২০১৫ সালের পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ডিসেম্বরের ১ তারিখ ঢাকায় আসবে ভারত। এ উপলক্ষ্যে ১৬ সদস্যের ওয়ানডে দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
ভারতের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে টাইগাররা। এই সিরিজে দল থেকে বাদ পড়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, শরীফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম।
এদিকে, আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে ছুটিতে থাকা সাকিব আল হাসানের সঙ্গে স্কোয়াডে ফিরছেন ইয়াসির আলী।
যদিও চোট কাটিয়ে আগেই মাঠে ফিরেছেন ইয়াসির। খেলেছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। গত মার্চে সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পর আর কোনো ওয়ানডে খেলেননি সাকিব ও ইয়াসির।
বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ না হওয়ায় জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত কারণে ছুটিতে ছিলেন সাকিব। পরে ব্যস্ত সূচির কারণে বিশ্রামের জন্য পুরো জিম্বাবুয়ে সফর থেকেই ছুটি নেন এই তারকা অলরাউন্ডার।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গেলেও চোটের কারণে ছিটকে যান ইয়াসির। প্রস্তুতি ম্যাচে পিঠে চোট পান ২৬ বছর বয়সী এই তরুণ ব্যাটার।
জিম্বাবুয়ে সফরেও খেলার সুযোগ হয়নি তার। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর লম্বা সময় বাদে সাকিবের মতোই আবার ওয়ানডে দলে ফিরছেন এই উদীয়মান তারকা।
অবশ্য নুরুল হাসান সোহানের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একপ্রকার ফেরার মঞ্চই বলা চলে। টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবেই জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছিলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ওয়ানডে সিরিজের দলেও ছিলেন তিনি।
কিন্তু, সিরিজের ২য় টি-টোয়েন্টিতে আঙুলে চোট পেয়ে পুরো সফর থেকেই ছিটকে যান। মুস্তাফিজুর রহমানের ইনজুরিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমবার ওয়ানডে দলে ডাক পাওয়া এবাদত হোসেনও আছেন আসন্ন ভারত সিরিজে।
আগামী ৪ তারিখ মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম ওয়ানডে। এরপর একই ভেন্যুতে ৭ ডিসেম্বর ২য় ম্যাচ হবার পর ১০ ডিসেম্বর তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে।
পরবর্তীতে চট্রগ্রামে প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। সেখান থেকে ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্ট দিয়ে শেষ হবে ভারতের বাংলাদেশ সফর।
বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের ওয়ানডে স্কোয়াডে আছন, অধিনায়ক তামিম ইকবাল, লিটন দাস, এনামুল হক বিজয়, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন, ইয়াসির আলি চৌধুরী, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন, নাসুম আহমেদ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাজমুল হোসেন শান্ত ও নুরুল হাসান সোহান।
আসন্ন ১লা ডিসেম্বর ঢাকায় আসবে ভারতের পুরো দল। এরপর মিরপুরেই অনুশীলন শুরু করবে মেন ইন ব্লুজরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কাগজে কলমে নিজেদের ইতিহাসে সেরা বিশ্বকাপ পার করলেও ছিলো হতাশা।
ভারতের কাছে জয়ের হাতছানি দিয়েও হার, নেদারল্যান্ডসের সাথে ধুঁকতে ধুঁকতে জয়, শেষ ম্যাচে সেমির হাতছানি দিলেও পাকিস্তানের সাথে বাজে পারফরম্যান্স - মাঠের ক্রিকেটে মোটেও সেরাটা দিতে পারেনি টাইগাররা।
টি-টোয়েন্টির সেই ব্যর্থতা ভুলে এবার ওয়ানডে দিয়ে নতুন শুরুর অপেক্ষায় টাইগাররা। ঘরের মাটিতে আবারো ভারত সিরিজ। ২০১৫ সালের পর প্রথমবার বাংলাদেশে আসছে তারা।
শেষবার মুস্তাফিজের কাটার ম্যাজিকে পাত্তাই পায়নি মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। এবারও পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই আসছে ভারত।
উড়ন্ত ফর্মে থাকা ভিরাট কোহলি, সুরিয়াকুমাররাও আছেন দলে। যদিও বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে সেমির মঞ্চে হেরে আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হয়েছে ভিরাটদের।
বাকি দুই ফরম্যাটে সাদামাটা দল হলেও ওয়ানডে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ভালো। ঘরের মাটিতে দলটা অন্যতম সেরা। যদিও প্রতিপক্ষ যখন ভারত উত্তেজনার পারদটাও একটু বেশি।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এবার ভারত বধ করা যায় কি-না সেটাই এখন অপেক্ষা। নাকি বিশ্বকাপের পর এই ফরম্যাটেও হতাশায় ডুববে টাইগাররা -সেটাই এখন দেখার বিষয়।