অঢেল বিত্তের দেশ এশিয়ার ছোট্ট দেশ ব্রুনাই। দেশটির নাগরিকদের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরেই আছে নিম্নে তিনটি করে গাড়ি। প্রতি দুই জন নাগরিকের জন্য রয়েছে একটি করে গাড়ি। নাগরিকগণ বিপুল পরিমান আয়ের অধিকারি হলেও কাউকে কোনো ট্যাক্স দিতে হয় না। উপরন্তু সরকারের পক্ষ থেকে রয়েছে বিনামূল্যের অনেক উপহার। দেশটির এতো সম্পত্তির পেছনে রয়েছে অফুরন্ত তেল ও গ্যাস সম্পদ। প্রাচ্যের দেশ না হয়েও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেলের ভান্ডার মজুদ রয়েছে এই দেশে।
দেশটির সুলতান পরিবার হলো দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে পুরনো সুলতান পরিবার। প্রায় ৬০০ বছর ধরে এখনো পর্যন্ত এই সুলতানি পরিবারটি শাসন করে আসছে। গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুসারে, ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে ধনি ব্যক্তি ছিলেন দেশটির সুলতান। তবে এখনো এই সুলতানের নাম রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনিদের তালিকায়।
ব্রুনাই সুলতানের কাছে রয়েছে পাঁচ হাজার গাড়ির কালেকশন । যার মধ্যে ৬০৪ টি রুলস রয়েল, ৫৭৪ টি মার্সিটিজ, ৪৫২ টি ফেরারি, লম্বরগিন্নি, বিএমডাবলিউ সহ আরো বেশ কিছু ব্রান্ডের গাড়ি।
অবাক করা ব্যাপার হলো দেশটিতে পার্লামেন্ট রয়েছে কিন্তু সেই পার্লামেন্টে কোন নির্বাচন হয় না। ১৯৮৪ সালের স্বাধীনতার পর দেশটির সুলতান নির্বাচন হন
"হাসনাল বলিকিয়াহ"। আর এর পর দেশটিতে আর কখনো নির্বাচন হয়নি।
জুয়া খেলা দেশটিতে একটি অবৈধ কাজ । এমনকি দেশটিতে কথা বলতে গেলে অবশ্যই আঙ্গুল নিচে নামিয়ে কথা বলতে হবে। কেননা দেশটির লোকজন আঙুল তুলে কথা একদম পছন্দ করে না এটিকে তারা খরাপ লক্ষ্মণ বলে মনে করে ।
ব্রুনাইয়ে মদ পান করা তো অনেক দূরের বিষয়, এখানে মদ কেনা বা বিক্রি করাটাই একদম নিষিদ্ধ। এবং মুসলমানদের জন নিষিদ্ধ আছে "ক্রিসমাস " বা খ্রিস্টানদের 'বড় দিন ' উৎসব পালন করা। তবে যদি কেউ এই নিষেধ অমান্য করে তাহলে তাকে শাস্তি দেওয়া হয় পাঁচ বছরের জেল।
সম্পূর্ণ রুপে ইসলামিক শরিয়া অনুযায়ী কঠোর আইনের ব্যবস্তা রয়েছে দেশটিতে। এমনকি এখনো পুরোনো দিনের বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। নিয়ম অনুসারে দেশটিতে এখনো বেশ কিছু অপরাধের শাস্তি দেওয়া হয় বেতের আঘাতের মাধ্যমে।
দেশটিতে প্রতি বছর বিশাল অনুষ্ঠান করে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে পৃথিবীর যে কোন দেশের প্রতিযোগি।
দেশটির সুলতান ২৫০ ব্রুনাই ডলার দিয়ে থাকেন প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার হিসেবে। আর এই পুরুষ্কার কেবল একবার নয় । বরং সেই বিজয়ী এই পুরুষ্কার আজীবনের জন্য পেয়ে থাকেন স্কলারশিপ হিসেবে ।
তবে দেশটিতে আরেকটি নিয়ম রয়েছে। প্রতি বছর ব্রুনাই সুলতান তাঁর বিখ্যাত প্রাসাদটিকে উন্মুক্ত করেদেন সাধারণ মানুষের জন্য। তবে সেটা বছরের দুই ঈদের জন্য। ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরপর তিন দিন উন্মুক্ত থাকবে সুলতানের এই প্রাসাদটি।
দেশটির বড় বড় অট্টালিকার পাশাপাশি রয়েছে হাজার হাজার ছোট ছোট কুটির বাড়ি। ব্রুনাইয়ের রাজধানী বন্দরসেরি বেগওয়ানের ব্রুনাই নদীতে, দেখতে পাওয়া যায় বেশ কিছু নদী গ্রাম।
মূলত যাদের নিজস্ব ঘর- বাড়ি কিংবা জায়গা - জমি নেই তাদেরকে এরকম নদীর উপরে ঘর- বাড়ি বানিয়ে বসবাস করতে দেখা যায়। আর ব্রুনাইয়ে এই গ্রামকে নদী গ্রাম বলেই আখ্যায়িত করা হয়।