ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা আর ভিন্ন রকম আমেজ। দুই দেশের ম্যাচ মানেই মর্যাদার লড়াই। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এই লড়াই ছাপিয়ে যায় মাঠের বাইরেও।
অবশ্য বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই যেন একপেশে লড়াই। এই মঞ্চে ভারতের একচেটিয়া আধিপত্যে এখন লাগাম টানার লড়াইটা পাকিস্তানের।
১৯৯২ সালে ইমরান খানের পাকিস্তান বিশ্বকাপ ঘরে তুললেও ভারতের কাছে হার নিয়ে মাথা নিচু করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছিলো তাদেরকে। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত খেললেও ভারতের কাছে পাত্তাই পায়নি ইমরান বাহিনী।
সেই থেকে শুরু। এরপর থেকেই বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিপক্ষে পদে পদে হোঁচট খেয়েছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াইটা সমর্থকদের কাছেও হয়ে উঠেছিলো একপেশে।
১৯৯২ থেকে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে মোট ১৩ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এরমধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে পাকিস্তান।
বাকি সব ম্যাচেই ভারতীয়দের দাপটে মুখ থুবড়ে পড়েছে এশিয়ার অন্যতম সেরা এই দল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারের শুরুটা অবশ্য ২০০৭ থেকে।
সেবার ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়েই প্রথমবার শিরোপা জয় করে ভারত। এরপর ২০১২, ২০১৪ ও ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে পাত্তা মেলেনি পাকিস্তানের।
ত্রিশ বছরের আক্ষেপ নিয়ে ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আসে পাকিস্তান। এবারও অনুমেয় ছিলো ভারতের সামনে পাত্তা পাবে না দলটা।
ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের কয়েকজন তো ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ' পাকিস্তানের বিপক্ষে সহজ জয়ই পাবে তাদের টিম। ' তবে, সব প্রেডিকশন আর সমীকরণকে মিথ্যা প্রমান করে সেবার প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে ভারতকে হারায় পাকিস্তান।
১৩তম বারের চেষ্টায় বাবর-রিজওয়ানদের হাত ধরে জয় পায় পাকিস্তান। মরুর বুকে দুবাইতে দশ উইকেটের বিশাল জয়ে ভারতকে মাটিতে নামিয়ে আনে বাবর বাহিনী।
চলতি বছর এশিয়া কাপেও পাকিস্তানের কাছে হেরেছে ভারত। যদিও প্রথম দেখায় পাকিস্তানকে হারিয়ে গেলো বিশ্বকাপে হারের শোধ তুলেছিল তারা। তবে, পরের দেখায় একই টুর্নামেন্টে জয় দিয়ে আবারো আধিপত্য দেখায় বাবর বাহিনী।
তবে, সব পরিসংখ্যান একপাশে রেখে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই দুই চিরপ্রতিপক্ষ। ২৩ অক্টোবর ঐতিহাসিক মেলবোর্নে দেখা যাবে দুই দলের মহারণ।
পাকিস্তান ভাবতেই পারে, বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিপক্ষে তাদের ওপর যে অভিশাপ ভর করতো, তা গত আসরে ছুটে গেছে। এবারের আসরে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছে পাকিস্তান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন অবধি দুই দলের ছয় বারের দেখায় পাঁচ বারই জয় পেয়েছে ভারত। বিপরীতে, এক জয় পাকিস্তানের।
দলটির শক্তিশালী বোলিং লাইন আপের সাথে বাবর-রিজওয়ানের দুর্দান্ত ফর্ম এবারও চিন্তার ভাজ ফেলছে ভারতীয়দের কপালে।
গেলো আসরের হারের ক্ষত ভুলে ভারত কি জিততে পারবে? রোহিত বাহিনীও নিশ্চয় মরিয়া হয়ে উঠবে প্রতিশোধের নেশায়। যে করেই হোক, ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে।
নাকি গেলো আসরের মতো আবারো মুখ থুবড়ে পড়বে ভারত। হার-জিতের ব্যবধানটা কি আরেকটু কমিয়ে আনতে পারবে পাকিস্তান?
এতো সব ভাবনার মাঝে উঁকি দিচ্ছে বৃষ্টিও। আবহাওয়ার অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী মেলবোর্নে সেদিন সম্ভাবনা আছে বৃষ্টি হওয়ার।
ভেস্তে যেতে পারে পুরো ম্যাচ, সেই শঙ্কাও আছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের এতো দিনের আশা আর রোমাঞ্চ কি ভেসে যাবে বৃষ্টির পানিতে?
নাকি আকাশের কালো মেঘ সরিয়ে দেখা দিবে সূর্যের আলো। ঝলমলে সেই আলোয় রোমাঞ্চকর এক ম্যাচের অপেক্ষায় যে কোটি কোটি ক্রিকেট সমর্থক।