২০১৯ বিশ্বকাপে দল ঘোষণার পর দলে সুযোগ না পেয়ে মিরপুরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন পেসার তাসকিন আহমেদ।
বিমর্ষ তাসকিন সেদিন বলেছিলেন ঘুরে দাঁড়াবেন তিনি। ফিরে আসবেন নতুন রুপে। কথা রেখেছেন তাসকিন।
জাতীয় দলে স্থায়ী ভাবে জায়গা নেওয়ার পাশাপাশি আইপিএল সহ বিভিন্ন ফ্রাঞ্চাইজী লীগেও এখন ডাক পাচ্ছেন তিনি।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ারলীগে দূর্দান্ত পারফর্ম করে নির্বাচকদের নজরে আসেন তাসকিন আহমেদ। ২২ গজে গতির ঝড় তোলা এই ডানহাতি পেসার ২০১৪ সালে মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তার।
বৃষ্টি বিঘ্নিত ওই ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে শুরুতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি। পেস বোলারদের আদর্শ উচ্চতা ও নিঁখুত লাইন-ল্যান্থে বোলিং করতে পারার দক্ষতা মুগ্ধ করে সবাইকে।
অন্যদিকে তাসকিন ও হতাশ করেননি। নিয়মিতই দলের পক্ষে কার্যকর বোলিং করে যাচ্ছিলেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৫ বিশ্বকাপে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯ উইকেট লাভ করেন তাসকিন।
এরপর ২০১৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও আইসিসি কর্তৃক বোলিং অ্যাকশন অবৈধ বিবেচিত হওয়ায় টূর্ণামেন্ট থেকে বাদ পড়তে হয় তাকে।
নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে পুরোনো রুপে ফিরতে পারেননি তাসকিন। টানা অফ ফর্মের কারণে ২০১৭ সালে ওডিআই এবং ২০১৮ সালে টি-টুয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েন তিনি।
বিশেষ করে ২০১৯ বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ার পর নিজের ফিটনেস ও বোলিং উন্নতিতে কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন তাসকিন।
প্রায় দুই বছর মাঠের বাইরে থাকার পর ২০২১ সালে পুনরায় ওডিআই ও টি-টুয়েন্টি একাদশে সুযোগ পান তিনি।
এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তাসকিন আহমেদ-ই পেস বোলিং বিভাগে দলের সেরা অস্ত্র। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই সমানে পারফর্ম করে যাচ্ছেন তিনি।
কঠোর পরিশ্রম ও দারুণ ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি স্বরূপ ডাক পেয়েছেন আইপিএলে! যদিও বাংলাদেশের সিরিজ চলমান থাকায় আইপিএল খেলতে যাননি তিনি।
এছাড়া আবুধাবি টি-টেন লীগেও দল পেয়েছেন তাসকিন।
বল হাতে দলে অবদান রাখার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতেও চমক দেখাচ্ছেন তাসকিন। গত বছর টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছন ৭৫ রানে দূর্দান্ত এক ইনিংস।
টি-টুয়েন্টি কিংবা ওডিআইতে শেষ দিকে ব্যাট করতে নেমে দারুণ কিছু ক্যামিও ইনিংসও মাঝে মধ্যে উপহার দেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
অন্যদিকে, কাটার মাস্টার স্বীকৃতি পাওয়া মোস্তাফিজুর রহমান যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। একসময় যে মুস্তাফিজ বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইন-আপকে একাই কাঁপিয়ে দিতেন, সেই মুস্তাফিজ এখন যেন পাড়ার বোলার।
চলতি বছর ১২ ম্যাচে ৩৯ ওভার বোলিং করে মুস্তাফিজ পেয়েছেন মাত্র ৮ উইকেট! এসময় তার বোলিং গড় ৪২ এবং ইকোনমি রেট ৯ এর কাছাকাছি!
অথচ গত বছরও ২০ ম্যাচে ৭০ ওভার বোলিং করা দ্যা ফিজের বোলিং গড় ছিলো মাত্র ১৭। ওভার প্রতি সাত রান খরচায় ওই বছর মুস্তাফিজ উইকেট নিয়েছিলেন ২৮ টি!
টেস্ট ক্রিকেট থেকে স্বেচ্ছা অবসরে থাকা এই বাঁহাতি পেসার টি-টুয়েন্টির মতো ওডিআইতেও বোলিং করছেন ছন্নছাড়া।
চলতি বছর ১১ ম্যাচে ৭৮ ওভার বল করে ২৮ গড়ে উইকেট পেয়েছেন মাত্র ১২টি।
অসীম প্রতিভাধর মুস্তাফিজ ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটের মধ্য দিয়ে অভিষেক হয়। ওয়ানডে অভিষেক সিরিজে ১৩ উইকেট নিয়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়ের নায়ক তিনি।
দূর্দান্ত পারর্ফম্যান্সের কারণে ডাক পান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে। একমাত্র বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ২০১৬ আইপিএলে অরেঞ্জ ক্যাপ জেতার রেকর্ড করেন তিনি।
একই বছর কাউন্টি খেলতে গিয়ে দেখা দেয় কাঁধের ইঞ্জুরি। অস্ত্রপাচারের পর পুরনো ফর্মে ফিরতে মুস্তাফিজের বছরখানেক সময় লাগবে বলে বলেছিলেন তার ডাক্তার।
এইজন্য ২০১৭ সালটা খুব বাজে ভাবে কাটান মুস্তাফিজ। ২০১৮ সালে আবার পুরনো ছন্দে ফিরে আসেন তিনি। ২০১৫ এরপর ২০১৮ তে আবারও আইসিসি ওডিআই বর্ষসেরা একাদশে জায়গা করে নেন ফিজ।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মুস্তাফিজের অফফর্ম কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট সমর্থকদের।
একসময় উইকেট না পেলেও রান না দিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ সৃষ্টি করা মুস্তাফিজ এখন রান ও দিচ্ছেন আবার উইকেট ও নিতে পারছেন না।
বিশেষ করে ফ্ল্যাট উইকেটে মুস্থাফিজের বোলিং যেন আরও নির্বিষ হয়ে যায়।
একদিকে কঠোর পরিশ্রম করে জাতীয় দলে ফিরে আসা তাসকিন অন্যদিকে প্রতিভাধর মুস্তাফিজের হেলায় বিশ্বসেরা হওয়ার সুযোগ নষ্ট করার দৃশ্য যেন পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খন্ডচিত্র।
এই সমস্যা থেকে দ্রুত বের হয়ে আসুক বাংলাদেশ এটাই সবার প্রত্যাশা!