কাতার বিশ্বকাপে সবার নজর কেড়েছে রেফারিদের হাতঘড়ি। ঘড়িটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।
বিগ ব্যাং ই মডেলের এই ঘড়ির দাম ৫৮০০ ডলার। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি।
হাবলটের এই ঘড়ির মাধ্যমেই ম্যাচ শুরুর পনেরো পনিট আগে থেকে দুই পক্ষের প্রথম একাদশের ফুটবলারদের সব তথ্য পেয়ে যান রেফারিরা।
প্রতিটি ম্যাচে কয়টা হলুদ কার্ড দেখানো হলো, কে লাল কার্ড দেখলো, জালে গোল কয়টা জড়ানো হলো কিংবা জালের উপর দিয়ে কয়টা বল মারা হলো এই সকল তথ্য নিজেই রেকর্ড করে থাকে অত্যাধুনিক এই ঘড়ি।
খেলা চলাকালীন মাঠে সবকিছুর সময় ও সংখ্যার সকল হিসাব সংরক্ষিত থাকে এই ঘড়িতে। যে কোনো প্রয়োজনে রেফারিদের এই তথ্যগুলো সহজে নিতে সাহায্য করে।
অত্যন্ত দামী এই ঘড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের চিপ। এবং এসব কিছু নিখুঁতভাবে দেখানোর জন্য এটিতে ব্যবহার করা হয়েছে এনিমেশন।
ডায়ালের উপরে ফুটবলের একটি প্রতীকের সাহায্যে ম্যাচের বিভিন্ন কীর্তি বিস্তারিতভাবে দেখানো হয় ঘড়িটিতে।
কোন ম্যাচের অতিরিক্ত সময় শুরু হলে এটি এক্সট্রা টাইম মোডে থাকে, আবার নক আউট পর্বে পেনাল্টিতে খেলা শেষ হলে শুট আউট মোডে থাকে।
প্রতিটি পেনাল্টির ফলাফল সবুজ বা লাল মোডে দেখানো হয় হাবলট বিগ ব্যাং ই- ঘড়িতে।
প্রতিটি ম্যাচ শেষে হাবলট বিগ ব্যাং ই ঘোষণা দেয় এবার খেলা শেষ। সে সময় ম্যাচের ফলাফলও ফুটে ওঠে বিগ ব্যাং ঘড়ির স্ক্রিনে।
অত্যন্ত দামী এই ঘড়িটি গুগল অ্যায়ার অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত। এটিতে রয়েছে কোয়াডকাম স্ন্যাপড্রাগন ৪১০০ প্রসেসর।
এতে রয়েছে একটি এক্সেলোমিটার, জাইরোস্কোপ, স্পিকার, এবং জিপিএস এর প্রযুক্তি।
এই ঘড়িতে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মাপা যায় রেফারিদের হৃদস্পন্দনও। এছাড়াও এই ঘড়িতে রয়েছে কয়েকটি প্রয়োজনীয় অ্যাপ।
সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের এই দামী ঘড়িটি আকারে ৪৪ মিলিমিটার এবং এর ডায়াল বার্গেন্ডি রঙের।
ঘড়িটির স্ট্রাপ তৈরি করা হয়েছে কালো এবং বার্গেন্ডি রঙের সংমিশ্রণে।
এছাড়াও স্ট্রাপে রয়েছে কাতারের পতাকার লাল রঙের ছোঁয়া। তবে রেফারি চাইলে কাতারের পতাকার রঙের পরিবর্তে বিশ্বকাপে অংশগ্রহনকারী যে কোনো দলের পতাকা স্ট্রাপে পরতে পারেন।
ঘড়িটি নিখুঁতভাবে তৈরি করার পাশাপাশি রেফারিদের ব্যবহার করার সময় যেন কোনো অসুবিধায় পড়তে না হয়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, উয়েফা চ্যাম্পিয়নশিপের অফিসিয়াল ঘড়ি হিসেবে ২০০৮ সালে স্থান পেয়েছিল হাবলট ।
এরপর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফুটবল বিশ্বকাপে ফিফা কর্তৃক অফিসিয়াল ঘড়ি হিসাবে রেফারিদের হাতে জায়গা করে নেয় হাবলট ।
তারপর থেকে এই পর্যন্ত বিশ্বকাপ ছাড়াও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মতো প্রতিযোগিতায় রেফারিদের হাতে দেখা যাচ্ছে এই ঘড়িটি।
বিশ্বকাপ চলাকালীন হাবলটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে পেলে, লুই ফিগো, দিদিয়ের দেঁশম, মার্সেল দেসাইয়ের মতো প্রাক্তন এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো বর্তমান তারকাদের।
মহিলা ফুটবলারদের মধ্যে হাবলটের একমাত্র ব্রান্ড এম্বাসেডর হয়েছেন লোর বুলো।
বিশ্বকাপের রেফারিদের পাশাপাশি হাবলট ঘড়ি উপহার দেওয়া হয়েছে কাতারে আসা ভিভিআইপি অতিথিদেরকেও।
চলতি বিশ্বকাপের জন্য মোট ১০০০ টি হাবলট বিগ ব্যাং-ই ঘড়ি তৈরি করা হয়েছে।