বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য আশার আলো হতে পারেন হামজা চৌধুরী - এমনটাই মন্তব্য করেছেন তার কোচ রব এডওয়ার্ডস।
ব্রিটিশ এই মিডফিল্ডার এখন ইংলিশ ক্লাব ওয়াটফোর্ডের হয়ে খেলছেন। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের হয়ে খেলার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা একমাত্র ব্রিটিশ বাংলাদেশী ফুটবলার হামজা। সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেছেন , ' ‘বাংলাদেশেরর সমর্থকদের ভালোবাসা সত্যিই আমার চোখ খুলে দিয়েছে।
আমি একটি শক্তিশালী সংযোগ অনুভব করি এবং ব্যবহার করতে চাই৷ আমার অভিজ্ঞতাগুলো বাংলাদেশের ফুটবলে কাজে লাগাতে চাই।
এমন মন্তব্যকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন তার বর্তমান কোচ এডওয়ার্ড। তিনি বলেন, 'হামজা যদি বেছে নিয়ে থাকে, তাহলে আমি বলবো এটা পজিটিভ ব্যাপার হবে।
আমি মনে করি সে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য আশার আলো হয়ে আসতে পারে। তারা ওকে দেখে সাহস পাবে এবং ভাববে ওদের দিয়েও সম্ভব। '
এদিকে বাংলাদেশী বংশদ্ভূত এই ফুটবলার কে পেয়ে উচ্ছ্বসিত কোচ রব এডওয়ার্ড। তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রেরণা হতে পারেন হামজা, এমনটাই ধারণা প্রিমিয়ার লিগের এই প্রশিক্ষকের।
গেলো কয়েক বছরে বেশ কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলার খেলেছেন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে। এই তালিকায় আছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও।
ডেনমার্ক থেকে দেশের টানে ছু্ঁটে এসেছিলেন তিনি। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে এখন মাঠ মাতাচ্ছেন এই ফুটবলার।
হামজা চৌধুরীও বাংলাদেশী বংশদ্ভূত। হবিগঞ্জে তার নানাবাড়ী। জন্মসূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক হলেও নাড়ির টানে তিনি ছুঁটে আসতেন চান বাংলাদেশে।
খেলতে চেয়েছেন লাল-সবুজের জার্সি গায়ে। সমর্থকদের বড় একটা অংশও হামজাকে দলে ভেড়াতে বাফুফের কাছে জানিয়েছেন অনুরোধ।
বাংলাদেশি মা ও গ্রেনাডিয়ান বাবার সন্তান হামজা। বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডের লাফবরোতে। খেলেছেন ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়েও।
মৌসুম লেস্টার সিটির হয়ে বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি হামজা। অবশ্য লোনে ওয়াটফোর্ডে যোগ দেয়ার পর কোচ এডওয়ার্ডস তাকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করছেন।
হামজাকে নিয়ে কোচ বলেন, ' তার প্রতিভা দিন দিন বিকশিত হচ্ছে। সে যখনই মাঠে নেমে শতভাগ দিয়ে খেলে। সে ইতিবাচক, তার পারফরম্যান্সেই সেটি প্রতিফলিত হয়।
যদিও এখনও তার থেকে সেরাটা আসেনি। কিন্তু কোনো সন্দেহ নেই শিগগিরই আমরা সেরা হামজাকে দেখবো। সে একজন উদীয়মান ফুটবলার এবং মানুষ হিসেবেও দারুণ। '
অল্প বয়সেই ক্যারিয়ার শুরু করেন হামজা। মাত্র সাত বছর বয়সে লেস্টার একাডেমিতে যোগ দেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।
সেই থেকেই দলে নিয়মিত খেলেছেন। ছেলেবেলা থেকেই লিস্টার সিটির ভক্ত ছিলেন তিনি। তার ফুটবলে হাতেখড়িটাও হয়েছে লিস্টারের মাধ্যমে।
ক্লাবটির হয়ে এখন পর্যন্ত আশিটিরও বেশি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছেন এই ফুটবলার। শুরুর দিকে বেশিরভাগ ম্যাচেই পেতেন না সুযোগ। সাইডবেঞ্চে কাটিয়েছেন বহু ম্যাচে।
লিস্টার থেকে ওয়াটফোর্ডে আসার পর চলতি আসরে খেলেছেন ৮ ম্যাচ। এর আগে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে লিস্টারের হয়ে সুযোগ পান মোটে ৬ ম্যাচে।
কিছুদিন আগেই ব্রিটিশ মুসলিম অ্যাথলেটদের সাপোর্ট গ্রুপের শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের এখন অপেক্ষা লাল-সবুজের জার্সিতে হামজাকে দেখার।
বাফুফের সদিচ্ছা থাকলে হয়তো জামাল ভূঁইয়া, তারিক কাজীদের মতো হামজাও মাঠ মাতাবেন বাংলাদেশের হয়ে।