এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রায় ৬২ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে দেশে ফিরেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে বিজয় উদযাপন করেছেন ক্রিকেটাররা।
অর্থনৈতিক দুর্দশরার দিনেও এত বড় প্রাপ্তি হাসি ফুটিয়েছে জনতার মনে। তাই কলম্বোর রাস্তায় সর্বস্তরের জনগনের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন খেলোয়াড়েরা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচ জিতে প্রাইজ মানি হিসেবে শ্রীলঙ্কা পেয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১ কোটি ৪১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪০ টাকা।
অপরদিকে রানার্স আপ পাকিস্তান পেয়েছে ৭৫ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৭০ লাখ ৭১ হাজার ৭৭০ টাকার মতো।
চ্যাম্পিয়নের প্রাইজমানি ছাড়াও আরো বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল পরিমান অর্থ পেয়েছে আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা।
ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে ব্যাটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ভানুকা রাজাপাকসে। দলের বিপর্যয়ে হাল ধরে ৪৫ বলে ৭১ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেছেন তিনি।
ফলে ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতেই। যার অর্থমূল্য ছিল ৫ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া বদলি হিসেবে নেমে দারুণ ক্যাচ ধরে আসেন বান্দারা জিতে নিয়েছেন ৩ হাজার ডলার।
অপরদিকে এবারের এশিয়া কাপ আসরে ৬৬ রান ও ৯ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টসেরা নির্বাচিত হয়েছেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। দলের জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। আর সেটির পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ১৫ হাজার ডলার।
আয়োজক স্বত্ব, টিকিট বিক্রি, পার্টিসিপিশন, সব মিলে টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ৬২ কোটি টাকা পেয়েছে এসএলসি। যদিও তারা বলছে নিজেদের দেশে আয়োজন করতে পারলে টাকার পরিমানটা আরো বেশি হতো।
একদিকে এশিয়া কাপ জয়ের আনন্দ, অপরদিকে দেশের করুন পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা আয়, সব মিলিয়ে দারুন খুশি শ্রীলঙ্কার সর্বস্তরের মানুষ।
শিরোপা নিয়ে দেশে ফেরত আসা খেলোয়াড়দের বরন করতে এয়ারপোর্টে হাজির হয়েছিলেন হাজারো ক্রিকেটপ্রেমী। তাদের সঙ্গে শিরোপা উদযাপন করতে ছাদ খোলা বাসে রোড শো করেছেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা।
বিশ্বকাপের পর ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বলা হয় এশিয়া কাপকেই। মহাদেশীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের একমাত্র উদাহরণ এটি। মর্যাদার এই লড়াইয়ে শিরোপার পাশাপাশি আর্থিক লাভের দিকটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে এশিয়াকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওয়ানডে সংস্করনে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত সেই আসরে বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবার এশিয়া কাপ হয়েছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি বেড়েছে প্রাইজমানির পরিমানও।
চার বছরের ব্যবধানে প্রায় তিনগুন হয়েছে পুরস্কারের অর্থমূল্য। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন দল ভারত পেয়েছিল ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এবার সেটি বেড়ে দাড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে।
২০১৮ সালে রানার্সআপ বাংলাদেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এসেছিল ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। বিপরীতে সর্বশেষ এশিয়া কাপে ফাইনালে হারা পাকিস্থান পেয়েছে ৭৫ হাজার ডলার।
সর্বমোট ছয়টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এশিয়া কাপের ২০২২ সালের আসর। ফাইনালের আগেই চারটি দল ছিটকে পড়লেও তাদের লভ্যাংশের পরিমান কম ছিল না।
এবার সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে এসিসির পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে বিসিবির সম্ভাব্য আয় ২০ থেকে ২২ কোটি টাকা।
নিয়ম অনুযায়ী এশিয়া কাপের লভ্যাংশের ৭৫ শতাংশ সমান ভাবে ভাগ করে দেয়া হয় পূর্ন সদস্যের দেশ গুলোর মাঝে। সে হিসেবে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ সমপরিমাণ অর্থই পেয়েছে।
বাকি ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অর্থ ভাগ করে দেয়া হয়েছে সহযোগী দেশগুলোর মাঝে।