কেমন হয় যদি ঘরের কাজের জন্যই গৃহিণীকে অর্থ প্রদান করার আদেশ দেয়া হয়!
অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাপারটিকে হয়ত অতিরঞ্জিত ভাবতে পারেন আপনি।কিন্তু বাস্তবেও এমন অর্থ প্রদান করার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে স্পেনের এর আদালতের কল্যাণে।
ঘরের কাজের ও যে একটি মূল্য আছে, সেটিকেই যেন নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলো স্পেনের ওই আদালত। শুধু ঘরের কাজই না, সন্তান প্রতিপালনের জন্যেও ওই ঘরণীকে দিতে হচ্ছে অর্থ।
সাবেক স্ত্রী কে ২৫ বছরের বিনা মজুরির কাজ করানোর জন্য, সেই টাকা একবারে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।মূলত বিয়ের সময়ে করা স্বামী ও স্ত্রীর চুক্তির জেরেই, এমন মোটা অঙ্কের জরিমানা গুণতে হচ্ছে স্বামীকে।
গৃহস্থালির কাজ করানোর মূল্য হিসেবে তাঁর সাবেক স্ত্রীকে, প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার ৬২৪ ইউরো বা ২ কোটি ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ১২৬ টাকা বা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।ওই দম্পত্তির বিয়ে হয় ১৯৯৫ সালে। পারিবারিক জীবনে দুই কন্যাসন্তানের পিতামাতা তারা।
যখন বিয়ে হয় বিয়ের সময় থেকেই তাঁদের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল, প্রত্যেককে নিজেদের আয় করে চলতে হবে।
এরপর বিয়ের পর থেকেই ওই ব্যক্তির স্ত্রী নিজেকে ঘরের কাজে উৎসর্গ করেছিলেন। সংসারের সবকিছু তিনি একাই দেখাশোনা করতেন।
সাথে আবার স্ত্রীকে ওই স্বামী বাইরে কাজ করার অনুমতি দেননি কখনো এবং বছরের পর বছর ,সেই স্বামীর অর্জিত অর্থ বা সম্পদের কোনো অংশ স্ত্রীকে দেননি।
তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ২০২০ সালে।
পরে ১৯৯৫ সালের জুন থেকে ২০২০ সালে বিচ্ছেদ পর্যন্ত প্রতিবছর তিনি কী পরিমাণ আয় করতে পারতেন, তার একটি হিসাব দেখানো হয়েছে আইনি নথিপত্রে।
২৫ বছরের মজুরি পরিশোধের পাশাপাশি, সন্তান লালন–পালনের জন্য সাবেক স্ত্রীকে, মাসিক ভাতা দেওয়ার জন্য ওই ব্যক্তিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাঁদের দুই সন্তানের মধ্যে একজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি, আরেকজন নাবালক।
একটি রেডিওকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়, নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নারী বলেন, তাঁর স্বামী তাঁকে ‘ঘরের বাইরে’ কখনও কাজ করতে দিতেন না।
যদিও স্বামী তাঁকে, নিজের মালিকানাধীন জিমে কাজ করতে দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছিলেন। কিন্তু তার জন্য কোনো পারিশ্রমিক তিনি পান নি।
তিনি আরও বলেন, নিজেকে গৃহকর্মে একেবারে নিয়োজিত করে রেখেছিলেন এবং তিনি তার স্বামী ও ঘরবাড়ি দেখাশোনা করেছেন। তাছাড়া সেই স্বামী ও তাকে ঘরের কাজ করতে বাধ্য করেছিলো।
আদালতের নথি থেকে দেখা যায়, সর্বনিম্ন মজুরির ভিত্তিতে আদালত এই মূল্য নির্ধারণ করেছেন।
স্পেনের দক্ষিণ আন্দালুসিয়া অঞ্চলের একটি আদালত রুলসহ এই নির্দেশ দেন।
এর আগে ২০২১ সালে, ঘরের কাজের জন্য স্ত্রীকে টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছিলো চীনের একটি আদালত।
সে সময় পাঁচ বছর বিনা বেতনে ঘরের কাজ করার ক্ষতিপূরণ হিসেবে, চীনা মুদ্রায় ওই নারীকে, ৫০ হাজার ইউয়ান যা বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায়, ৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দেয় আদালত।
২০১৫ সালে বিয়ে হয় ওই দুই দম্পত্তি চেন এবং ওয়াং এর। পাঁচ বছর সংসার করার পর ২০২০ সালে স্ত্রী ওয়াংকে তালাক দেন স্বামী চেন।
তবে তালাকের বিষয়টি মানতে পারছিলেন না স্ত্রী। শেষ পর্যন্ত তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।