নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর দুই'টা ত্রিশ মিনিটে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু সাংবাদিক সম্মেলনে স্কোয়াড প্রকাশ করেন।
প্রত্যাশিত নামের পাশাপাশি আলোচনায় থাকা বেশ কিছু ক্রিকেটার যেমন দলে জায়গা করে নিয়েছেন, তেমনি কয়েকজন ক্রিকেটার বাদও পড়েছেন।
বয়স, ফিটনেস ও সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে সমালোচিত, দলের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে!
এছাড়া বিশেষ কোন পারফর্ম্যান্স ছাড়াই দলে ডাক পেয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত!
সাকিব আল হাসানকে অধিনায়ক ও নুরুল হাসান সোহান কে সহ-অধিনায়ক করে ঘোষিত দলের অবশিষ্ট সদস্যরা হলেন,
লিটন দাস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাব্বির রহমান, ইয়াসির আলি রাব্বি, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও নাসুম আহমেদ।
এছাড়া স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে সৌম্য সরকার, শরিফুল ইসলাম, শেখ মাহাদি হাসান ও রিশাদ হোসেন।
সর্বশেষ এশিয়া কাপে দলে থাকা মোট পাঁচজন ক্রিকেটার সদ্য ঘোষিত বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন।
তারা হলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, এনামুল হক বিজয়, নাঈম শেখ, পারভেজ হোসাইন ইমন ও শেখ মাহাদি হাসান।
এছাড়া এশিয়া কাপ থেকে দেশে ফিরে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসর নেওয়ার কারণে মুশফিকুর রহিম নেই নতুন দলটিতে।
ইঞ্জুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন লিটন দাস, নুরুল হাসান সোহান, ইয়াসির আলি রাব্বি ও হাসান মাহমুদ।
অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি কন্ডিশনের কথা বিবেচনায় রেখে সৌম্য সরকারকে দলভুক্ত করার গুঞ্জন শোনা গেলে শেষ পর্যন্ত ডাক পেলেন শান্ত! একই কারণে দলে পেসারদের আধিক্য দেখা যাচ্ছে।
সাকিব আল হাসানের বাঁহাতি অর্থোডক্স এর পাশাপাশি মেহেদি মিরাজ এবং মোসাদ্দেক সৈকতের অফ ব্রেকের উপর ভরসা করে দলে একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন নাসুম আহমেদ।
সর্বশেষ বিপিএলে মাঝের ওভার গুলোতে বেশ কার্যকরী ইনিংস খেলেছেন ইয়াসির আলী রাব্বি।
তাই পাওয়ার হিটিং ব্যাটসম্যান হিসেবে তাকে জায়গা করে দিতে দল থেকে বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
রিয়াদকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গ টি-টোয়েন্টি কনসালটেন্ট শ্রীরাম শ্রীধরণ বলেন, " বাংলাদেশ দলে মাহমুদুল্লাহর ভূমিকা অনেকটা ভারতের ধোনীর মতো।
ধোনীকেও বাদ পড়তে হয়েছে। রিয়াদকেও একদিন চলে যেতে হবে। এখন যদি তাকে বাদ না দেয়া হয়, তাহলে নতুন কাউকে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে না।
কয়েক মাস ধরেই টি-টোয়েন্টি দলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয় বিসিবি। গত জুলাই-এ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমকে বিশ্রামে রেখে নুরুল হাসান সোহানের নেতৃত্বে তারণ্য নির্ভর একটি দল জিম্বাবুয়েতে পাঠায় বোর্ড।
অন্যদিকে ছুটিতে থাকায় সাকিব আল হাসানও সেই সফরে ছিলেন না। জিম্বাবুয়ে সফরের শেষ টি-টোয়েন্টির আগে নুরুল হাসান সোহান ইঞ্জুরড হলে, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে পুনরায় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়!
পরবর্তীতে এশিয়া কাপের দল ঘোষণার আগে একটি বেটিং সাইটের সাথে চুক্তি করায় সাকিবের সাথে বিরোধ দেখা দেয় ক্রিকেট বোর্ডের।
দীর্ঘ নাটকীয়তার পর সাকিবকে অধিনায়ক করে এশিয়া কাপের দল ঘোষণা করেছিলো বিসিবি। তবে গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সাথে হেরে সুপার ফোরে উঠা হয়নি বাংলাদেশের।
এরই মধ্যে নানা কারণে সমালোচিত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য অব্যাহতি দিয়েছে বোর্ড।
এই ফরম্যাটের জন্য কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ভারতীয় কোচ শ্রীধরণ শ্রীরাম। এছাড়া ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স, পেস বোলিং কোচ অ্যালেন ডোনাল্ড ও স্পিন কোচ রঙ্গনা হেরাথের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত করা হচ্ছে লাল সবুজ জার্সিধারীদের।