আগামী নভেম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফুটবল বিশ্বকাপ। আসরটিকে সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার আয়োজনের কোন ত্রুটি রাখছে না।
এরমধ্যে বিশ্বকাপের সব প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে দেশটি। রাজধানী দোহা সেজেছে বর্ণিল সাজে।
বড় বড় দালানকোঠা আর গুরুত্বপূর্ণ স্খাপনায় শোভা পাচ্ছে পৃথিবী বিখ্যাত ফুটবলারদের ছবি।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কাতার সরকার বিপুল পরিমাণে ব্যয় করেছে। প্রযুক্তিগত ভাবেও এনেছে পরিবর্তন।
বাইরে থেকে আসা বিপুল সংখ্যক দর্শকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আকাশ পথে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আমুল পরিবর্তন এনেছে দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থায়।
প্রস্তুত করা হয়েছে ৩৭ টি মেট্রো স্টেশন। স্টেডিয়াম গুলোতে রাখা হয়েছে বিশেষ প্রবেশদ্বার ও রুম।
এছাড়া রয়েছে বিশেষ অ্যাপ, যা ব্যবহার করে উপকৃত হবেন খেলা দেখতে আসা অতিথিরা। এবারই প্রথমবারের মতো থাকবে ইংরেজির পাশাপাশি আরবিতে ধারাভাষ্যের ব্যবস্থা।
কাতারের মতো মরুভূমির দেশে অধিক তাপমাত্রার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গ্যালারি এবং মাঠের তাপমাত্রা রাখা হবে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি গতানুগতিক প্রযুক্তির তুলনায় কমপক্ষে ৪০ শতাংশ অধিক কার্যকর এবং পরিবেশ বান্ধব।
এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইন্টেলিজেন্ট কুলিং ট্যাকনোলজি, যা লোক সংখ্যা বিবেচনা করে তাপমাত্রা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম বেশি করতে সক্ষম। এছাড়াও থাকবে বাতাস পরিশুদ্ধকরন ব্যবস্থা।
কাতার সরকার কার্বন নিঃসরন কমানোর ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সেই লক্ষ্যে তারা হাতে নিয়েছে কার্যকরী সবুজ প্রকল্প।
ভেন্যুর গুলোর মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনা হয়েছে। এতে দর্শকেরা এক ভেন্যু থেকে অন্য ভেন্যুতে অল্পসময়ে যাতায়াতের মাধ্যমে শক্তি সাশ্রয় করতে পারবে, যা পরিবেশের জন্য মঙ্গলজনক।
ওয়াই-ফাই ও ফোন চার্জিং স্টেশনে ব্যবহার করা হয়েছে 'এলপাম' সোলার প্যানেল এবং বাইফেসিয়াল ফটোভোল্টেক প্যানেল। এর সুবিধা হলো সূর্যের আলো ছাড়াও ইউএসবি ওয়্যারলেস পোর্টের মাধ্যমে চার্জ করা যায়।
একটি বিশেষ স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে কার পার্কিং, ট্যাক্সি, ভেন্যুর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, মেট্রো স্টেশনের লোকেশন সহ যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে।
কাজটি করা হবে বিশেষ সেন্সরের মাধ্যমে, যা মোবাইল এ্যাপের সাথে যুক্ত থাকে। এছাড়া অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কানেক্টেড সেন্সর সার্বক্ষণিক সেবাদানে সক্ষম।
গ্যালারিতে রয়েছে বিশেষ ফুড টেকনোলজি, যার মাধ্যমে মাধ্যমে আসনে বসেই খাবার অর্ডার করা যাবে। ফলে কষ্ট লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মিস করার সুযোগ নেই।
এবারের কাতার বিশ্বকাপে থাকছে বিশেষ "রোবট লাইন্সম্যান"। অফসাইটের নির্ভুল বিচার করার সুবিধার্থে মাঠে থাকবে যান্ত্রিক রেফারি।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে কাতারের রাজধানী দোহায় নির্মাণ করা হয়েছে "স্টেডিয়াম ৯৭৪" এর বিশেষত্ব হলো ৯৭৪ টি ব্যবহৃত শিপিং কন্টেইনার দিয়ে এটি তৈরী করা হয়েছে, যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য।
৪০ হাজার দর্শক ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়ামটি টুর্নামেন্টের পর ভেঙ্গে আফ্রিকার মতো অনুন্নত দেশের সাহায্যে ব্যবহার করা হবে।
এছাড়া এবারের বিশ্বকাপের বিদেশী দর্শকদের জন্য রয়েছে পরিধানযোগ্য নিরাপদ বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি, যা রক্ত চাপ ও হার্টবিট মাপার কাজে ব্যবহৃত হবে।
ফিফা থেকে অনুমোদন পেতেও কম ঘাম ঝরাতে হয়নি কাতারকে। বৈরি আবহাওয়া, আধুনিক অবকাঠামোর অভাব, শুরু থেকেই এমন কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির সামনে। কয়েক বছরের মাথায় সবাইকে অবাক করে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ মঞ্চায়নে প্রস্তুত কাতার।
মূলত মরুভূমিতে ঘেরা কাতারে এখন রোমাঞ্চের ছড়াছড়ি। বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রায় ১২ লাখ অতিথিকে স্বাগত জানাতে তোড়জোড় চলছে দেশটিতে। সাজিয়ে তোলা হচ্ছে রঙিন আলোয়। এতসব আয়োজন 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে।