ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সংবাদ মাধ্যম ইএসপিএন ক্রিক ইনফোর মতে বর্তমান ক্রিকেটে সবচেয়ে কার্যকরি স্লোয়ার ডেলিভারি করতে সক্ষম মুস্তাফিজুর রহমান।
অবিশ্বাস্য রকমের স্লোয়ার কাটার ডেলিভারি করে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়েছিলেন দেশ সেরা এই পেসার । তবে দিনে দিনে ধার কমেছে তার সেই বলের।
একসময় দলের অটোমেটিক চয়েজ থাকা দ্যা ফিজের পারফরম্যান্স দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তবে এখনো তার মত স্লোয়ার ডেলিভারি করতে পারেনা অন্য কোন বোলার।
এককালে শোয়েব আকতার আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলেন নিজের গতি দিয়ে। মালিঙ্গা ভীতি সৃষ্টি করেছিলেন ইয়র্কারের সৌন্দর্যে।
ট্রেন্ট বোল্ট এবং স্টার্ক এর মত বোলারেরা নিজেদের ট্রেডমার্ক বানিয়েছেন বাউন্সার ডেলিভারি। কিন্তু স্লোয়ার ডেলিভারিতে ব্যাটসম্যানের কাবু হওয়ার দৃশ্য ভাবতেই মাথায় আসবে মুস্তাফিজের নাম।
ক্যারিয়ারের সুচনায় এই বোলারের কাটার ছিল ব্যাটসম্যানদের জন্য গোলকধাধা। রোহিত কিংবা রাসেলের মত ব্যাটারেরা পরাস্ত হয়েছেন বারে বারে।
তবে দৃশ্যপট এখন ভিন্ন। শোল্ডার এবং সাইড স্ক্রিন ইঞ্জুরি এরপর ইনকামিং ডেলিভারি শিখতে গিয়ে নিজের বোলিং একশনে এনেছেন পরিবর্তন।
গেল কয়েক বছরে হোম অফ ক্রিকেট মিরপুরের বাইরে মুস্তাফিজুর ছিলেন একেবারেই ফর্মহীন। তারপর ও ক্রিক ইনফোর দৃষ্টিতে ফিজের স্লোয়ার কাটার সেরাদের তালিকায়।
ইএসপিএন তাদের ব্লগে দাবি করেছে মুস্তাফিজ কে পেস বোলার নয় বরংচ বলতে হবে লেফট আর্ম ফার্স্ট স্পিনার।
যিনি ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন, আবার বা হাতি স্পিনারদের টার্নের একটা পেস বোলীয় ভার্সন ও করতে পারেন।
তবে ব্যাতিক্রম স্পিনারেরা বল টার্ন করেন আঙ্গুলের সাহাজ্যে। কিন্তু মুস্তাফিজ একই কাজ করেন তার হাইপার ফ্লেক্সিবল রিস্ট এর ব্যবহারে।
ক্রিক ইনফো বলছে মুস্তাফিজের বলের গতিপথ এবং অফ দ্যা পিচ গ্রিফিং তার স্লোয়ার কাটার ডেলিভারি গুলোকে ব্যাটসম্যানদের জন্যে করেছে দুর্বোধ্য।
যদিও প্রশ্ন উঠেছে স্পিন উইকেটের বাইরে স্পোর্টিং উইকেটে মুস্তাফিজের স্লোয়ার কাটার ডেলিভারি করার সক্ষমতা নিয়ে।
ইএসপিএন এর প্রকাশিত সে তালিকায় মুস্তাফিজ ছাড়াও রাখা হয়েছে আরো পাঁচ ক্রিকেটারকে। তালিকার আছেন ইংল্যান্ডের টাইমাল মিলস।
উইন্ডিজ বংশোদ্ভূত এই বোলার ইতিমধ্যেই তার স্লোয়ার বাউন্সার এবং বলে ভ্যারিয়শনের জন্যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন বিশ্বব্যাপী।
তালিকার এরপরেই আছেন সদ্য অভিষিক্ত অস্ট্রেলিয়ান নাথান এলিস। তাকে ইতিমধ্যেই ভাবা হচ্ছে স্টার্কের পর অস্ট্রেলিয়ান বোলিং ইউনিটের নতুন লিডার।
উইন্ডিজ কিংবদন্তী ডোয়াইন ব্রাভোও আছেন এই তালিকায়। আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেললেও আইপিএল এর মত আসর গুলোতে ডেথ ওভারে নিজের স্লোয়ারের সক্ষমতা বহু বার প্রমান করেছেন ব্রাভো।
তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তালিকায় আছেন জোফরা আর্চার। গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষকে লণ্ডভন্ড করে দিয়েই অভ্যাস্ত আর্চার।
তবে ইএসপিএন বলছে আর্চারের স্লোয়ার ডেলিভারি ভড়কে দিতে পারে যেকোন ব্যাটসম্যানকে। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে এই ইংলিশ গতিদানব।
শেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেকে প্রমান করা আর্চার খেলতে পারবেন না আসন্ন টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ও। তালিকায় থাকা আর্চার এবং ব্রাভো বাদে সবাই খেলবেন টি- টুয়েন্টি বিশ্বকাপ।
সকলের চোখ থাকবে বাকি তিন বোলারের দিকে। আর বাংলাদেশিদের আশা দ্যা ফিজ ফিরবেন তার পুরনো ফর্মে।
দলের পেস ইউনিটকে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেবেন সামনে থেকেই। তবেই বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বকাপে ভালো কিছু সম্ভব।