এশিয়া কাপের ১৫ তম আসরে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এর মাধ্যমে ষষ্ঠ বারের মতো এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে সেরার মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে তারা।
বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে গোটা দেশ যখন দেউলিয়া, তখন এক পশলা স্বস্তি এনে দিয়েছেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা।
এবারের এশিয়া কাপ শুরুর পর, দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতলেই ম্যাচ জয় এমন একটি পরিসংখ্যানে সবার চোখে পড়ছিলো।
ফাইনালে এসে কথাটিকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভানুকা রাজাপাকসের ৪৫ বলে ৭১ এবং ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার ২১ বলে ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংসে ১৭০ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় লঙ্কান ব্যাটাররা।
১৭১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রমদ মাদুসান ও ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গাদের বোলিং তোপে নির্ধারিত ২০ ওভারে সব ক'টি উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।
ফাইনালে ম্যাচ সেরা হয়েছেন ভানুকা রাজাপাকসে এবং টূর্ণামেন্ট সেরা হয়েছেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।
পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী এশিয়া কাপের ১৫তম আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো শ্রীলঙ্কায়। তবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায়, আরব আমিরাতে টূর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেয় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল।
উদ্বোধনী ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর শ্রীলঙ্কা যে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হবে সেটা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা বলেছিলেন, "সাকিব-মুস্তাফিজ ছাড়া বাংলাদেশ দলে বিশ্বমানের বোলার নেই। তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে জেতা সহজ হবে।"
এই কথার প্রতিউত্তরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন "আমি তো শ্রীলঙ্কা দলে কোন বোলার-ই দেখি না।"
মাঠের বাইরে কথার লড়াইয়ের পর মাঠের ক্রিকেটে অবশ্য জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশকে হারিয়ে সুপার ফোর নিশ্চিত করার পর একে, একে আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় দাসুন শানাকার দল।
উপমহাদেশের বিশ্বকাপ খ্যাত এই টূর্নামেন্টের ফাইনালে আবারও পাকিস্তানকে হারিয়ে ষষ্ট বারের মতো এশিয়া কাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরে লঙ্কানরা।
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও বাছাই পর্ব পার করে আসা ওমানকে নিয়ে গত ২৭ আগষ্ট এশিয়া কাপের পর্দা উঠে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
গ্রুপ পর্বে দুটি করে ম্যাচ হেরে টূর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ ও ওমান। রাউন্ড রবিন লীগ পদ্ধতিতে আয়োজিত সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কা ৩টি পাকিস্তান দুটি এবং ভারত একটি জয় পায়।
অপ্রত্যাশিত ভাবে ভারত বিদায় নিলেও এশিয়া কাপের এবারের আসরে প্রায় তিন বছর পর সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন বিরাট কোহলি!
সুপার ফোরের নিয়ম রক্ষার ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৫৩ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান তিনি।
১২ চার ও ৬ টি ছক্কায় ৬১ বলে ১২২ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্যাটারদের এলিট ক্লাবে প্রবেশ করেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান।
এশিয়া কাপের এখন পর্যন্ত ১৫টি আসরে সবচেয়ে বেশি ৭ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ বার শ্রীলঙ্কা এবং দুইবার শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান।
২০১২, ২০১৬ এবং ২০১৮ সালে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেললেও এখনো পর্যন্ত শিরোপা জেতার স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ।