টি টুয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপের গুরুত্বপুর্ন ম্যাচে সাউথ আফ্রিকাকে বৃষ্টি আইনে ৩৩ রানে হারিয়ে সেমির লড়াইয়ে ফিরেছে ধুকতে থাকা পাকিস্থান।
বৃষ্টি বিঘ্নিত এ ম্যাচে আগে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নিয়ে ১৮৫ রানের পুজি পায় পাকিস্থান। এরপর ডিএল মেথডে ১৪২ রানের টার্গেটে ১০৮ করতে সক্ষম হয় প্রোটিয়ারা।
অপরদিকে দলটির জয়ে কপাল খুলেছে টিম বাংলাদেশের। শেষ ম্যাচে পাকিস্থানকে হারালে বাংলাদেশও টিকে থাকবে সেমির লড়াইয়ে।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাঊন্ডে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্থান অধিনায়ক বাবর আজম। বোলিং এ নেমেই বাজিমাত করে সাউথ আফ্রিকান বোলারেরা।
দলীয় ৫০ রান পেরুনোর আগেই তারা তুলে নেয় পাকিস্থানের চার উইকেট। পুরো বিশ্বকাপের মত এদিন ও ফ্যাকাশে ছিল রিজোয়ান এবং বাবরের উইলো।
তবে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন ফখর জামানের পরিবর্তে দলে আসা মোহাম্মদ হারিস। ১১ বলে ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে তিনিও বিদায় নিলে শংকা জাগে দ্রুতই অলাআউটের।
দলটা পাকিস্থান, বলা হয়ে থাকে মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল টিম ইন ক্রিকেট। শুরু হয় ইফতেখার এবং নাওয়াজদের প্রতিরোধ। তবে দলের রান এগুচ্ছিল ঢিমেতালে।
২২ বলে ২৮ করে নাওয়াজ আউট হলে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে প্রবেশ করেন বোলার থেকে ব্যাটার বনে যাওয়া শাদাব খান।
এরপরে মাঠে একপ্রকার চার ছক্কার টর্নেডো বইয়ে দেয় ইফতেখার এবং শাদাব জুটি। এই দুইজনের জুটি থেকে আসে ৮৩ রান।
একসময় মনে হচ্ছিল রান পেরিয়ে যাবে দুশো। তবে শেষ দুই ওভারে আবারো ব্যার্থ পাকিস্থানি ব্যাটারেরা। আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ৫২ রান করেন শাদাব।
৪ ছক্কা- ৩ বাউন্ডারির এই ইনিংস আগেরদিনে করা লিটনের রেকর্ড ভেঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব কাপে দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটির স্থান।
তার স্ট্রাইক রেট ছিল প্রায় ২৩৭। দেড়শ স্ট্রাইক রেটে ইফতেখারও করেন ফিফটি। ১৮৫ রানের জবাবে মাঠে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে আফ্রিকানরা।
শাহীন আফ্রিদি প্রথম স্পেলেই তুলে নেন ফর্মে থাকা কুইন্টন ডি কক এবং রাইলি রুশোর উইকেট। তবে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন দীর্ঘদিন অফ ফর্মে থাকা টেম্বা বাভুমা।
এরপরই বাদ সাধে বৃষ্টি। বৃষ্টি শেষে প্রোটিয়াদের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ১৪ ওভারে ১৪২ রানের। নতুন করে মাঠে নামলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সাউথ আফ্রিকা।
শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ১০৮ রান করতে সক্ষম হয় আফ্রিকা। এদিন মাঠে নামেননি আরেক ফর্মে থাকা খেলোয়াড় ডেভিড মিলার।
এই ম্যাচ জয়ে বাংলাদেশের সমান চার নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিনে উঠে এসেছে পাকিস্থান। এক ধাপ নেমে চারে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
যথারীতি ছয় পয়েন্ট নিয়ে ইন্ডিয়া অবস্থান করছে সবার উপরে। ৫ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে সাউথ আফ্রিকা।
জিম্বাবুয়ে এবং নেদারল্যান্ড আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়লেও এবারে সম্ভবনার দুয়ার খুলেছে টিম টাইগার্স এবং পাকিস্থানিদের জন্যে।
পরের ম্যাচে সাউথ আফ্রিকা যদি নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে হারে তবে পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের জয়ী দল ভারতের সঙ্গে সেমিফাইনালে যাবে।
অপরদিকে ভারত যদি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারে এবং পাকিস্থান বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়লাভ করে তাহলে সেমিফাইনালে যাবে সাউথ আফ্রিকা।
ভারতের হারের এই জটিল সমীকরনে বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে উঠতে হলে পাকিস্থানকে হারাতে হবে বিশাল ব্যবধানে।
অর্থাৎ শুধু নিজেদের জয় নিশ্চিত নয় সেই সাথে পাকিস্থান এবং বাংলাদেশকে প্রার্থনা করতে হবে ভারত কিংবা সাউথ আফ্রিকার হারের।
অর্থাৎ অংকের হিসেবে এখনো সেমিফাইনালের দরজা খোলা আছে বাংলাদেশের জন্যে, তবে তা কতটা বাস্তবসম্মত সময়ই বলে দেবে।