আকর্ষনীয় ও রহস্যেঘেরা একটি পর্যটন স্থান হলো খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহা। যে গুহায় দিনের বেলায় সূর্যের আলো পৌঁছোয় না।
টর্চ অথবা মশাল ছাড়া ভেতরে ঢুকতেই পারে না কোনো মানুষ। আবার এ গুহায় একবার ঢুকে পড়লে, গুহার অন্য প্রান্তের মুখে পৌঁছনো বা বের হওয়াও বেশ কঠিন।
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে খাগড়াছড়ি শহর থেকে মোটামুটি ৭ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এ জেলার সবথেকে উঁচু পর্বত আলুটিলা।
এটিকে টিলা বলে ডাকা হয় ঠিকই, তা সত্ত্বেও পর্বতের বিশালতা, সৌন্দর্য মুগ্ধ করে যে কোনো মানুষকে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে মিল রেখে এখানে পাহাড়ের ধাপ কেটে তৈরি করা হয়েছে সিঁড়ি। রয়েছে সুদৃশ্য বসার জায়গা।
আলুটিলা থেকে সম্পূর্ণ খাগড়াছড়ি শহর দেখা যায়। আলুটিলার একটি অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে রহস্যময় গুহা।
আলুটিলা পাহাড়ের চূঁড়া থেকে ২৬৬টি সিঁড়ি বেঁয়ে নিচে নামলে তবেই দেখা যায় সেই স্বপ্নীল সুড়ঙ্গমুখ।
এটি ঘন অরণ্যে ঘেরা। স্থানীয় লোকেদের কাছে ৩৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের এ গুহাটি 'মাতাই হাকড়’ বা ‘দেবতার গুহা’ নামে পরিচিত।
খাগড়াছড়ি সদর থেকে আলুটিলা গুহা যাওয়ার পথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রকৃতির নানা অপরূপ দৃশ্য।
গুহাটিতে প্রবেশের আগেই আশপাশের সেসব পাহাড়ি মনোরম পরিবেশ আপনার মনকে আনন্দে ভরিয়ে তুলতে পারে।
গুহায় ঢুকতে গেলে মূল ফটক থেকে টিকিট কেটে নিতে হয়। তারপর খানিকটা পাহাড়ি রাস্তা হাঁটলে তবে গুহার মুখে পৌঁছনো যাবে।
এ গুহায় কোন প্রকার সূর্যের আলো প্রবেশ করে না বলে টর্চের আলো বা মশাল নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়।
তাই ভিতরে ঢোকার আগে সংগ্রহ করে নিতে হবে মশাল কিংবা মাথায় হেডলাইট লাগানো টুপি। এগুলো না থাকলে অবশ্য মোবাইল ফোনের টর্চ দিয়েও কাজ চালানো যায়।
নিচ দিয়ে একটা ঝরনা বয়ে গিয়েছে, তাই সাবধানে হাঁটতে হয়। পা পিছলে যায়, এমন কোনো জুতো পরা যাবে না।
অনেকটা সুড়ঙ্গের মতো এই গুহার ভিতরটা ঘুটঘুট্টি অন্ধকার। তবে, কোনো ক্ষতিকর জীবজন্তুর ভয় এখানে নেই।
কিন্তু, সূর্যের আলো পৌঁছতে পারে না বলে রহস্যময় হয়ে থাকে এই গুহা। ভিতর দিয়ে খানিকটা যাওয়ার পর দেখা যাবে, দু’দিকে দুটো রাস্তা চলে গিয়েছে।
তার মধ্যে একটি রাস্তা বন্ধ। পর্যটকরা অনেক সময়ে বন্ধ রাস্তাতেও একবার ঘুরে আসেন। গুহার উচ্চতা অনেক জায়গাতেই খুব কম, তাই মাথা নিচু করে যেতে হয়।
সোজা রাস্তাটি ধরে হাঁটলে গুহার অন্য প্রান্তে পৌঁছনো যাবে। গুহাটির এপাশ দিয়ে ঢুকে ওপাশ দিয়ে বের হতে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে।
সব মিলিয়ে গুহার মধ্যে ভ্রমণের রোমাঞ্চ এবং চারদিকের অপরূপ প্রকৃতি যে কোনো মানুষকে বাকরুদ্ধ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
অ্যাডভেঞ্চার ও ভ্রমন পিপাসুদের জীবনে অন্তত একবার হলেও ঘুরে আসা উচিত আলুটিলা গুহাটি।
প্রসঙ্গত, গুহাটি দেখতে প্রতিদিনই কয়েক শত পর্যটক আসেন। পর্যটকদের কেউ কেউ গুহার ভিতরে মশাল এবং অন্যান্য জিনিস ফেলে নোংরা করে।
ফলে পর্যটকদের ব্যবহৃত মশালসহ নানা আবর্জনায় সৌন্দর্য হারাচ্ছে গুহাটি। এতে ওই এলাকার পরিবেশও দূষণের শিকার হচ্ছে।
এখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশকে ধরে রাখার জন্য পর্যটক ও কর্তৃপক্ষের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সচেতন না হলে মশালের আগুনে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।