শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনাপূর্ন ম্যাচে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে প্রায় ১৩০ মিনিট স্থায়ী হওয়া এই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ছাড়াও আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিলেন রেফারি।
এমনটা বলছেন খোদ লিওনেল মেসির মতো নম্র স্বভাবের ফুটবলার। এমনকি যেই গোল দিয়ে সমতায় ফিরেছে নেদারল্যান্ডস, সেই গোলের উপলক্ষও রেফারি তৈরি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমর্থকরা বলছেন, আর্জেন্টিনাকে হয়তো হারানোর পন করেই মাঠে নেমেছিলেন এই রেফারি।
নেদারল্যান্ডস এর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনা করা রেফারির নাম মাতেও লাহোজ। ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তির জন্ম স্পেনে।
লাহোজ মুলত স্পেনের লা লিগায় রেফারি হিসাবে কাজ করে থাকেন। ২০১১ সাল থেকে ফিফা রেফারি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
২০১৮ বিশ্বকাপ এবং চলতি বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তাকে দেখা গিয়েছিলো। তবে নক আউট পর্বের ম্যাচে এবারই প্রথম। আর এই ম্যাচেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের রেকর্ড করেছেন তিনি। তাকে নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে মাঠে নামের আগেই রেফারি নিয়ে ভয় পাচ্ছিলেন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। কারণ আগে থেকেই তাকে নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক রয়েছে। এর আগেও সামান্য কারণে মেসিকে কার্ড দেখিয়েছিলেন তিনি। সমর্থকদের এই ভয় ম্যাচে সত্যিসত্যিই দেখা গেছে।
১৩০ মিনিটের ম্যাচে কার্ডের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন মাতেও লাহোজ। তার ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে আর্জেন্টিনা নেদারল্যান্ডস দুই দলই অসন্তুষ্ট। তবে আর্জেন্টিনার অসন্তোষের পরিমান অনেক বেশি। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ মেসি মার্টিনেজ রা।
চরম উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে ১৮ টি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে রেকর্ড।
খেলোয়াড়দের মধ্যে আর্জেন্টিনার আটজন এবং নেদারল্যান্ডস এর আটজন কার্ড দেখেছেন। ডাগ আউটে হলুদ কার্ড দেখেছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি ও তার সহকারী ওয়াল্টার স্যামুয়েল।
শেষ পর্যন্ত রেফারির সিদ্ধান্ত গুলো নিয়ে হাস্যরস শুরু করছিলেন সমর্থকরা। এক পর্যায়ে রেফারি কাকে কার্ড দেখাচ্ছেন, আর কাকে দেখাচ্ছেন না- সেটিও পরিস্কার বুঝা যাচ্ছিলো না।
মাতেও লাহোজের এমন কার্ডের বন্যা নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য ম্যাচ হিসাবে ধরা হয় ব্যাটল অব সান্তিয়াগো’কে।
১৯৬২ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচকে সহিংসতার কারণে যুদ্ধের সাথে তুলনা করা হয়। কিন্তু ভয়ংকর সেই ম্যাচেও এত বেশি কার্ড দেখাননি রেফারি।
কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ ম্যাচ জয়ের পর রেফারি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন লিওনেল মেসি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'যে নিজের কাজটা ভালোভাবে জানে না, এত গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে তাকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত না।
রেফারির কারণেই অতিরিক্ত সময়ে খেলা পৌঁছেছে। সে সব সময় আমাদের বিপক্ষে ছিল। এমনকি যে গোলটি দিয়ে সমতায় ফিরেছে ওরা, সেটাও ফাউল ছিল না।"
মেসির মতোই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন টাইব্রেকার জয়ের নায়ক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
আর্জেন্টিনার বাজপাখি খেতাব পাওয়া এই গোলরক্ষক বলেছেন, রেফারি চাচ্ছিলো যেন নেদারল্যান্ডস গোল করে। সে ডি বক্সের বাইরে বেশ কয়েকবার ফ্রি কিক দিয়েছে। মার্টিনেজ প্রত্যাশা করছেন, এ ধরণের অপদার্থ রেফারি সামনে আর রাখবে না ফিফা।
আলোচিত রেফারি মাতেও লাহোজ এর আগেও বিতর্কিত হয়েছেন ২০২০ সালে। সেবার বার্সালোনায় খেলা মেসি গোল করার পর মেরাডোনাকে শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে জার্সি খুলেছিলেন, তাতেই মেসিকে হলুদ কার্ড দেখান মাতেও লাহোজ।
এছাড়া উয়েফার অন্য এক ম্যাচে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়ে তুমুল সমালোচনায় পড়েছিলেন এই রেফারি। বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে তার কার্ডের বন্যা ইতিমধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
এবার দেখার বিষয় ভবিষ্যতে তাকে আর এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুযোগ দেয় কিনা ফিফা কর্তৃপক্ষ।