টি-টোয়েন্টিতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় চমকের নাম আফগানিস্তান। যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশটিতে ক্রিকেট এখন জনপ্রিয় খেলা। আর বাইশ গজে ইতিমধ্যেই দেশটি দেখিয়েছে বেশ কিছু চমক।
আফগানিস্তান থেকেই ক্রিকেটে উঠে এসেছে বেশ কিছু বড় তারকা। বছর কয়েকের ব্যবধানে বড় বড় দলগুলোর জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে তারা।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন বেশ শক্ত দল আফগানরা। রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, মোহাম্মদ নবিদের মতো বিশ্বসেরা তারকা সহ বেশ কিছু তরুণ প্রতিভাবানদের নিয়ে যেকোনো দলকেই হারানোর সক্ষমতা রাখে তারা।
২০১৫ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি। এরপর ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বারের মত ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলেছে তারা।
অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেশ আগ থেকেই খেলছে আফগানরা। ২০১০ সালে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয় দলটি। এরপর ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ এবং সবশেষ ২০২১ সালেও খেলেছে তারা।
আসন্ন ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ষষ্ঠ বারের মতো খেলতে যাচ্ছে আফগানরা। এত অল্প সময়ে একটি দলের এভাবে এগিয়ে যাওয়াটা বেশ বিস্ময়কর।
গেলো আসরেও বেশ দুর্দান্ত পারফরম করে দলটি। হাতছানি ছিলো সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথমবারের মতো সেমিতে যাওয়ার। অবশ্য সেই স্বপ্ন শেষ অবধি পূরণ হয়নি।
তবে, ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বড় লক্ষ্য নিয়েই তাসমান পাড়ের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দিবে আফগানরা। অবশ্য মূল পর্বে বেশ কঠিন গ্রুপেই পড়েছে দলটি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরুর পর নিউজিল্যান্ড, বাছাই পর্ব থেকে উঠে আসা দুই দল ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে আফগানিস্তান।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের ১৫ সদস্যের মূল স্কোয়াডে আছেন - অধিনায়ক মোহাম্মদ নবি, নাজিবুল্লাহ জাদরান, রহমানুল্লাহ গুরবাজ, আজমতুল্লাহ ওমরজাই, দারুইশ রসুলি, ফরিদ আহমেদ মালিক, ফজল হক ফারুকি, হজরতুল্লাহ জাজাই, ইব্রাহিম জাদরান, মুজিব উর রহমান, নাভিন উল হক, কায়েস আহমেদ, রশিদ খান, সালিম সুফি ও উসমান গণি।
দলটির শক্তিমত্তা তিনজন সেরা স্পিনার। অনেকের মতে, বর্তমান সময়ে টি-টোয়েন্টির সেরা স্পিনার তাদের দখলে। রশিদ, মুজিব, নবিদের জাদুকরি বোলিং ঘুরিয়ে দিতে পারে ম্যাচের মোড়।
পেসার ফজল হক ফারুকীও প্রতিপক্ষের জন্য হতে পারে হুমকি। এছাড়া ব্যাটিংয়ে জাজাই, গুরবাজ, নাজিবুল্লাহ জাদরানরা আছেন দুর্দান্ত ফর্মে।
বিপরীতে, দূর্বলতা মিডল অর্ডার। দলের মিডল অর্ডারে নেই ফর্মে থাকা কেউই। ইব্রাহিম জাদরান, নবিদের উপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে দলকে।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্পিন কতটা ধরবে সে নিয়েও আছে সংশয়। সেদিক থেকে স্পিন নিয়েই আফগানরা বিপাকে পড়েন কি-না সেটা অবশ্য সময়ই বলে দিবে।
উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিত হলেও দেশটিতে ক্রিকেট প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পায় ১৯৯৫ সালে। ওই বছরেই প্রথম আফগানিস্তান ক্রিকেট ফেডারেশন গঠিত হয়।
এরপর ২০০১ সালে আইসিসির সহযোগি সদস্য এবং ২০০৩ সালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সদস্য হয় আফগানিস্তান।
দেশটিতে প্রথম জাতীয় দল গঠন হয় ২০০১ সালে। এরপর ২০০৯ সালে তারা প্রথম বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অংশ নেয়। যদিও ২০১১ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
তবে ২০১৩ সালে এসে আইসিসির ওয়ানডে মর্যাদা লাভ করে আফগানরা। এর আগেই ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জণ করে তারা। যা ছিল দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম কোন বড় আসরে খেলার অভিজ্ঞতা।
সময়ের ব্যবধানে আফগানরা নিজেদের প্রমাণ করেছে। আর সেই থেকেই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও চমক দেখাতে পারে আফগানরা। বড় কোনো সাফল্যের সম্ভাবনা আর সামর্থ্য দুটোই আছে দলটির।