পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের অন্যতম ভরসা মোহাম্মদ রিজওয়ান। অসাধারণ ব্যাটিং এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অবদান রাখছেন দলের জয়ে।
ব্যাটিং পারদর্শীতার পাশাপাশি রিজওয়ানের ধর্মপ্রাণ রূপও মাঝেমাঝেই আসছে ক্যামেরার সামনে। সম্প্রতি তেমনই এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেটিতে দেখা যাচ্ছে মেলবোর্নের একটি মসজিদে বয়ান দিচ্ছেন রিজওয়ান।
সদা হাসোজ্জ্বল এই ব্যাটারের ধর্ম-প্রেমের গল্প এখন সবারই জানা। রিজওয়ান বরাবরই সবকিছুর উপর ধর্মকে স্থান দেন। ধর্মের আদেশের সামনে নতশির থাকেন বরাবরই।
খেলার মাঝে নামাজরত অবস্থায় প্রায়ই দেখা যায় তাকে। সতীর্থরা যখন সোশাল মিডিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তখন রিজওয়ানকে দেখা যায় কোরআন পাঠ করতে। কিছুদিন আগেই ভাইরাল হওয়া এক ছবিতে দেখা গিয়েছিল সবাই যখন খোশগল্প আর মোবাইলে ব্যস্ত, রিজওয়ান তখন পাঠ করছেন পবিত্র কোরআন।
রিজওয়ান তার ধর্মের এই জ্ঞান কেবল নিজের ভেতরেই জমাট করে রাখেন না। তা ছড়িয়ে দেন মানুষের ভেতরেও। ভালো জ্ঞান মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হলো সাদকা। এই সাদকায় জারিয়াহ এমন জিনিস যা মানুষের মৃতের পরও তার নেক আমলে যোগ হতে থাকবে। তেমনই ইসলামের জ্ঞানের আলো সুদূর প্রবাসেও ছড়িয়ে দিচ্ছেন রিজওয়ান।
এখন চলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বিশ্ব আসরে অংশ নিতে পাকিস্তান ক্রিকেট দল আছে অস্ট্রেলিয়ায়। দলের সাথে সেখানেই আছেন রিজওয়ান। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে একটি মসজিদে নামাজ পড়তে যান রিজওয়ান। সেখানেও মাইক্রোফোন হাতে দেখা যায় তাকে। উর্দু ভাষায় খুতবা দেন এই ধর্মপ্রাণ ক্রিকেটার। যা সাদরে গ্রহণ করেছে মুসলিম সমাজ। ক্রিকেটের শত ব্যস্ততার মাঝেও ধর্মকে এভাবে আকড়ে ধরে রেখে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
মানুষ সামান্য জাতে উঠলেই যেখানে জীবনের আসল উদ্দেশ্য ভুলে যায়, সেখানে রিজওয়ানদের মতো সফল ব্যক্তিরা বিনম্র হয়ে জীবনের আসল উদ্দেশ্য আকড়ে ধরে আছেন ঠিকই।
শুধু মেলবোর্নেই না, এর আগে ক্রাইস্টচার্চের একটি মসজিদেও বয়ান দিয়েছিলেন রিজওয়ান। ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার জন্য তখন পাকিস্তান দল ছিল নিউজিল্যান্ডে। বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান।
সেখানে রিজওয়ান বলেছিলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সুস্থ রেখেছেন, এটি আমাদের জন্য নেয়ামত। একটা সময় এই পৃথিবীতে কিছুই ছিল না। এরপর একে একে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের জন্য যা কল্যাণকর, তা সৃষ্টি করে সুন্দর এক পৃথিবী গড়ে দিয়েছেন। আমাদের আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদিও এখানে ক্রিকেট খেলতে এসেছি। আমাদের দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে এসেছি। আমাদের দায়িত্ব মাঠে শতভাগ দেয়া। সেইসাথে মনে রাখতে হবে আমাদের পরকালের জন্য দায়িত্ব রয়েছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে আমাদের সর্বোচ্চ দিতে হবে। এটাই আমাদের সবার আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।’
উল্লেখ্য, ২৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ মিশন। তবে এই ম্যাচে আছে বৃষ্টির শঙ্কা। ম্যাচটি মাঠে গড়ালে অবশ্যই রিজওয়ানের ব্যাটের দিকে পাকিস্তানসহ পুরো ক্রিকেট দুনিয়া।
গত বছর বিশ্বকাপে ভারতকে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিল পাকিস্তান। একপেশে সেই ম্যাচে দাপট দেখিয়েছেন বাবর ও রিজওয়ান। সম্প্রতি এশিয়া কাপে দুই বার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। দুইটি ম্যাচে দুই দল জিতেছে। তবে মজার বিষয় দুই দলেরই জয় ছিল পাঁচ উইকেটের ব্যবধানে। এবার বিশ্বকাপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব।