অন্যান্য


৩৭৫ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল অষ্টম মহাদেশ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৯ এপ্রিল ২০২৩, ১১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার

৩৭৫ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল অষ্টম মহাদেশ
৩৭৫ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল পৃথিবীর অষ্টম মহাদেশের! অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত ‘জিল্যান্ডিয়া’ নামের এ মহাদেশের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন ভূতাত্ত্বিকেরা। সমুদ্রতলে ম্যাপিং, পাথরের নমুনা বিশ্লেষণ ও টেকটোনিক প্লেটের ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষার পর ২০১৭ সালে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব জিওগ্রাফার এবং আমেরিকান জিওলজিক্যাল সোসাইটি মহাদেশটির অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে। 

এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপের মতো সুপরিচিত মহাদেশগুলোর মতো সাধারণ নয়, প্রায় ১৮ লাখ ৯০ হাজার বর্গমাইল আয়তনের এই মহাদেশ। বেশির ভাগ এলাকা পানিতে ডুবন্ত হলেও এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ছোট দ্বীপ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে কিছু স্থলভাগ রয়েছে। বিজ্ঞানীদের সন্ধান পাওয়া নতুন এই বিস্তৃত এলাকা লুকিয়ে আছে মহাসাগরের নিচে! নিউজিল্যান্ড এই মহাদেশের পানির ওপরে থাকা একমাত্র অংশ। বাকি সবটুকু রয়েছে পানির নিচে। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা এই ‘মহাদেশ’টির নাম দিয়েছেন ‘জিল্যান্ডিয়া’। আকারে এটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রায় সমান। 

বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, জিল্যান্ডিয়া দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই এই মহাদেশের নাম দেওয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ড ও ইন্ডিয়া দুই দেশ মিলিয়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিউজিল্যান্ড আসলে এই মহাদেশেরই জেগে থাকা অংশ। বলা যেতে পারে, এই মহাদেশের পর্বতচূড়া। 

জিওলজিক্যাল সোসাইটি অব আমেরিকায় প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানান, জিল্যান্ডিয়ার আয়তন ৫০ লাখ বর্গকিলোমিটার, যা পার্শ্ববর্তী অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান। কিন্তু জিল্যান্ডিয়ার প্রায় ৯৪ শতাংশই তলিয়ে আছে সাগরের পানিতে। মাত্র অল্প কিছু অঞ্চল পানির ওপর মাথা তুলে আছে, যেমন নিউজিল্যান্ডের নর্থ ও সাউথ আইল্যান্ড এবং নিউ ক্যালেডোনিয়া। 

আমেরিকান জিওলজিক্যাল সোসাইটির আগে ডাচ ব্যবসায়ী ও নাবিক আবেল তাসমান ১৬৪২ সালে প্রথম এই মহাদেশের অস্তিত্বের কথা জানান। তখন তিনি ‘দক্ষিণ মহাদেশ’ বা টেরা অস্ট্রালিস আবিষ্কারের নেশায় মরিয়া ছিলেন। তবে তেমন কোনো ভূখণ্ডের খোঁজ না পেয়ে একপর্যায়ে তিনি অবতরণ করেন নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণের এক দ্বীপে। সেখানে স্থানীয় আদিবাসী মাওরিদের সঙ্গে পরিচিত হন। মাওরিদের সঙ্গে কথা বলেই তিনি দ্বীপটির আশপাশের ভূমি সম্পর্কে অনেক মূল্যবান তথ্য জানতে পারেন। এরমধ্যে দ্বীপটির পূর্বদিকে পানিতে নিমজ্জিত বৃহৎ এই স্থলভাগের কথাও জানতে পারেন। 

মাওরিদের ভাষায় এটিকে ‘টে-রিউ-এ-মাউয়িই’ বলা হয়। এছাড়া আবেল তাসমানের নামের সঙ্গে মিলিয়ে জিল্যান্ডিয়াকে তাসমান্টিস নামেও ডাকা হয়। 


একইভাবে, ২০১৭ সালে জিল্যান্ড ক্রাউন রিসার্চ ইনস্টিটিউট জিএনএস সায়েন্সের ভূতাত্ত্বিকেরা মহাদেশটির অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হন। ভূতত্ত্ববিদ নিক মর্টিমার পুরো বিষয়টি নিয়ে সংগঠিত হওয়া গবেষণার নেতৃত্ব দেন। এই ভূতত্ত্ববিদ জানান, জিল্যান্ডিয়া এখন বিশ্বের অষ্টম মহাদেশ হিসেবে স্বীকৃত। তবে স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি এই গ্রহের অন্য মহাদেশগুলো থেকে আলাদা। মহাদেশটির বেশির ভাগ অংশই প্রায় ২ কিলোমিটার পানির নিচে ডুবন্ত। পানির এত গভীরে অবস্থান হওয়া সত্ত্বেও জিল্যান্ডিয়া গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। কারণ এই আবিষ্কার পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের ওপর আলোকপাত করে এবং ও যে শক্তিগুলো পৃথিবীকে বর্তমান আকৃতি দিয়েছে তার জানান দেয়। জিএনএস সায়েন্সের ভূতাত্ত্বিক অ্যান্ডি টুলোচ বলেন, ‘একটি স্পষ্ট বিষয় উন্মোচিত হতে কখনো কখনো যে অনেক সময় নিতে পারে, জিল্যান্ডিয়ার আবিষ্কার তার একটি উদাহরণ।’

বিজ্ঞানীদের ধারণা, জিল্যান্ডিয়া ৫০ কোটি বছর আগে গন্ডোয়ানা নামে একটি বৃহৎ মহাদেশের অংশ ছিল, এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা ও পূর্ব অস্ট্রেলিয়া। তবে বৃহৎ এই ভূখণ্ড গন্ডোয়ানা থেকে কীভাবে আলাদা হয়ে গেছে, তা আজও বুঝতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। গন্ডোয়ানা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ৮৩-৭৯ মিলিয়ন বছর আগে এটি পানিতে তলিয়ে যায়। 


জনপ্রিয়


অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন

আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের বীমা খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত ‘IDRA Insurance Excellence Award 2025’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দারাজে শুরু হলো ২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও ঝামেলাহীন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে বাংলাদেশে শুরু হলো দারাজের বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মাসব্যাপী আয়োজন, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প

ঐতিহ্যবাহী ফুড এন্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল-২০২৪ এর বিশেষ আয়োজন রাঙ্গামাটিতে

০১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি।

ইন্ট্রা ডিএস ফুটসালে টানা তৃতীয়বারে মতো চ্যাম্পিয়ন “ডিএস'২০ ব্যাচ”

এ নিয়ে তিনবারের আসরে টানা তিনবারেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো তাহসিন সাদাতের দল।