বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির বাড়ির ওপর থেকে কিন্তু কোন বিমান চলাচল করতে পারে না।এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন শুধুমাত্র এই খেলোয়াড়কেই এমন বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে?কারণ সংবেদনশীল এলাকাগুলোই মূলত 'নো ফ্লাই জোন'- এর আওতায় পড়ে থাকে।
যেমন বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, রাষ্ট্রপ্রধানদের বাড়ি, বা এমন কোন স্থান যা দেশের নিরাপত্তার সঙে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত।সেখানে এই তারকা খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম ঘটছে কেন?
বিশেষ করে, বেশ কয়েক বছর আগে স্প্যানিশ এয়ারলাইন 'ভুয়েলিং'-এর সভাপতি জাভিয়ের সানচেজ-প্রিয়োটোর একটি মন্তব্য, সাধারণ জনগণের মাঝে আলোচনার ঝড় তুলেছিল।তিনি জানিয়েছিলেন, বার্সেলোনার উপশহর গাভা ও কাস্টেলডেফেলসের পাশে, যেই এল প্রাত বিমানবন্দরটি রয়েছে, তার রানওয়ে প্রসারিত করার পরিকল্পনাটি, শুধুমাত্র মেসির জন্যই বাতিল করতে হয়েছে।
কারণ হিসেবে জানানো হয়েছিল, এই বিমানবন্দর থেকে মেসির বাড়ির দূরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার।
আর এতে করে মেসির যেন কোন রকমের সমস্যা না হয়, সেদিকটাতে নজর রাখতে গিয়েই দেশটির সরকার, এই তারকার বাড়ির উপর থেকে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন।সেইসঙে আরো জানা যায়, এই একটি মাত্র কারণে,এল প্রাত বিমানবন্দরে আসা বিমানগুলো, সরাসরি সেখানে ল্যান্ড করার অনুমতি পায় না।
ফলস্বরূপ বিমানগুলো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে, ভূমধ্যসাগরের উপর থেকে উড়ে এসেই, রানওয়েতে ল্যান্ড করে।ভুয়েলিংয়ের সভাপতি সানচেজের এমন মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হলে, দ্রুতই তা ছড়িয়ে যেতে থাকে।মেসির কারণেই এমনটা হচ্ছে জেনে নেটিজেনরাও বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
তাদের দাবী, মেসি একজন বিশ্বসেরা খেলোয়াড় হলেও, আর দশটা মানুষের মত তিনিও একজন সাধারণ জনগণ।মেসিকে এমন বিশেষ সুবিধা প্রদান করতে গিয়ে, অন্যদের অধিকার ক্ষুন্ন করার কাজটি একদমই সমীচীন নয়।
যদিও পরবর্তীতে জানা যায়, ভুয়েলিংয়ের সভাপতি, একেবারে ভুল ভাবেই তথ্যটি জনসম্মুখে উপস্থাপন করেছিলেন। আসলে, মেসির ম্যানশন বা বাড়িটি অবস্থিত রয়েছে, বার্সোনোলা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে, উপশহর গাভাতে।
আর এই এলাকাতেই রয়েছে, ন্যাচারাল দেল গ্যারাফ পার্কটি (NATURAL DEL GARRAF PARK)। যেখানে বিপন্নপ্রায় প্রাণী ও উদ্ভিদের বসবাস।মূলত এ কারণেই এলাকাটি, স্প্যানিশ সরকারের একেবারে কড়া নজরে থাকে। এসব বিপন্নপ্রায় প্রাণী কিংবা উদ্ভিদ'গুলোকে, বিভিন্ন বিপদ এবং শব্দ দূষণ থেকে রক্ষা করতে, এই এলাকার উপর থেকে, বিমান চলাচলের সমস্ত রুট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
যেহেতু মেসির বাড়িটি এই অঞ্চলেই অবস্থিত রয়েছে,তাই তার বাড়ির উপর থেকেও কোন বিমান চলাচল করতে পারে না।তবে এর মানে এই নয় যে, লিওনেল মেসি বড় ধরনের সেলিব্রিটি হওয়ায়, স্প্যানিশ সরকার তাকে বিশেষ সুবিধা দিতে গিয়ে, সাধারণ জনগণের অধিকার ক্ষুন্ন করছে।
বরং ন্যাচারাল দেল গ্যারাফ পার্কটির, প্রাণী ও পরিবেশকে রক্ষা করতেই, সরকারের এতসব নিষেধাজ্ঞা। মেসির মালিকানায় যতগুলো বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে, তারমধ্যে মেসির সবথেকে প্রিয়, এই কাস্টেলডেফেলস এলাকায় অবস্থিত বাড়িটিই।
২০০৯ সালে প্রায় ১৮ লক্ষ ইউরো ব্যয় করে, বাড়িটি কিনে নিয়েছিলেন তিনি। এরপরে প্রাচীন এই ভবনটির ভেতরের সাজসজ্জা আধুনিকরণে, আরও ৬০ লক্ষ ইউরো খরচ করেন মেসি।বার্সার মাঠ নু ক্যাম্প থেকে, ১২ মাইল দূরে অবস্থিত থাকা এই ভবনটিতে রয়েছে ইনডোর জিম, খেলার মাঠ, বিশাল আকৃতির সুইমিং পুল'সহ অত্যাধুনিক সব ব্যবস্থা।বাড়িটির সুপ্রশস্ত বারান্দা থেকে দেখা যায়, কাতালান পাহাড় ও ভূমধ্যসাগরের অপরূপ সব দৃশ্য।
মেসির সবথেকে প্রিয় বাড়িটি সত্যিকার অর্থে, একটি পরিবেশবান্ধব আবাসস্থল। বাড়ির ছাদ থেকে শরু করে চারপাশটা ছেঁয়ে আছে ঘন সবুজ ঘাসে।তার উপরে বাড়িটি ' নো ফ্লাই জোন ' এলাকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, অনেকটা না চাইতেই, রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা পেয়ে থাকেন মেসি।