প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যায়বহুল ফুটবল বিশ্বকাপের। সেরা ৩২ দলের জন্যে ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত ফুটবল।
বলটির অফিসিয়াল নাম রাখা হয়েছে আল রিহলা। প্রথমবারের মত মধ্যপ্রাচ্যে অনুষ্টিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ফুটবলটির নাম নেওয়া হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংষ্কৃতির সঙ্গে মিল রেখেই।
গেল মার্চের ৩০ তারিখ এটিকে সর্বপ্রথম উন্মোচন করা হয় জনসম্মুখে। এর নির্মাতা প্রতিষ্টান এডিডাস। প্রতিষ্ঠানটি টানা ১৪ বারের মত তৈরি করছে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ।
তাদের প্রতিটি বলই ছিল আগেরটির চেয়ে উন্নত। এবারেও নির্মাতা প্রতিষ্টান এডিডাস দাবি করছে আল রিহলা এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে সবচেয়ে আধুনিক।
ধারনা করা হচ্ছে এটি আগের যেকোন আসরের চেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন। নির্মাতা প্রতিষ্টানের দাবি অনুসারে ফুটবলটি বাতাসে প্রচলিত বলের তুলনায় বেশি পথ অতিক্রম করতে সক্ষম।
ফলে মাঠে নামা প্লেয়ারের এরিয়াল শট কিংবা লং পাস খেলতে আরো বেশি সুবিধা হবে। এবারে বলের আকারে ও গড়নে এসেছে পরিবর্তন।
আল রিহলা নামকরন হওয়া ফুটবলটি গঠিত হয়েছে ২০ টি স্তরের সমন্বয়ে। প্রতিটি স্তর তৈরি হয়েছে আলাদাভাবে। এদের প্রত্যেকটি উপাদান পরিবেশ বান্ধব।
ভিন্ন ভিন্ন প্যানেলে তৈরি হওয়ার কারনে এর একুরেসি হবে অন্য যেকোন বলের চেয়ে অনেক বেশি। কয়েক মাস গবেষনা শেষে আয়োজক দেশের সম্মতিক্রমে চুড়ান্ত করা হয় এটিকে।
চামড়া ও পলিয়েস্টর ফেব্রিক দিয়ে তৈরি এটি। যথাসম্ভব এতে কম কাঁচামাল নষ্ট করা হয়েছে।
৩৫০ জন পেশাদার ও অপেশাদার ফুটবলার বলটি পরীক্ষা করেছেন।
বলটির নকশা করেছে এডিডাস এর নিজস্ব ডিজাইনেরেরা। আয়োজক দেশ কাতারের পতাকা এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাকের রংকে প্রাধান্য দিয়েই করা হয়েছে এর ডিজাইনের মুল কাজ।
এবারের বল নির্মান হয়েছে পাকিস্তানের শিয়াল কোট সিটিতে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ না খেললেও মাঠে থাকবে পাকিস্তানের নাম।
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই খেলাটিকে আরো বেশি গতিময় করার লক্ষ্যে নিয়মিত কাজ করছে ফিফা। এরই প্রেক্ষিতে প্রথমবার কোন ফুটবলে ব্যবহার করা হয়েছে স্পিড শেল টেকনোলজি।
অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তির ব্যবহারে খেলায় নিয়ন্ত্রন আরো বেশি সহজ হবে খেলোয়াড়দের জন্যে। খেলার গতিও হবে অনেক বেশি। গতিময়তা এবং কাতারের ঐতিহ্যবাহী নৌকাকে মুল আকর্ষন করেই বলের নামকরন হয় আল রিহলা।
তবে খেলোয়াড়দের ব্যবহারের আগেই দর্শকদের প্রি অর্ডারের মাধ্যমে এটি কেনার সুযোগ দিয়েছিল এডিডাস। প্রি অর্ডারে এর মুল্য ছিল ১৪ হাজার টাকা।
মূল্য বেশি হলেও ফুটবল বিক্রির লভ্যাংশের একটা নির্দিষ্ট অংশ দান করা হবে বিশ্বব্যাপী দরিদ্র মানুষদের জন্যে।
ফুটবলের ইতিহাস শুরু হয়েছে প্রায় ৯২ বছর আগে । এই সুদীর্ঘ সময়কালে প্রতি বিশ্বকাপেই বদলেছে খেলতে দেওয়া বলের আকার এবং আকৃতি।
তবে প্রথম বিশ্বকাপে ছিলোনা কোন অফিসিয়াল বল। সেবার ফাইনালের অর্ধেকটা হয়েছিল উরুগুয়ের বল দিয়ে বাকি অর্ধেকটা সমাপ্ত হয়েছিল আর্জেন্টিনার বল দিয়ে।
এরপর ১৯৭০ সাল পর্যন্ত স্বাগতিক দেশের বল দিয়েই খেলা হয় বিশ্বকাপ। এই রীতির ব্যাতিক্রম ঘটে ১৯৭০ সালে।
সেবারই প্রথম বিশ্বকাপের ফুটবল বানানো শুরু করে ফিফা ও এডিডাস যৌথভাবে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারে এলো আল রিহলা।
নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বলছে, ২০১০ সালের জাবুলানির পর বিশ্বকাপের বল নিয়ে সমালোচনা হয়নি। আশা করা হচ্ছে এবার সবাইকে খুশি করবে আল রিহলা।’