জীবিকার তাগিদে জীবনে কত পথই বেছে নিতে হয়। সবাই সব পেশায় সফল হতে পারে না। তাই, ব্যর্থদের খুঁজতে হয় নতুন পথ, নতুন কোনো কাজ।
সেই কাজের সন্ধানেই ক্রিকেট ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান সুরজ রনদিভ। বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা এই লঙ্কান ক্রিকেটার পেট চালাতে এখন কাজ করছেন ড্রাইভার হিসেবে।
একসময় তাকে ভাবা হতো লঙ্কান ক্রিকেটের ভবিষ্যত। বেশ সম্ভাবনাময় এই স্পিনারের ক্যারিয়ারটা শেষ হয়েছে অল্পতেই। হতাশ মনে সব ছেড়ে জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়।
২০০৮-০৯ মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে ইনজুরি নিয়েও এক মৌসুমে ৪৩ উইকেট নিয়ে তাক লাগিয়ে দেন এই অফ স্পিনার। এরপরই তার সামনে খুলে যায় জাতীয় দলের দরজা।
তবে, রঙ্গনা হেরাথ আর অজন্তা মেন্ডিসের সময়ে জাতীয় দলে আসাটা যেনো কাল হয়ে দাঁড়ায় রনদিভের জন্য। দলে প্রায় আসা যাওয়ার মধ্যেই ছিলেন।
২০১১ বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও জায়গা পাননি তিনি। কিন্তু, ফাইনালের ঠিক আগ মূহুর্তে অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের ইনজুরি সুযোগ করে দেয় দলে প্রবেশের।
ওই বছর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ - আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলার সুযোগ পান এই অফ স্পিনার। এরপরই বদলে যায় তার ক্যারিয়ার।
অফ ফর্ম আর সাদামাটা পারফরম্যান্সে বাদ পড়েন দল থেকে। নিজের জায়গাটা জাতীয় দলে হয়তো আর দেখতে পাননি। তাই ভাগ্য নির্ধারনে অস্ট্রেলিয়ার বিমানে চেপে বসেন।
এরপর থেকে মেলবোর্নে ফরাসি প্রতিষ্ঠান ট্রান্সদেভের বাস ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছেন সাবেক এই লঙ্কান স্পিনার।
ট্রান্সদেভ কোম্পানিতে মোট ১২০০ জন শ্রমিক ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছেন। যার মধ্যে একজন রানদিভ। শুধু তিনিই নন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা আরো তিনজন রয়েছেন তার সাথে।
আছেন চিনথাকা জয়াসিংহে, ওয়াডিংটন মোয়ায়েঙ্গার মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলা ক্রিকেটারও। চিনথাকা জয়াসিংহে শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের হয়ে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন।
জিম্বাবুয়ে জাতীয় দলের সাবেক পেসার ওয়াডিংটন মোয়ায়েঙ্গা ২০০৫-০৬ সেশনে জিম্বাবুয়ের হয়ে এক টেস্ট ও তিন ওয়ানডে খেলেছেন।
ক্রিকেটকে একেবারেই ভুলে গেছেন এমনটাও নয়। ড্রাইভিংয়ের পাশাপাশি অবসর সময়ে এখনো ক্লাব ক্রিকেটে খেলছেন তারা।
ভিক্টোরিয়া প্রিমিয়ার ক্রিকেটের অধিভুক্ত ডানডেনং ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলছেন রানদিভ। এই ক্লাবটি অস্ট্রেলিয়ার অঞ্চল ভিত্তিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে থাকে।
যে দলে খেলেছেন জেমস প্যাটিনসন, পিটার সিডল, সারাহ এলিয়ট সহ আরো কিছু জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটার। সেখানেই অবসর সময়ে ব্যাট-বল তুলে নেন সাবেক এই স্পিনার।
রানদিভ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলেছেন ১২ টি টেস্ট ম্যাচ। ৩.০৭ ইকোনমিতে নিয়েছেন ৪৩ টি উইকেট! ওয়ানডে ৩১ ম্যাচে ৫.০৬ ইকোনমিতে ৩৬ ও টি-টোয়েন্টিতে সাত ম্যাচে ৬.৬১ ইকোনমিতে নিয়েছেন ৭ উইকেট।
ভাগ্য বদলানোর চেষ্টায় শ্রীলঙ্কা থেকে উড়াল দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। ভাগ্য বদলেছে কি-না সেটা রনদিভই ভালো জানেন।
ক্রিকেটে নিজের শেষটা হয়তো দেখে ফেলেছিলেন, বাইশ গজে ভবিষ্যতটা অন্ধকার সেটাও আঁচ করে ফেলেছিলেন। তাই বলটা মাটিতে ফেলেই তিনি ধরেছেন বাসের স্টিয়ারিং।
রনদিভের মতোই হাল সাবেক অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার জ্যাভিয়ের ডোহার্টির। এই বাঁহাতি স্পিনার ২০১৫ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে। এরপর সংসার চালাতে ক্রিকেট ছেড়ে ধরে কাঠ মিস্ত্রির কাজ।
ডোহার্টি এখন কাঠ মিস্ত্রি আর রনদিভ বাস ড্রাইভার। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! বিশ্বমঞ্চ থেকে দুই ক্রিকেটারই এখন নিজ দেশের ক্রিকেট থেকে অনেক দূরে!
ক্রিকেটে কেউ তারকা বনে গিয়ে হয়েছেন অঢেল সম্পদের মালিক। কেউ আবার ছিটকে গিয়ে আর ফিরতে পারেননি। হতাশা নিয়েই বিদায় জানিয়েছেন ক্রিকেটকে!