অবিশ্বাস্য এক গোল করে স্মরণীয় হয়ে রইলেন রিচার্লিসন। খেলার ৭৩ মিনিটে রিচার্লিসনের গোলটি যেন সিনেমার কোনো একটি দৃশ্য।
বিশ্বকাপ অভিষেকেই জোড়া গোল করে হেক্সা জয়ের মিশনটা দারুণ এক জয়ে শুরু করে পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন দল ব্রাজিল।
দোহার লুসাইল স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের শুরুটা তাই হয়েছে রাজকীয়। পুরো ৯০ মিনিট জুড়েই সার্বিয়ার রক্ষণকে আক্রমণের পর আক্রমণে দিশেহারা করে রাখে ব্রাজিল।
সার্বিয়ার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ চাড়ে সেলেসাওরা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য হতাশাজনক ছিল ব্রাজিলের। শুরু থেকেই সার্বিয়ার অনবদ্য রক্ষণ, বারবার আটকে যাচ্ছিল নেইমাররা। ক্যাসেমিরোর দূরপাল্লার শট হোক কিংবা রাফিনহার চেষ্টা হাফ টাইম অবধি সবই ব্যর্থ।
বরাবরের মতো এবারও ফাউলের বড় শিকার নেইমার। হাফ টাইম না পেরোতেই পাঁচবার আক্রমণ করা হয় তাকে। যা এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই ফাউলের শিকার হন নেইমার। তাতে হলুদ কার্ড দেখেন সার্বিয়ার পাভলোভিক। ম্যাচের ২৭ মিনিটে দারুণ সুযোগ পায় ব্রাজিল। কিন্তু সার্বিয়ান গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় গোলের দেখা মেলেনি।
ম্যাচের ৪০ মিনিটে বাম দিক থেকে আক্রমণ সাজায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়াস ডি বক্সে ঢুকলেও তা গোলমুখে শট নিতে ব্যর্থ হন। গোলশূন্য ড্র নিয়েই বিরতিতে যায় উভয় দল।
বিরতি থেকে ফিরে ৬২ মিনিটে প্রথম গোল পেয়ে যায় সেলেসাওরা।
একে একে তিনজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকলেন নেইমার, বল বাড়ালেন ভিনিসিউসকে, ভিনিসিউসের ডান পায়ের তীব্র শট, গোলরক্ষক কোনরকম সেটি ঠেকাতে পারেলেও হাতে জমাতে পারেন নি। ছয় গজ বক্সের মুখে বল পেয়েই ডান পায়ের শটে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন এই টটেনহ্যাম স্ট্রাইকার
৭৩তম মিনিটে আবারও রিচার্লিসনের চমক। এবারও প্রেক্ষাপটে ভিনিসিউস। বাঁ দিক থেকে তিনি বল পাঠান প্রতিপক্ষের ডি বক্সে। সেখান থেকে দুর্দান্ত বাইসেকেল কিকে স্কোরলাইন ২-০ করেন রিচার্লিসন।
নেইমারের পর ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ অভিষেকেই জোড়া গোল করা প্রথম ফুটবলার তিনি।
৮০ তম মিনিটে কাসেমিরোর শট গোলপোস্টে লেগে ফেরত না আসলে জয়ের ব্যবধান আরো বড় হতে পারতো ব্রাজিলের।
বাকিটা সময় ম্যাচে ফেরা তো দূরের কথা নিজেদের দুর্গ সামলাতেই মহাব্যস্ত থাকতে হয় সার্বিয়াকে।
পুরো ম্যাচে ব্রাজিল গোলে শট করে ২২টি আর সার্বিয়া ৫টি। সার্বিয়া অন টার্গেটে কোনো শট করতে না পারলেও ৮টি শট করে ব্রাজিল।
পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হলো নেইমারদের। জি গ্রুপে সবার উপরে ব্রাজিল। আর দ্বিতীয় অবস্থানে সুইজারল্যান্ড
এবারের বিশ্বকাপে অপ্রত্যাশিত ঘটনা দেখেই চলছে বিশ্ববাসী।
সৌদি আরবের কাছে হেরেছে আর্জেন্টিনা। জার্মানিকে স্তব্ধ করে এশীয় দেশ জাপানের জয়।
কানাডার বিরুদ্ধে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে বেলজিয়াম।
সব মিলিয়ে তথাকথিত বড় দল-ছোট দলের অঙ্ক মেলানো যাচ্ছে না এ বারের বিশ্বকাপে।
এদিকে আর্জেন্টিনা জার্মানি সমর্থকরা খুব করে চাইছিলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা যেন হোচট খায়। অন্যদিকে চাপে থাকা ব্রাজিল সমর্থকরা ভরসা রাখছিলেন নেইমার-রিচার্লিসদের উপর। সেই আস্থার প্রতিদানও দিয়েছে তিতের দল। সব শঙ্কা আর জল্পনা কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে সার্বিয়াকে সহজেই হারিয়েছে ব্রাজিল।