ক্রিকেটেও এবার ফুটবলের ছোঁয়া। খেলা চলাকালীন যেমন ফুটবলার পরিবর্তন করা যায়, তেমনি ক্রিকেটেও ম্যাচ চলাকলীন ক্রিকেটার বদল করা যাবে।
এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নয়, ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে দেখা যাবে এমন নিয়ম।
ফুটবল ম্যাচ চলাকালে হঠাৎ খেলোয়াড় পরিবর্তনের নিয়ম চালু আছে শুরু থেকেই। রাগবি, বাস্কেটবল, বেসবলেও আছে ম্যাচের মাঝখানে সাবসিটিউব প্লেয়ার নামানোর নিয়ম।
ক্রিকেটেও "কনকাশন সাব" চালু হয়েছে ২০১৯ সাল থেকে। এই নিয়মের অধীনে, কোন খেলোয়াড় মাথায় আঘাত পেলে ব্যাটসম্যানের বদলে ব্যাটসম্যান ও বোলারের বদলে বোলার নামানোর সুযোগ পায় দলগুলো।
তবে আঘাত না পেলে সাবস্টিটিউড প্লেয়ার শুধুমাত্র ফিল্ডিং করতে পারবে। ব্যাটিং ও বোলিং করার সুযোগ পাবে না বদলি খেলোয়াড়।
ভারতে চালু হতে যাওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী ইনিংসের ১৪ ওভারের আগে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো যাবে একজন খেলোয়াড়কে। যিনি অবশিষ্ট ওভার গুলো ব্যাটিং ও বোলিং করতে পারবেন।
কোন দল যদি ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে তাহলে দ্বাদশ খেলোয়াড়কে মাঠে নামিয়ে সুবিধা নিতে পারবে। আবার, কোন দল অল্প রানে আউট হয়ে গেলে বাড়তি একজন বোলার মাঠে নামিয়ে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
আগামী ১১ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া টূর্ণামেন্টে এই নিয়মের সুফল পাওয়া গেলে পরবর্তিতে আইপিএলেও এই নিয়ম দেখা যেতে পারে।
বদলি খেলোয়াড়ের নিয়ম অবশ্য এর আগেও দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ার টি-টুয়েন্টি লীগ বিগব্যাশে। তবে BCCI এর পরিকল্পিত নিয়মের থেকে বেশ কিছু ভিন্নতা রয়েছে সেখানে।
বিগব্যাশ লীগে প্রতিটি দল ইনিংসের দশ ওভারের পর একজন খেলোয়াড়কে এক্স ফ্যাক্টর হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যিনি এক ওভারের বেশি ব্যাট ও বল করতে পারেননা।
ক্রিকেট শুরুর পর থেকেই এর নিয়মে নানা পরিবর্তন এনেছে আইসিসি। মেরিলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব ক্রিকেটের আইন প্রনয়নে কাজ করে থাকে।
খেলাকে আর্কষনীয় ও ঝমঝমাট করে তুলতে পাঁচ দিনের টেস্ট ক্রিকেট থেকে ৫০ ওভারের এক দিনের ম্যাচ, ২০ ওভার এবং সর্বপরি ১০ ওভারে নামিয়ে আনা হয়েছে ক্রিকেট ম্যাচের দৈর্ঘ্য।
এছাড়া ১০০ বলের একটি ক্রিকেট টূর্ণামেন্ট আয়োজন করে থাকে ইংল্যান্ড, যা "দ্যা হান্ড্রেড ক্রিকেট" নামে পরিচিত।
শুরুতে একাদশে থাকা কোন খেলোয়াড় আঘাত পেলে তার পরিবর্তে মাঠে একজন ফিল্ডার নামানোর সুযোগ পেতো দলগুলো।
২০১৯ সালে মাথায় আঘাত জনিত কারণে সম-মানের একজন বদলি খেলোয়াড় মাঠে নামানোর নিয়ম চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।
"কানকাশন-সাব" নামক এই পদ্ধতি ওই বছর-ই ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদার লড়াই "দ্যা অ্যাসেজ" সিরিজ থেকে চালু হয়।
অ্যাসেজের তৃতীয় ম্যাচে ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চারের বলে মাথায় আঘাত পান অজি ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথ।
ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম "কনকাশন সাব" হিসেবে মাঠে নামেন মার্নাস লাবুশানে।
তবে ভারতে চালু হতে যাওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচের মাঝখানে একাদশে নতুন খেলোয়াড় যোগ করতে আঘাত পেতে হবেনা কাউকে।
বরং দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবেই মাঠে নেমে দলের ব্যাটিং এবং বোলিং এ অবদান রাখতে পারবেন তিনি। ফলে, যেকোন দল মোট বারো জন খেলোয়াড় একটি ম্যাচে খেলাতে পারবে। তবে একসাথে মাঠে থাকবে ১১জনই।
ফুটবলের ন্যায় ক্রিকেটেও বাড়তি খেলোয়াড় খেলানোর সুবিধা কতটুকু নিতে পারবে দলগুলো সে দিকেই আগ্রহ থাকবে ক্রিকেট প্রেমিদের।