স্বপ্ন পূরণ হলো সানজিদার। দেশের মাটিতে নারী ফুটবল দলকে প্রথমবারের মত ছাদখোলা বাসে-ই দেয়া হলো সংবর্ধনা।
ঢাকা শহরের এক তৃতীয়াংশ এলাকা জুড়ে ছাদখোলা বাসেই বিজয় উৎযাপনের ব্যবস্থা করে কথা রাখল বাফুফে ও ক্রিড়া মন্ত্রনালয়।
ট্রফি নিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় সাবিনা খাতুনদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি।
সেখানে ফুল দিয়ে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে নারী ফুটবলারদের বরণ করে নেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির একটি অংশ।
এসময় সাংবাদিক ও উৎসুক জনতা ঘিরে ধরেন তাদেরকে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারনে ফুটবলারদেরকে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।
মেয়েদের বরণ করে নিতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেন তিল ধারণের ঠাঁই ছিলোনা! বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নারী ফুটবল দল এসেছে সাবিনাদের শুভেচ্ছা জানাতে। তারাও সাবিনাদের মতো শিরোপা জেতার স্বপ্ন দেখছেন।
এছাড়াও ছিলেন অনেক সাধারণ সমর্থক। ক্রিকেটের আইকনিক সমর্থক টাইগার শোয়েবকেও দেখা গেছে ফুটবল দলকে শুভেচ্ছা জানাতে।
ফুটবলাররা বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় থেকে বাইরে এবং ভেতরে উচ্ছাসে ফেটে পড়ে অপেক্ষমান দর্শনার্থীরা। এসময় ‘জয় বাংলা’, ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদেরকে।
বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছায় অভ্যর্থনার পর ছাদ খোলা বাসে ট্রফি নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন সাবিনা-কৃষ্ণারা। এসময়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাউথ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের অভিবাদন জানায় সাধারণ মানুষ।
শিরোপাজয়ী দলকে কাছ থেকে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সবাই। পুরো সড়কজুড়েই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, ব্যানার হাতে বিজয় উল্লাসের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন দলকে বরণ করে নেন ফুটবল প্রেমীরা।
স্বাগত জানিয়েছেন গানের তালে তালে, কেউ বা ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়েছেন, আবার কেউবা ধরেছেন স্লোগান।
আনন্দঘন এই মুহুর্তের সাক্ষী হতে কেউ ছাদখোলা গাড়ির সঙ্গে তুলেছেন সেলফি। বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবন, প্রায় পুরো যাত্রাপথেই এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখা গেছে।
ছাদ খোলা বাসে চড়ে চ্যাম্পিয়নরা বনানী, মহাখালী পার হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিজয় স্মরণী উড়ালসেতু, তেজগাঁও, কাকরাইল, ফকিরাপুল, আরামবাগ হয়ে পৌঁছান বাফুফে ভবনের সামনে।
আনন্দ যাত্রার এই দীর্ঘ পথে বিমানবন্দর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো সড়কজুড়েই ছিল উৎসবের অবিস্মরণীয় দৃশ্য। এর মাঝে ভবনের ছাদ থেকে ঢাকা বাসী হাত নেড়ে, উঁকি দিয়ে বিজয়ের ভাগিদার হয়েছেন।
গাড়িবহর বাফুফেতে পৌঁছালে আরেকদফা বরণ করে নেয়া হয় ফুটবলারদেরকে। সেখানে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন কথা বলেন চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে।
এ যেন দেশের বুকেই এক ভিন্ন ইতিহাসের সূচনা!
খোলা বাসের এই উচ্ছ্বলতা দেখে নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এভাবেই দেশের নারী ফুলবলারদের প্রয়োজনীয় সুবিধা এবং অনুপ্রেরণা দিলে আরো শিরোপা আসবে।
তবে এমন আনন্দের দিনে কিছুটা দুঃসংবাদও এসেছে। ট্রফি নিয়ে বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে বাফুফে ভবনের দিকে যাওয়ার পথে বিলবোর্ডের খোঁচায় মাথায় আঘাত পান ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিএমএইচে নেয়া হয়। কপালে তিনটি সেলাই লেগেছে তার। এরপর হাসপাতাল থেকে তাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় বাফুফে ভবনে।
সাফ-এর সেমিফাইনাল জয়ের পরে দেশবাসীর কাছে দোআ চেয়ে নারী ফুটবল তারকা সানজিদা একটি আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।
এই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করেই রাতারাতি তৈরি করা হয়েছিলো ছাদখোলা বাস, যাতে করে সানজিদাদের স্বপ্নের ট্রফি প্রদর্শিত হয় ঢাকার এক তৃতীয়াংশ রাজপথ জুড়ে।