বিশ্বকাপে অংশ নিতে আর কোনো বাঁধা থাকলোনা ব্রাজিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রের। কর ফাকি ও প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তি দিয়েছে স্পেনের একটি আদালত।
সান্তোস থেকে ব্রাজিলিয়ান তারকার বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছেন স্পেনের প্রসিকিউটররা। যার কারণে এখন বেশ স্বস্তিতেই আছেন এই ফুটবল তারকা।
নেইমার ছাড়াও মামলায় বিবাদী করা হয় তার বাবা, মা, সংশ্লিষ্ট দুই ক্লাব প্রেসিডেন্ট - সাবেক বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট জোসেপ মারিয়া বার্তেমেউ, সান্দ্রো রসেল এবং সাবেক সান্তোস প্রেসিডেন্ট ওদিলিও রদ্রিগেসকে।
২০১৩ সালে নেইমার ক্যাম্প ন্যুতে আসলেও তার সঙ্গে ২ বছর আগেই ২০১১ সালে চুক্তি করে রাখে বার্সেলোনা। চুক্তির অর্থ ৫৭.১ মিলিয়ন ইউরো বলেও উল্লেখ করেছিলো বার্সা কর্তৃপক্ষ।
যার মধ্যে ৪০ মিলিয়ন ইউরো নেইমারের পরিবার এবং ১৭ মিলিয়ন ইউরো তার ক্লাব সান্তোস নিয়েছে বলে মামলার প্রতিবেদনে জানানো হয়।
কিন্তু নেইমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে দাবি করা হয় যে, চুক্তির অর্থ ছিল লিখিত অঙ্কের চেয়ে আরও বেশি। চাপে পড়ে পরে অবশ্য বার্সেলোনা স্বীকার করে, খেলোয়াড় ও তার বাবার সঙ্গে অন্যান্য চুক্তির কারণে ট্রান্সফার ফি বেড়ে ১০ কোটি ইউরোর কাছাকাছি হয়ে যায়।
আনিত অভিযোগে বলা হয়েছে চুক্তির অলিখিত অঙ্ক থেকে ৮.৫ মিলিয়ন ইউরো কর ফাঁকি দিয়েছেন নেইমার। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিলো নেইমারের বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার মূল ট্রান্সফার ফি গোপন করে তাদেরকে ঠকানো হয়েছে।
এই ব্রাজিলিয়ান তারকা আর বার্সেলোনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরকারী প্রতিষ্ঠান ব্রাজিলের বিনিয়োগকারী সংস্থা ডিআইএস।
অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে ২০১৭ সালে স্পেনের উচ্চ আদালতে আপিল করেছিলেন নেইমার। কিন্তু সেই আপিলের রায়ে তিনি হেরে যাওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয় নতুন করে।
বার্সেলোনা ছেড়ে ২০১৭ সালেই পিএসজিতে চলে যান নেইমার। তবে বিচার-প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে গত সপ্তাহে ফের বার্সেলোনার আদালতে দাঁড়াতে হয় তাঁকে। সেখানে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয় বিচারিক কার্যক্রম।
গত ১৬ অক্টোবর পিএসজি তারকা স্পেনের আদালতে হাজিরা দেন। শুনানিতে বলেন যে, তিনি চুক্তির বিষয়ে বেশি কিছু জানেন না। বাবার সাথে কথা বলে সেই অনুযায়ী চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। তিনি শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছিল সেটা প্রমাণ হলে কমপক্ষে দুই বছরের জেল হতে পারতো। সঙ্গে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও দিতে হতো এই তারকাকে।
কাতার বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন একটি বিষয় নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে ছিলেন নেইমার। সেই সাথে খানিকটা দুশ্চিন্তায় ছিলো ব্রাজিলও। কারণ, জেল জরিমানা হলে তিনি বিশ্বকাপেই অংশ নিতে পারতেন না!
ব্রাজিল ও নেইমার স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়েছে সেটা বলাই যায়। স্প্যানিশ আদালত নেইমারের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছে। নেইমার কেবল একা নন, এই মামলায় অন্যান্য যারা জড়িত ছিলেন, তারাও মুক্তি পেয়েছেন।
আগামি ২০ নভেম্বর থেকে কাতারে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের এবারের আসরের। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠ মাতাবেন নেইমার জুনিয়র। গেলো আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে আটকে গেলেও কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে চায় সেলেসাওরা।
বিশ্বমঞ্চে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচবার শিরোপা জেতার কীর্তি আছে একমাত্র ব্রাজিলেরই। অবশ্য তাতে ক্ষুধা মেটেনি সেলেসাওদের। কাতার বিশ্বকাপে এবার তাদের চোখ ' মিশন হেক্সায় '।