বাসে চেপে দিল্লি থেকে লন্ডন ঘুরতে যেতে পারবেন ভ্রমণকারীরা। ভারতের দিল্লি থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের দূরত্ব প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার।এই দীর্ঘ রাস্তা পাড়ি দিতে গিয়ে পথে পড়বে ১৮টি দেশ আর সময় লাগবে ৭০ দিন।এতে মাথাপিছু খরচ পড়বে ১৫ লক্ষ টাকা। তবে সব টাকা একসাথে দিতে হবে না যাত্রীকে। কিস্তিতে ভেঙে ভেঙে টাকা পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন তারা।
দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে প্রথমে মায়ানমার পৌঁছবে বাস। তার পর তাইল্যান্ড, লাওস, চিন, কিরঘিজস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, রাশিয়া, লাতভিয়া, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম এবং ফ্রান্স হয়ে পৌঁছবে লন্ডন।
এই রাজকীয় সফরের জন্য প্রয়োজন হবে ১০টি দেশের ভিসা। যদিও, যাত্রীদের ভিসা-সহ বিদেশ ভ্রমণের জন্য যাবতীয় জরুরি নথির ব্যবস্থা করে দেবে
বাস পরিসেবা চালুর সংস্থা। অত্যাধুনিক সুবিধাযুক্ত এই বাসে ২০টি আসন থাকবে। প্রতি যাত্রীর জন্য আলাদা আলাদা কেবিনের ব্যবস্থা থাকবে।
প্রতিটি সিটে বিনোদনের জন্য ডিজিটাল ডিসপ্লে, ল্যাপটপ, মোবাইল চার্জের জন্য আলাদা ব্যবস্থা, যাত্রীদের জন্য ব্যক্তিগত লকারসহ একাধিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছে ভারতের অ্যাডভেঞ্চার ওভারল্যান্ড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। দিল্লি থেকে এই বাস পরিষেবা চালু করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পরিকল্পনা মোতাবেক এখনও বাস সার্বিস চালু করতে পারে নি সংস্থাটি। জানা গেছে, ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত শান্ত থাকলে দ্রুত চালু হবে এই বাস পরিষেবা।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই বাস যাত্রার ঘটনা এবারেই প্রথম নয়। ১৯৫৭ সালে ব্রিটেনের একটি সংস্থা কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে লন্ডন পর্যন্ত বাস পরিষেবা চালু করেছিল। তখন ১৮টি দেশে যাতায়াত করতো ইন্ডিয়া ম্যানের বাস। ২০ জন যাত্রী নিয়ে প্রথম যাত্রা করে বাসটি।
লন্ডনের ভিক্টোরিয়া কোচ স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করতো যানটি। দূরত্বের দিক দিয়ে বাসের এই যাত্রাপথ যেমন বিস্ময়কর ছিল, তেমনি এর টিকিটের দামও কিন্তু কম ছিল না।লন্ডন থেকে কলকাতা যেতে যাত্রীদের গুনতে হতো ৮৫ পাউন্ড, আর ফিরতি পথের ভাড়া ছিল ৬৫ পাউন্ড।
ফ্রান্স, ইতালি, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, ইরান এবং পাকিস্তান হয়ে ভারতে প্রবেশ করতো ইন্ডিয়াম্যানের বাস।
দিনের বেলা বাসযাত্রা চললেও রাতের বেলা বাস থামত কোনো হোটেলে। হোটেল না পাওয়া গেলে যাত্রীরা তাবু খাঁটিয়ে ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হতো।
কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া, তীক্ষ্ণ বাঁকযুক্ত পথ, সেই সাথে পিচ্ছিল রাস্তা পাড়ি দেবার অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন যাত্রীরা।
কয়েক বছর পর বাসটি একটি দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। তখন থেকেই সেই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়।
পরে অন্য একটি বিদেশি সংস্থা সিডনি থেকে ভারত হয়ে লন্ডন পর্যন্ত অ্যালবার্ট নামে দোতলা বাস পরিষেবা চালু করে।
বাসটি লন্ডন থেকে কলকাতা পর্যন্ত ১৫ বার এবং লন্ডন থেকে সিডনি পর্যন্ত চারবার যাতায়াত করেছিল বলে জানা যায়।
ধারণা করা হয়, ইংল্যান্ড থেকে বেলজিয়াম হয়ে একে একে এই বাস পাড়ি দিত জার্মানি, অস্ট্রিয়া, যুগোস্লাভিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, ইরান এবং পশ্চিম পাকিস্তান।
ইন্ডিয়াতে প্রবেশের পর সর্বশেষ গন্তব্য কলকাতায় পৌঁছার আগে নয়াদিল্লি, আগ্রা, এলাহাবাদ ও বেনারস হয়ে তবেই আসত এই বাসটি।
এই বাসে করে লন্ডন থেকে কলকাতা আসতে যাত্রীদের খরচ হতো ১৪৫ পাউন্ড।
১৯৭৬ পর্যন্ত সেই পরিষেবা ঠিকঠাক চলেছিল। কিন্তু ইরানের রাজনৈতিক গোলযোগ এবং ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের মধ্যে টানাপড়েনের জেরে সেই পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আবারও হরিয়ানার একটি সংস্থা এই পরিষেবা চালু করতে চায়। তবে যে পথে ওই পরিষেবা চালু হয়েছিল, এ বার তার বদলে অন্য পথে বাস চালানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।