কাতার বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না সাম্বার ছন্দ কিংবা যোগবনিতার সুর। লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দল ব্রাজিলের।
বিশ্বকাপের গুরুত্বপুর্ন এই ম্যাচে গোল করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। তবে তাতে হয়নি শেষরক্ষা। ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে।
ক্রোয়েট গোলকিপার লিভাকোভিচের অসাধারন নৈপুন্যে শেষ পর্যন্ত ৪- ২ গোলের পরাজয় বরন করে দর্শকপ্রিয় দল ব্রাজিল।
বিশ্বকাপ শিরোপা এবং ব্রাজিল যেন একে অপরের পরিপুরক। প্রতিবারই ফেভারিটের তকমা লাগিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করে পাচ বারের চ্যাম্পিয়নেরা।
এবারেও ছিলনা তার ব্যতিক্রম। এক ঝাক তারকা সমৃদ্ধ স্কোয়াড, সেই সাথে দলের সেরা তারকা নেইমার এর অবিশ্বাস্য ফর্ম, সবকিছু ছিল ব্রাজিলের পক্ষেই।
বিশ্বকাপের শুরুটাও হয়েছিল আশানুরুপ। প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। তবে খর্ব শক্তির দল নিয়ে হোচট খেয়েছিল ক্যামেরুনের বিপক্ষে।
এরপর রাউন্ড অফ সিক্সটিনে সাউথ কোরিয়াকে ৪-১ গোলে উরিয়ে দিয়ে নিজেদের শিরোপার দাবিটা আরো একবার পাকাপোক্ত করে নিয়েছিল নেইমাররা।
কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া। জাপানকে পেনাল্টি শুট আউটে হারিয়ে শেষ আটে উঠা ক্রোয়েটদের সহজেই হারাবে বলে প্রত্যাশা ছিল ব্রাজিলিয়ানদের।
তবে এখন সে আশা রুপ নিয়েছে হতাশায়। আগের ম্যাচের একাদশে কোন ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই এদিন মাঠে নেমেছিল তিতের নেতৃত্বাধীন টিম ব্রাজিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে একেবারেই সুবিধা করতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধে নিয়মিত পারফর্মার ভিনিসিয়াস এবং রাফিনহাকে উঠিয়ে মাঠে নামানো হল এন্টনি এবং রদ্রিগোকে।
এতে গতি ফিরে পায় ব্রাজিলের আক্রমন ভাগ। একের পর এক সৃষ্টি হয় গোলের সুযোগ। তবে এদিনও ব্রাজিল অনুভব করে পারফেক্ট ফিনিশারের অভাব।
কেউই করতে পারছিলেন না গোল। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় গোল শুন্য ড্রতে। তবে ম্যাচের শেষাংশে ক্রোয়েশিয়া যেন খেলছিল ড্র করার উদ্দেশ্যেই।
৯০ মিনিটের খেলা শেষে মাঠে গড়ায় পরবর্তী ত্রিশ মিনিটের খেলা। সকল নাটকিয়তা যেন জমা ছিল খেলার এই পর্বের জন্যেই। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে সকল লাইম লাইট নিজের করে নেন বড় ম্যাচের বড় তারকা নেইমার।
সতির্থ রদ্রিগোর সাথে ওয়ান টু ওয়ান খেলে একক নৈপুন্যে গোলকিপারকে ছিটকে ফেলে বা পায়ে আদায় করে নেন মহা গুরুত্বপুর্ন গোল ।
ব্রাজিল সমর্থকেরা তখন নাচে গানে উদযাপনে ব্যস্ত। তখনো নাটক কিছুটা বাকি। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহুর্তে গোল করে বসেন ক্রোয়েশিয়ান বদলি খেলোয়াড় পেতকোভিচ।
ব্রাজিলের নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয়ে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুট আউটে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সফল দল ক্রোয়েশিয়া।
এবারও হয়নি তার ব্যাতিক্রম। ব্রাজিলের হয়ে প্রথম পেনাল্টি মিস করেন রদ্রিগো। সর্বশেষ মার্কুইনোসের নেওয়া চতুর্থ শট পোস্টে লাগতেই মুখ ঢাকলেন নেইমার।
মুখে রাজ্যের অন্ধকার কাসেমিরোর। গোটা ব্রাজিল দলই তখন হতাশার অতলে ডুবে হেক্সা জয়ের সব আশা জলাঞ্জলি দিয়ে দোহার এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম ছেড়েছে।
ব্রাজিলে ছিটকে পড়ার বেশ কয়েকটি কারণই আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হয়তো টাইব্রেকারে কোচ তিতের ভুল কৌশল।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মতো একটি চাপের ম্যাচে, তিনি প্রথম কিকটি নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা রদ্রিগোকে।
রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গারের সামর্থ্য নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। কিন্তু এমন একটি প্রতিযোগিতায় স্নায়ু ধরে রাখার কাজটা সহজ নয়।
স্নায়ু চাপ ধরে রাখতে না পারা ২১ বছর বয়সী উইঙ্গার নেন দুর্বল শট। যেটি বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সহজেই ধরে নেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার দমিনিক লিভাকোভিচ।