আবারও ভারতের বিপক্ষে তীরে এসে তরী ডুবালো বাংলাদেশ। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৫ রানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ।
ফলে, সেমি-ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেলো সাকিব আল হাসানের দল। অন্যদিকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সেমি-ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখলো রোহিত শর্মারা!
অ্যাডিলেড ওভালে টস জিতে বোলিং এর সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দলের বোলিং গভীরতা বাড়াতে ওপেনার সৌম্য সরকারকে বাদ দিয়ে বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম কে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে শরিফুলের অন্তর্ভুক্তি কাল হয়ে দাঁড়ালো বাংলাদেশের জন্য। শুরু থেকেই ছন্নছাড়া বোলিং এর কারণে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা যেমন উইকেটে থিতু হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন অন্যদিকে স্কোর বোর্ডে জমা করেছেন বড় সংগ্রহ!
নিজের চার ওভারে ৫৭ রান দিয়ে কোন উইকেটের দেখা পাননি তিনি।
অন্যদিকে নিজের আগুণ ঝরানো বোলিং দিয়ে রোহিত, রাহুল, কোহলিদের সমীহ আদায় করে নিয়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ।
উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দেন এই ডানহাতি পেসার।
ইনিংসের তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে তাসকিনের বলে রোহিত শর্মা ক্যাচ তুলে দিলেও তা নিতে পারেননি হাসান মাহমুদ।
তবে পরের ওভারে এসেই রোহিত শর্মার উইকেট তুলে নিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ নিজেই।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে লোকেশ রাহুল ও বিরাট কোহলি মিলে গড়ে তোলেন ৩৭ বলে ৬৭ রানের জুটি। ব্যক্তিগত ৫০ পূর্ণ করার পর সাকিবের বলে মুস্তাফিজের তালুবন্দি হোন রাহুল।
এরপর সুরিয়া কুমার যাদবের সাথে ২৫ বলে ৩৮ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের ভীত গড়ে দেন বিরাট। ১৬ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান সুরিয়া কুমার।
পরবর্তি ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার ভীড়ে একটা প্রান্তে একাই লড়ে যান বিরাট কোহলি। ১টি ছয় ও ৮টি চারের সাহায্যে ৪৪ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত ইনিংসের উপর ভর করে ১৮৪ রানের বড় সংগ্রহ পায় ভারত।
বাংলাদেশের পক্ষে হাসান মাহমুদ ৪৭ রানের বিনিময়ে তিনটি এবং সাকিব ৩৩ রানের বিনিময়ে দুটি উইকেট লাভ করেন।
১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লিটন দাসের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি উড়িয়ে মাত্র ২১ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।
৭ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে ৬৬ রান তোলার পর শুরু হয় বৃষ্টি। ডার্ক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে তখন ১৭ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ।
বৃষ্টি থামলে ডি/এল মেথডে বাংলাদেশের জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ হয় ১৬ ওভারে ১৫১ রান। অর্থাৎ ৫৪ বল থেকে ৮৫ রান প্রয়োজন ছিলো বাংলাদেশের।
তবে বৃষ্টির পর ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যাদের। ইনিংসের অষ্টম ওভারে দূর্ভাগ্যজনক ভাবে রান আউটে কাটা পড়েন লিটন দাস।
ডিপ মিড উইকেট থেকে লোকেশ রাহুলের থ্রো সরাসরি স্টাম্প ভেঙ্গে দিলে ৩ ছয় ও ৭ চারে সাজানো লিটনের ২৭ বলে ৬৪ রানের নান্দনিক ইনিংসটির পরিসমাপ্তি ঘটে।
ধীর গতিতে ইনিংস শুরু করা শান্ত ২৫ বলে ২১ রান করে ফিরে গেলে আর কোন ব্যাটসম্যান উইকেটে এসে সেট হতে পারেননি।
শেষ দিকে নুরুল হাসান সোহানের ১৪ বলে ২৫ ও তাসকিন আহমেদের ৭ বলে ১২ রানের সুবাদে ১৪৫ রান সংগ্রহ করতে পারে বাংলাদেশ।
ভারতের পক্ষে আর্শদীপ সিং ও হার্দিক পান্ডিয়া ২ টি করে উইকেট লাভ করেন।
৬৪ রানে দূর্দান্ত ইনিংস খেলা বিরাট কোহলি প্লেয়ার অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হোন।
একই মাঠে আগামী ছয় নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।