বাবার বয়স মাত্র তের, আর মায়ের বয়স একত্রিশ! আমেরিকার কলোরাডো প্রদেশের এমনই এক ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গত বছর।
এ ঘটনার পর যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে ওই নারীর বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হন কিশোরের মা। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম আন্দ্রেয়া সেরানো। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ওই কিশোরের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাঁর সাথে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।
সেই সাথে কিশোরটির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁর উপর মানসিক ও শারিরীক যৌন নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে ওই নারীকে ২০২২ সালের জুন মাসে গ্রেফতারও করে পুলিশ। এরপর অবশ্য সবকিছু স্বীকার করে নেন আন্দ্রেয়া। তবে গ্রেফতারের পর জানা যায় তিনি অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়েছেন। তারপর জেলেই জন্ম দেন ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের।
আমেরিকার আইন অনুসারে, এমন ঘৃণিত কাজের জন্য ওই নারীর দশ বছরের কারাদন্ড হওয়ার কথা থাকলেও তিনি বর্তমানে হাজতবাস করছেন না। বরং দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
মূলত আন্দ্রেয়ার আইনজীবীই তাঁকে বন্দীদশা থেকে রেহাই পেতে সাহায্য করেছেন। আদালতে আইনজীবী তাঁর মক্কেলের সব দোষ স্বীকার করে নেন এবং মাতৃত্ব বিবেচনায় তাঁকে কারাগারে না পাঠানোর জন্য আবেদন জানান।
বিচারক সেই আরজি আমলে নিয়ে শুধুমাত্র মাতৃত্ব বিবেচনায় এনে, তাঁকে জেলের বাইরে থাকার অনুমতি দেন। সেই সাথে তাঁকে যৌন অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করেছে আদালত।
তবে জামিনের আগে ওই কিশোরের পরিবারকে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয় আন্দ্রেয়াকে।
আদালতের এই রায়ে আন্দ্রেয়া খুশি থাকলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ছেলেটির মা। তিনি বলছেন, তাঁর কাছে মনে হচ্ছে তাঁর সন্তানের শৈশব কেড়ে নিয়ে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর ছেলে এখানে ভুক্তভোগী এবং এই বিষয়টি মেনে নিয়েই তাকে বাকি জীবন পার করতে হবে।
ভিক্টিম কিশোরের মা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, এই মামলায় অভিযুক্ত যদি ছেলে হতো, আর ভুক্তভোগী যদি মেয়ে হতো, তাহলে অভিযুক্তকে অবশ্যই কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হতো। তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে, যদি আমার ছেলে কোনো কিশোরী হতো এবং অভিযুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হতো তবে শাস্তি অবশ্যই ভিন্ন হতো।’
ছেলেটির বর্তমান বয়স ১৪। আন্দ্রেয়াকে কিশোরটি মা বলে ডাকতো। তবে ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, কথিত সেই মায়ের দ্বারাই যৌন হেনস্তার শিকার হতে হলো কিশোরটিকে মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে।
নবজাতক শিশুটি বর্তমানে মায়ের কাছে আছে। ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ফাউন্টেন শহরে সে লালিত পালিত হচ্ছে।
আমেরিকার যৌন নিপীড়ন বিরোধী সংস্থা Rape, Abuse & Incest National Network-এর গবেষণায় জানা যায়, প্রতি ৬৮ সেকেন্ডে একজন আমেরিকান যৌন নিপীড়নের শিকার হন। যেখানে ৫৪ শতাংশ ভুক্তভোগীর বয়সই ১২-৩৪ বছরে নিচে।
Rape, Abuse & Incest National Network-এর তথ্যানুযায়ী, আমেরিকাতে প্রতি ৩৩ জনের একজন পুরুষ তাঁদের জীবদ্দশায় হয় যৌন নির্যতনের শিকার হয়েছেন অথবা নারী কর্তৃক ধর্ষিত হয়েছেন। গবেষণা আরও বলছে প্রতি ১০ টি যৌন নির্যাতনের কেস অন্তত ১ টি কেইস থাকেই যেখানে পুরুষ নারী দ্বারা ধর্ষিত হন।
Source Link: