ব্রাজিল কোচের পদ ছাড়লেন তিতে। দীর্ঘ ছয় বছরের যাত্রা শেষেও দলকে ছোয়াতে পারেননি বিশ্বকাপ শিরোপা।
কোয়ার্টার ফাইনালে গেলো আসরের ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা। এই হারের পরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দেন কোচ।
ভুলে ভরা ট্যাকটিস, এলোমেলো পরিকল্পনাতে ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়েই বিদায় নিলেন ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে আরেক ব্যর্থ কোচ তিতে।
আগের ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মার্টিনেল্লিকে রাখলেন বেঞ্চেই। ১২০ মিনিটের খেলায় দলের তরুণ তারকা খেলার সুযোগই পেলেন না।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আর কিছু সময় পরেই দলের মূল স্ট্রাইকার রিচার্লিসনকে তুলে নেওয়া! একের পর এক ভুলে খেসারত দিয়েছেন তিতে।
ভিনি-রিচাদের জায়গায় আসা রদ্রিগো, ফ্রেডরা ডুবিয়েছেন দলকে। অভিজ্ঞ কোচের মাথায় ছিলোই না পেনাল্টির চিন্তা। তাই দুই পেনাল্টি স্পেশালিষ্টকেই ডেকে নিলেন বেঞ্চে।
রক্ষণভাগে প্রতিপক্ষের জন্য দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এডার মিলিটা। তাকেও সাব করানো হলো আলেক্স সান্দ্রোকে দিয়ে। ভুলের তালিকাটা যেনো লম্বাই হচ্ছিলো।
কফিনের শেষ পেরেকটা ঠুকলেন তরুণ রদ্রিগোকে প্রথম শ্যুটে পাঠিয়ে। পেনাল্টির চাপটা পাহড়সম হয়ে দাঁড়ায় এই তরুণের মাথায়। যে চাপে নস্যাৎ হয়ে যায় সব কিছু। প্রথম মিসের পর ব্যাকফুটে চলে যায় ব্রাজিল।
তবু ছিলো আশার জায়গা, ফিরে আসার একটা প্রয়াস ছিলো। দলের জন্য যে শ্যুটটা ছিলো মাস্ট গোলের, সেই শ্যুটে তখন আসলেন মার্কুইনস! তাতেই ব্রাজিলের স্বপ্ন ধূলিসাৎ। গোল মিসে কোয়ার্টার থেকেই নিতে হলো বিদায়।
পেনাল্টিকে রীতিমতো আর্ট বানিয়ে ফেলা নেইমার শ্যুটই নিতে পারেননি। ব্রাজিল যখন পেনাল্টিতে বিদায় নিচ্ছে, দলের সেরা তারকা নেইমার তখন বনে গেলেন দর্শক।
অভিজ্ঞ কোচ ভরসা করেছিলেন তরুণ খেলোয়াড়দের উপর। সিলভা, ক্যাসেমিরো, নেইমাররদের রেখেছেন তালিকার পেছনে। অথচ চাপটা তাদের উপরই দেয়া উচিত ছিলো।
এক রাশ হতাশা ও ভুল নিয়েই তিতে নিলেন বিদায়। তবে ব্রাজিলিয়ানদের স্বপ্নটাও নিয়ে গেলেন সঙ্গী করে।
২০১৮ বিশ্বকাপের ভুল আবারো তাড়া করলো ব্রাজিলকে। সেই ভুল থেকে তিতে কি আসলেই শিক্ষা নিতে পেরেছেন কি-না সে নিয়েও আছে সমর্থকদের প্রশ্ন।
সংবাদ সম্মেলনেও সরল মনে তিতে বলেন, যন্ত্রণাদায়ক হার, তবে নিজেকে নিয়ে আপাতত শান্তিতে আছি। যারা আমাকে চেনে জানে আমি এক কথার মানুষ। যদি জিততাম তাহলেও থাকার জন্য কোনো নাটক করতাম না। জয় নিয়েই বিদায় নিতাম।
২০১৬ সালে কার্লোস দুঙ্গার পর সেলসাওদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিতে। পাঁচবারের শিরোপাজয়ীদের দায়িত্ব নিয়ে এই ৬১ বছর বয়সি কোচের পরিকল্পনাই ছিলো হেক্সা জয় ।
তিতের অধীনে ৬ বছরে ব্রাজিল খেলেছে ৮১ ম্যাচ। এতে ৬০ জয় আর ১৫ ম্যাচে ড্র করেছে সেলেসাওরা। তার অধীনে মাত্র ৬টি ম্যাচে হেরেছে নেইমাররা।
২০১৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নেয় তিতের অধীনে থাকা ব্রাজিল।
এরপর গেলো বছর কোপা আমেরিকায় ঘরের মাঠেই আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় সেলেসাওদের।
বার বার ভুল করেও, তিতে শোধরাননি। দুর্দান্ত এক দল পেয়েও ব্যর্থ এই ব্রাজিলিয়ান কোচ। দুই মেয়াদে দায়িত্ব পেয়েও দলকে উঠাতে পারেননি সেমিতে।
২০১৪-র বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কোচ ছিলেন দুঙ্গা। একের পর এক ম্যাচে ব্রাজিল খারাপ খেলতে থাকায় চাকরি যায় তার। আনা হয় ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবল সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা তিতেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও ব্যার্থ হলেন।