বিশ্বকাপ পরবর্তী ফুটবল থেকে বিদায় নেয়া পাঁচ মহা তারকা
কাতার বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এখনিই সেই উত্তেজনায় মাতোয়ারা সারা পৃথিবীর লাখ-লাখ ফুটবল প্রেমী মানুষ।
কিন্তু সেই সাথে অনেকের জন্য হতাশার বানী হচ্ছে, এই বিশ্বকাপে পাঁচ জন আন্তর্জাতিক সুপারস্টার ফুটবলার বিদায় জানাবে ফুটবলকে।
সেই তালিকা সর্বপ্রথমে আছেন, সারা পৃথিবীর ফুটবল ইতিহাসে প্রায় একযুগ ধরে দাপটে থাকা ম্যাজিক্যাল ফুটবলার মহাতারকা লিওনেল মেসি।
এই জাদুকরের বিদায় নেয়ার ব্যাপারটা অবশ্য পূর্ব ঘোষিত। আর্জেন্টাইন সুপারস্টার আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর তিনি সরে যাবেন ফুটবল ময়দান থেকে।
এখন পর্যন্ত ফুটবল বোদ্ধা আর সমালোচকদের কাছে পঁয়ত্রিশে পা দেয়া মেসির সেরা ছিল ২০১৪ এর বিশ্বকাপ। সবাই ভাবছে আসন্ন কাতার বিশ্বকাপে কি করবে এই প্রিয় তারকা।
তবে ফিফা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও, পৃথিবীর ফুটবল গড খ্যাত ম্যারাডোনার মত লিও মেসিও থেকে যাবে তার অনুরাগীদের মনে।
তালিকায় পরবর্তীতে আছেন ফুটবলের আরেক যাদুকর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। মেসির মতোই বিশ্বকাপ আর পাবে না পর্তুগালের সেরা তারকা রোনালদোকে।
চোখ বন্ধ করলেই অনেকের সামনে এখনো ভেসে উঠবে রাশিয়া বিশ্বকাপে স্পেনের বিরুদ্ধে রোনালদোর ফ্রি কিকের সেই অসাধারণ গোল। যা মুগ্ধ করেছিলো সবাইকে।
ইউরো ২০১৬ তে পর্তুগালের জয়ের নায়ক ছিলেন রোনালদো। তাঁর অনুপস্থিতি অবশ্যই পর্তুগাল ফুটবল এবং তার দর্শকদের দারুন ভাবে নাড়া দিবে।
স্পেনের সেন্টার ব্যাক হিরো সার্জিও রামোসকে কাতার বিশ্বকাপের পর আর দেখা যাবে না ফুটবলের মাঠে।
চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন রামোস। জয় করেছেন ইউরোপিয়ান কাপ। ঘটনাটি বেদনাদায়ক হলেও এই তারকারও বিদায় হচ্ছে কাতার বিশ্বকাপ শেষে।
ম্যানুয়াল নয়ার গোল প্রহরী হিসাবে বহুদিন ধরে বিশ্বস্ততার প্রমান দিয়ে আসছেন জার্মানির পক্ষে। বিশ্বকাপ এর এই আসর শেষে তিনিও ফুটবল থেকে বিদায় নিচ্ছেন।
২০১৪তে গুটসের গোলে জার্মানি জিতেছিল বিশ্বকাপ। সেদিন আত্মপ্রত্যয় নিয়ে জার্মানির হয়ে গোল রক্ষা করেছিলেন ম্যানুয়াল নয়ার। তাঁর বিদায় নিঃসন্দেহে দারুন প্রভাব ফেলবে।
বিশ্বকাপ পরবর্তী সময়ে বিদায় নিতে যাওয়া আরেক ফুটবলার ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল জাদুকর লুকা মদরিচ।
ড্রিবলিংয়ে পারদর্শী মদরিচের স্পোর্টসম্যানশিপ আর দেখা যাবে না বিশ্বকাপে। এঁরা সকলেই এবার কাতারে শেষ বিশ্বকাপ খেলবেন।
বিশ্বকাপের সময় উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজের বয়স হবে ৩৬ ছুঁই ছুঁই। তাই কাতার বিশ্বকাপই হতে পারে সুয়ারেজের শেষ বড় আসর।
২০০৭ সালে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ান তিনি। এরপর দেশের হয়ে খেলছেন নিয়মিত। ২০১১ সালে দেশকে এনে দিয়েছিলেন কোপা আমেরিকার শিরোপাও।
সুয়ারেজের সতীর্থ এডিনসন কাভানির বয়সও বিশ্বকাপের সময় হবে ৩৬। ২০১১ সালে দেশের হয়ে কোপা আমেরিকা জয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। হয়তো ২০২২ বিশ্বকাপই হচ্ছে সুয়ারেজ কাভানি জুটির শেষ বিশ্বকাপ।
আসন্ন কাতার বিশ্বকাপকেই নিজের শেষ বিশ্বকাপ ভাবতে শুরু করেছেন ব্রাজিল ফুটবলের প্রাণভোমরা নেইমার। খেলা চালিয়ে নেওয়ার মতো মানসিক শক্তি কতুটুকু অবশিষ্ট আছে, সেটা তিনি নিজেই জানেন না।
সম্প্রতি বিশেষ এক অনুষ্ঠান ‘নেইমার অ্যান্ড দ্য লাইন অব কিংস’-এ নিজের বিদায়ের কথা অকপটে জানিয়েছেন তিনি। নিজের ফুটবল যাত্রায় ইতি টানার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন,
‘আমার ক্যারিয়ারের শেষ হিসেবে দেখছি কারণ, আমি জানি না ফুটবলে আরও সময় থাকার মতো আমার মানসিক শক্তি থাকবে কি না।’
শেষ বলেই আগামী বিশ্বকাপে দলকে জেতানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা থাকবে ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলারের।
সারা বছর ক্লাব পর্যায়ে নানা ধরনের লীগ খেলার কারনে কিছু তারকা ফুটবলার ভক্তদের নজরে থাকেন সব সময়। সেই সব প্রিয় ফুটবলারদের নাম, বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট এলেই মুখের সবার মুখে উচ্চারিত হয়।
প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা ভাবে নিজের খেলার ক্যারিশমা দিয়ে আরো চমকে দেয় আন্তর্জাতিক ফুটবল আসর।
তবে এই পাঁচজনকে আর কোনও দিন বিশ্বকাপে নিজ দেশের জার্সিতে আর দেখা যাবে না। ফুটবল দুনিয়া বঞ্চিত হবে এদের অসাধরন ক্রীড়া চাতুর্য থেকে।
তাই ২০২২ কাতারর বিশ্বকাপ নিয়ে মানুষের উন্মাদনার সাথে কিছু হতাশার বানীও বয়ে আনবে এটা একেবারে সুনিশ্চিত।