গ্রুপের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আগামী ৬ নভেম্বর এই অ্যাডিলেড ওভালে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
গত বুধবার ভারতের কাছে বৃষ্টি আইনে ৫ রানে হেরেছেন সাকিব আল হাসান বাহিনী। ফলে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে গেছে।
শেষ চারে নাম লেখাতে হলে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। শক্তিমত্ত্বার বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে ঢের এগিয়ে পাকিস্তান।
বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ কোনও টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পেয়েছে ছয় বছর আগে।
গত ছয় বছরে ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ছয়টিতেই বেশ ভালো ব্যবধানে পাকিস্তান বাংলাদেশকে হারিয়েছে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মোট ১৭ বার একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে এ দু'দল। এর মধ্যে ১৫ বারই জিতেছে বাবর আজমের পাকিস্তান। অন্যদিকে বাংলাদেশ জিততে পেরেছে মাত্র দুটি ম্যাচে।
টি-টোয়ান্টির এবারের আসরেও মোটামুটি ভালো অবস্থানেই আছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।
নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে সম্ভাবনা জাগিয়েও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর শেষ ওভারে হেরেছে তারা। এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচ খেলে ২ জয়ের বিপরীতে ২টি হার দেখেছে বাবর আজমের দল।
বাংলাদেশও ৪টির মধ্যে জয় পেয়েছে ২টিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ের ফলে গ্রুপ-২ এর টেবিলে পাকিস্তান আর বাংলাদেশের পয়েন্ট হল সমান চার। তাই আগামী ম্যাচটি দু'দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান এই দুই ওপেনারের ওপর নির্ভর করতো ম্যাচ। তখন তাদের মিডল অর্ডার কতটা পরীক্ষিত, সেটা নিয়ে একটা প্রশ্ন ছিল।
কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে হয়েছে তার উল্টোটা। টপ অর্ডার থেকে পাকিস্তান বড় রান পায়নি বললেই চলে।
ছন্দহীনতা, অধিনায়কত্ব, দল নির্বাচনসহ নানা কারণে সমালোচনার মুখে আছেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গত ম্যাচে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার, লেট মিডল অর্ডারের সামর্থ্যটাও সামনে এল।
বোলিংয়েও ভালো করছে পাকিস্তান। এ আসরে শাদাব, শাহিন, নাসিম কিংবা মোহাম্মদ ওয়াসিম দূর্দান্ত বোলিং করছেন।
অন্যদিকে সুপার টুয়েলভের শেষ ম্যাচে জয় পাওয়ার মতো মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান, বোলার বাংলাদেশ দলে আছে বলে মনে করছে টাইগাররা।
বিশেষ করে চলতি আসরে তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। বোলিংয়ে মুস্তাফিজও ভালো করছেন।
এছাড়া সুপার টুয়েলভের শেষ ম্যাচটিকে তুলির শেষ আঁচড়ে দলকে জয়ে রাঙিয়ে দিতে হচ্ছেন বদ্ধপরিকর ছন্দে থাকা লিটনও।
তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে শুধু জয় নয়, রানরেটের কথাও সাকিবদের মাথায় রেখে বড় রানের ব্যবধানে জয় পেতে হবে।
কারন রানরেটে ভারতের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলাদেশ। শুধু ভারত নয়, গ্রুপের ভেতর সবচেয়ে খারাপ রানরেট সাকিবের দলের।
আপাতত ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে ভারত, দুইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ ম্যাচ বাংলাদেশ বা পাকিস্তান যেই জিতুক তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে ভারত-জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা-নেদারল্যান্ডস ম্যাচে।
ঐ দুই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা আর ভারত জিতলে তারাই যাবে সেমিতে। এর বিপরীত কিছু ঘটলে হলে বাংলাদেশ অথবা পাকিস্তান উঠে যাবে।
তবে সেমিফাইনালের কঠিন সমীকরণের মারপ্যাঁচ নিয়ে ভাবনা নেই বাংলাদেশের। বরং শেষ ম্যাচ জিতে ভালোভাবেই বিশ্বকাপ মিশনে সমাপ্তি টানতে চাইছে টাইগাররা।
এবারই প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে সরাসরি সুপার টুয়েলভ পর্বে খেলছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে হারাতে পারলে সাকিবরা দুর্দান্ত এক বিশ্বকাপ সমাপ্ত করবেন।
জেতার পর সেমিফাইনালের সমীকরণ কি ঘটবে সেই চিন্তার চেয়ে বরং এখন জয় দিয়ে শেষ করার আশা পূরণ হওয়াটাই মূল লক্ষ্য।
সেক্ষেত্রে ৩ জয়ে বিশ্বকাপ শেষ করে নিজেদের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ মিশন সমাপ্ত করবেন সাকিবরা।