খেলাধুলা
ফুটবল মাঠের মধ্যে দিয়ে চলে যে ট্রেন
মধ্য ইউরোপের দেশ স্লোভাকিয়ায় ফুটবল মাঠের ভিতর দিয়েই চলে গেছে রেললাইন। খেলা চলাকালীন সময় সেখান দিয়ে ছুটে যায় স্টিম ইঞ্জিনের ট্রেন।
মাত্র ৩ টি বগি নিয়ে ছুটে চলা ছোট্ট ট্রেনটি লালচে খয়েরি আর হালকা হলুদ রঙের মিশ্রণে তৈরি। ইঞ্জিনটি কালো রঙের। তবে এটির গতি খুব বেশী নয়।
রেল লাইনটির দৈর্ঘ্য ১৭ কি মি। এটি স্লোভাকিয়ার সিয়ারনি বালোগ এলাকার একটি ফুটবল মাঠের এক প্রান্তে অবস্থিত।
জায়গাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন নাৎসি বিরোধী স্লোভাক জাতীয় বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল।
১৯০৯ সালে এখানে তৈরি করা হয় রেলপথটি। তবে তখন এতে কোন মানুষ চলাচল করত না, বরং নিকটবর্তী জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে এই পথে ট্রেনে করে শহরে নিয়ে আসা হতো।
পরবর্তীতে, ১৯২৭ সাল থেকে এই পথে মালামালের সাথে সাথে যাত্রী পরিবহনও শুরু করা হয়। মাঝে দীর্ঘদিন চলাচল বন্ধ থাকলেও ১৯৩৭ সালে রেল লাইনটি সংস্কার করে পর্যটকদের জন্য পুনরায় চালু করা হয় এটি।
রেল যাতায়াতকে কেন্দ্র করেই ধীরে ধীরে স্থানটিতে মানুষ বসতি স্থাপন করতে শুরু করে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পেতে একসময় সেখানে গড়ে ওঠে ১৩ টি গ্রাম। আর তারপরই স্থানটিতে রেল লাইনের পাশেই গড়ে তোলা হয় একটি ফুটবল স্টেডিয়াম।
এদিকে ১৯৩৩ সালে টিজে টাটরান নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্লোভাকিয়ার একটি অপেশাদার ফুটবল ক্লাব। স্টেডিয়ামটি তৈরির পর তারাই এখানে খেলা শুরু করে।
কিন্তু মজার ব্যাপার হল, এরপরও সেই স্থানে ট্রেনটির চলাচলে কোন প্রকার বিঘ্ন ঘটেনি। আর খেলোয়াড় বা দর্শকরাও কোন আপত্তি করেনি।
ফুটবল খেলা চলাকালীন মাঠের এক পাশ দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে আর বাঁশি বাজাতে বাজাতে চলতে থাকে পুরনো ধাঁচের এই স্টিম ইঞ্জিন চালিত ট্রেনটি।
এই দৃশ্য এখানে খুবই স্বাভাবিক। ট্রেন এলে কখনো কখনো নিরাপত্তার কথা ভেবে কিছু সময়ের জন্য খেলা থামিয়ে দেয়া হয়।
মাঠে থাকা খেলোয়াড় আর গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা তখন অপেক্ষা করেন। ট্রেন চলে যাওয়ার পর আবার শুরু হয় যায় থেমে যাওয়া খেলাটি।
তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ট্রেন একদিক দিয়ে চলতে থাকে আর অন্যদিকে খেলাও চলতে থাকে নিজ গতিতে।
কারণ রেল লাইন মাঠের এক প্রান্তে অবস্থিত আর গতি কম হওয়ায় কোন দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও নেই। এভাবেই যুগের পর যুগ স্থানটিতে খেলা এবং ট্রেন চলাচল একসাথে হয়ে আসছে।
এমন অদ্ভুত দৃশ্য দর্শকদের জন্য বেশ উপভোগ্য। কারণ ট্রেনটি স্ট্রিম ইঞ্জিন চালিত হওয়ায় সবুজ মাঠের ভেতর দিয়ে ছুটে চলার সময় সাদা ধোঁয়া বের হতে থাকে।
ট্রেনের নিজস্ব রঙ, ধোঁয়া আর বাঁশির শব্দ মিলিয়ে এক অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা হয়। আর সেই দৃশ্য দেখে মোহিত হয়ে যান খেলা দেখতে আসা দর্শকরাও।
তাছাড়া দেশটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও স্থানটি একবার পরিদর্শন করতে আসেন ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতার কথা ভেবেই। তাই স্থানটি এখন স্লোভাকিয়ার পর্যটনের ক্ষেত্রে একটি বিরল দর্শনীয় স্থানের মর্যাদাও লাভ করেছে।
প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে যাতায়াত ব্যবস্থায়ও লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। স্টিম ইঞ্জিন চালিত রেল এখন আর দেখা যায় না বললেই চলে।
কিন্তু তা সত্ত্বেও ঐতিহ্য হিসেবেই এখনও টিকে আছে স্লোভাকিয়ার এই আশ্চর্য ট্রেনটি। ছোট্ট এই রেল পথটিও তাই পৃথিবীর বিরলতম রেলওয়েগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।
জনপ্রিয়
খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন
আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেবেন না মেসি
সভাপতি নির্বাচনের দৌড়ে সাবেক খেলোয়াড় ও কোচদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। সাবেক কোচ জাভি হার্নান্দেজ প্রকাশ্যে ভিক্টর ফন্টের পক্ষে অবস্থান নিলেও মেসি এ বিষয়ে নীরব ছিলেন।
.jpg)
নিরাপত্তা শঙ্কা কাটিয়ে ভারতে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পাঠানো না হলেও এবার ভারত সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশের শুটিং দল। দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের জন্য শুটিং দলকে অনুমতি দিয়েছে যু

প্রথম সাফ নারী ফুটসালে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
ইতিহাসের পাতায় নতুন এক গৌরবময় অধ্যায় যোগ করল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো আয়োজিত সাফ নারী ফুটসাল টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাবিনা খাতুনের দল। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ননথাবুরি হলে রোববার টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪–২ গোলের বি
.jpg)
ওয়ালটন এসির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হলেন তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ
বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান এয়ারকন্ডিশনার ব্র্যান্ড ওয়ালটনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ। এর মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফেস অব ওয়ালটন এসি’ হিসেবে যুক্ত হলেন দেশীয় এই শীর্ষ ব্র্যান্ডটির সঙ্গে।

.jpg)
.jpg)

.webp)

.jpg)

.jpg)