে না।

এই আবিষ্কারকের মতে, ‘‘তার জেনারেশনের মানুষ মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য এক সময়ে খুব সংগ্রাম করেছে। বিশাল বিশাল আকৃতির মোবাইল ব্যবহার করা এক সময় আসলেই খুব কষ্টসাধ্য ছিলো।’’ 

‘‘ধীরে ধীরে গত ৫০ বছরে মোবাইল ফোনের ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, এখন মানুষ চাইলেই মোবাইল ফোন পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারে।’’ 
 
তবে তথ্য- প্রযুক্তির যেভাবে বিপ্লব ঘটছে, তাতে আগামী প্রজন্ম এমনকি খুব শীঘ্রই এমনটি হতে পারে, যেখানে থাকবে না কোনো আসল ডিভাইস। মানুষ চাইলেই যোগাযোগ করতে পারবে ইচ্ছামত। 

কুপারের এমন বক্তব্যের কারণে স্বাভাবিকভাবে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, ভবিষ্যতে মোবাইল ফোনে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। মানুষের শরীরে বসতে পারে শক্তিশালী ক্ষমতা সম্পন্ন সেন্সর। 

ইতোমধ্যে কম্পিউটারকে মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ইলন মাস্কের নিউরোলিংকের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে দিয়েছে।

মার্টিন কুপার বলেন, ‘‘বর্তমানে স্মার্টফোনগুলোতে অনেক অ্যাপ্লিকেশন থাকার ফলে এটি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। আমি যখন ফোনে কথা বলি তখন এতে কোনো ইয়ারপিস থাকে না, তাই এত বড় স্ক্রিনের একটা বস্তু হাতে নিয়ে কানের সঙ্গে লাগিয়ে কথা বলতে হয়, যা অস্বস্তিকর।’’

কুপার আরও বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে মানুষ সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে।’’

১৯৭৩ সালে প্রথম মোবাইল ফোন উদ্ভাবন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে নতুন বিপ্লব নিয়ে আসেন মার্টিন কুপার। তখন তিনি মটোরোলা কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মার্টিন কুপার এবং তার দল প্রথম হাতে-ধরা ফোনের প্রোটোটাইপটি উপস্থাপন করেছিলেন ১৯৭৩ সালের এপ্রিল মাসে, নিউইয়র্কের হিলটন হোটেলে। সেটা কিন্তু দেখতে ছিল একেবারেই অন্যরকম। সায়েন্স ফিকশনের কমিউনিকেটর বা এ যুগের মোবাইলের সাথে তার কোন মিলই ছিল না সেই ফোনের। 

সেই প্রথম মোবাইল ফোন ছিল ১০ ইঞ্চি লম্বা, দু’ ইঞ্চি চওড়া, এবং ৪ ইঞ্চি উঁচু। জিনিসটা ছিল অনেক ভারি। ওজন ছিলো এক কিলোরও বেশি। মাত্র ২০ মিনিট কথা বললেই তার ব্যাটারি শেষ হয়ে যেতো। আর কালের পরিক্রমায় আজকের ভিডিওটিও হয়তো দেখছেন আপনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই। 





জনপ্রিয়


অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন

আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের বীমা খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত ‘IDRA Insurance Excellence Award 2025’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দারাজে শুরু হলো ২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও ঝামেলাহীন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে বাংলাদেশে শুরু হলো দারাজের বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মাসব্যাপী আয়োজন, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প

ঐতিহ্যবাহী ফুড এন্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল-২০২৪ এর বিশেষ আয়োজন রাঙ্গামাটিতে

০১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি।

ইন্ট্রা ডিএস ফুটসালে টানা তৃতীয়বারে মতো চ্যাম্পিয়ন “ডিএস'২০ ব্যাচ”

এ নিয়ে তিনবারের আসরে টানা তিনবারেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো তাহসিন সাদাতের দল।