একের পর এক চমক দেখাচ্ছে ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কার্তিক মেইয়াপানের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে এবারের আসরে হ্যাটট্রিক তুলে নিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের জশুয়া লিটল।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সুপার টুয়েলভে নিজেদের শেষ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েন এই বাঁহাতি পেসার।
হ্যাটট্রিক কীর্তির পথে তিনি শিকার করেছেন কেন উইলিয়ামসন, জিমি নিশাম ও মিচেল স্যান্টনারের উইকেট।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসের ষষ্ঠ বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন লিটল। ৪ ওভারে ২২ রানের বিনিময়ে শিকার করেন গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট। যদিও কিউই বোলারদের দাপটে আইরিশরা ৩৫ রানে হেরে বিদায় নেয় টুর্নামেন্ট থেকে।
এর আগে একই আসরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন আরব আমিরাতের লেগ স্পিনার কার্তিক মেইয়াপান।
পর পর তিন বলে ভানুকা রাজাপাকশে, চারিথ আসালাঙ্কা ও দাসুন শানাকাকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছিলেন তিনি।
অবশ্য সেই ম্যাচে জয় পায়নি আরব আমিরাত। লঙ্কান বোলারদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৭৯ রানের বিশাল পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
জশুয়া লিটল, মেইয়াপান ছাড়াও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরে আরো চার বোলার হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়েছেন। এর মাঝে গেলো আসরেই করেছেন ৩ জন।
২০২১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার কাগিসো রাবাদা। ৪ ওভারে ৪৮ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পথে ইয়ন মরগ্যান, ক্রিস ওকস ও ক্রিস জর্ডানের উইকেট নেন তিনি।
রাবাদার সেই ম্যাজিকেল ১৯ তম ওভারেই পালটে যায় ম্যাচের মোড়। ভিলেন হতে যাওয়া রাবাদা বনে যান ম্যাচের হিরো। শেষ পর্যন্ত প্রোটিয়াদের ১৮৯ রানের জবাবে ইংলিশরা ৮ উইকেটে ১৭৯ রান তুলতে সমর্থ হয়।
গেলো আসরে শ্রীলঙ্কার হয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। টেম্বা বাভুমা, এইডেন মার্করাম ও ডুয়াইন প্রিটোরিয়াসকে শিকার করেন এই স্পিনার।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক সহ মাত্র ২০ রানে ৪ উইকেট শিকার করেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি তিনি।
হাসারাঙ্গার দুর্দান্ত স্পেলের পরেও ডেভিড মিলারের ক্যামিওতে থ্রিলিং জয় পায় প্রোটিয়ারা। রেকর্ড গড়লেও আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়েন হাসারাঙ্গা।
শ্রীলঙ্কার করা ১৪২ রানের জবাবে এক বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এক অনন্য রেকর্ডে নাম লেখান আইরিশ পেসার কার্টিস ক্যাম্পফার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ও আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়েন তিনি। শুধু হ্যাটট্রিক করেই ক্ষান্ত হননি এই পেসার! চার বলে চার উইকেট শিকারের অনন্য কীর্তিও গড়েছেন।
রশিদ খান ও লাসিথ মালিঙ্গার পর তৃতীয় বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে চার বলে চার উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন। তবে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই ছিলো প্রথমবার চার বলে চার উইকেটের রেকর্ড!
২০০৭ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই হ্যাটট্রিক করেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার ব্রেট লি। সাবেক এই তারকা প্রথম বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে ৪ ওভারে ২৭ রানের বিনিময়ে শিকার করেন তিন উইকেট। হ্যাটট্রিকের পথে নেন সাকিব আল হাসান, মাশরাফি মুর্তজা ও অলোক কাপালির উইকেট।
সেই ম্যাচে বাংলাদেশের করা ৮ উইকেটে মাত্র ১২৩ রানের জবাবে ৯ উইকেট হাতে রেখে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। দাপুটে জয়ে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ব্রেট লি।
ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট টি-টোয়েন্টি। মাত্র ১২০ বলের খেলায় ব্যাটারদের রাজত্বই দেখা মিলে সবসময়।
সেই দাপটের মাঝে গুটি কয়েক বোলার আধিপত্য বিস্তার করে ছোট ফরম্যাটের তারকা বনে যান। নাম লিখান ইতিহাসের পাতায়।
জশুয়া লিটল, কার্তিক মিইয়াপান, কার্টিস ক্যাম্পফার, ওয়ানিন্দু হাসারাঙা, কাগিসো রাবাদা ও ব্রেট লি'রাও এভাবেই জায়গা করে নিয়েছেন রেকর্ড বইয়ে।
এমনকি এখন অবধি কোনো দলের বিপক্ষে দুইবার হ্যাটট্রিকের রেকর্ড নেই। ৬ বোলার ৬ ভিন্ন দেশের হয়ে ৬ বার হ্যাটট্রিক উইকেট শিকার করেছেন।