প্রথমবারের মত কাতারে হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। ইতিমধ্যে দেশটির সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চল বিমান ভ্রমণ, পর্যটন এবং আতিথেয়তা শিল্পে এক ধরনের প্রস্তুতি তৈরি হয়েছে।
মাসব্যাপী চলা এই টুর্নামেন্টের সময় ১.২ মিলিয়ন দর্শকের আগমন দেশটির অর্থনীতিতে ১৭ বিলিয়ন ডলার যোগ করবে।
পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়া আসর দেখার জন্য দেশটির হোটেলগুলোতে কিছুদিনের মধ্যে দর্শকরা ভিড় জমাতে শুরু করবেন।
আয়তনে ছোট হওয়ার ফলে সেখানকার হোটেলগুলোতে বিশ্বকাপ দেখতে আসা দর্শকদের তুলনায় কক্ষের সংখ্যা কম।
এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার হোটেল কক্ষের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির পর্যটন কর্তৃপক্ষ।
এই সংখ্যা দর্শনার্থীদের তুলনায় কম হওয়ায় কেউ কেউ অন্য কোথাও হোটেলের অনুসন্ধান করছেন।
অন্যদিকে ঘাটতির কারনে দাম ও বাড়ছে খুব দ্রুত গতিতে। ভাড়া ইতিমধ্যে তিন থেকে চার গুণ বেড়ে গেছে বলে বিশ্বকাপের প্রভাব অনুভব করতে পারছেন সেখানকার লোকজন।
কাতারে আসা ফুটবল অনুরাগীদের জন্য আয়োজকরা ইতিমধ্যে দুটি ক্রুজ জাহাজ লিজ নিয়েছে এবং মরুভূমিতে ১,০০০টিরও বেশি তাঁবু স্থাপন করেছে।
এবারই অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম বিশ্বকাপ। তাই অনেক দর্শক ম্যাচগুলো দেখাকে জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা হিসাবেও দেখছে।
চাপ সামাল দিতে এরই মধ্যে মাস্কাট, রিয়াদ, জেদ্দা এবং কুয়েত সিটি সহ অন্যান্য আঞ্চলিক শহরগুলোর সঙ্গে দোহাকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষ করে ওমান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছাকাছি দেশগুলো ভাল ব্যবসা করবে বলেও আশা করছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।
কিছু কিছু বিমান কোম্পানি রীতিমত বিশেষ ফ্লাইটের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে সর্বাধিক অতিথি গ্রহণের জন্য।
সব মিলিয়ে একটি সত্যিকারের এয়ার ব্রিজ তৈরি করা হচ্ছে। যাতে করে প্রতিদিন শুধু দোহা এবং দুবাই শহরের মধ্যে দিনে ৬০ থেকে ৮০টি ফ্লাইট যাতায়াত করতে পারবে।
দুবাই বিমানবন্দরের সিইও পল গ্রিফিথস সম্প্রতি বলেন- দুবাই বিশ্বকাপের ‘প্রধান গেটওয়ে’ হবে। দোহার চেয়ে আমিরাতের মাধ্যমে কাতারে প্রবেশের সম্ভাবনা আর সুবিধা অনেক বেশি।
তাছাড়াও কাতারে হোটেলের ধারণক্ষমতা মোটামুটি সীমিত থাকায় আমিরাতে বেশ চাপ থাকবে। ইতিমধ্যেই দেশটির হোটেল গুলোর অধিকাংশ বুকিং হয়ে গেছে ।
ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলোর চাহিদা উর্ধগতি হবার পরও তারা আশাবাদী মাসব্যাপি সেখানকার ১০০ শতাংশ হোটেলই বুকিং থাকবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি গুলো ‘দুবাই এক্সপেরিয়েন্স’ প্যাকেজের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিকভাবে ইউকে, দক্ষিণ আমেরিকা, মেক্সিকো, ভারত এবং চীন থেকে যাওয়া ফুটবল ভক্তদের দুবাই ভ্রমনের আগ্রহ আছে বলে জানা যায়।
দুবাইয়ের গেস্ট হসপিটালিটির প্রধান নির্বাহী এবং প্রতিষ্ঠাতা নাইম মাদ্দাদ জানান, ‘এই অঞ্চলে বিশ্বকাপের মতো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট সংঘটিত হওয়ায় নিঃসন্দেহে সংযুক্ত আরব আমিরাত অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে।
তাছাড়াও বিশ্বকাপের টিকিট যাদের কাছে আছে তাদের জন্য এখান থেকে মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসার ব্যবস্থা কোড়ছে তারা। পুরো শহরজুড়ে তৈরি করা হচ্ছে অসংখ্য খাদ্য ও পানীয়ের আউটলেট
কাতার বিশ্বকাপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সচেতনতা বাড়াবে। পৃথিবীর খুব বেশি সংখ্যক পর্যটক কখনোই এই অঞ্চলে ভ্রমনে আসেনি।
তবে এই টুর্নামেন্ট তাদের একত্রিত করবে। বিশ্বকাপের পর এই অঞ্চলের আকর্ষণ আরও বাড়বে। কাতার কিংবা আরব আমিরাত ছাড়াও পুরো মধ্যপ্রাচ্য পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত লাভ করবে।