হেক্সা জয়ের মিশনে ব্রাজিলের বিদায়টা শেষ আট থেকেই। কান্নায় ভেঙে পড়া নেইমার এদিন যেনো ছোট শিশুর ভূমিকায়। রেফারির শেষ বাশি বাজতেই অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। দলের সাথে সাথে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে নেইমারেরও। ক্ষত নিয়েই আবারো আশায় বুক বেধেছিলেন। চার বছর অপেক্ষা করেছেন শিরোপা উচিয়ে ধরতে।
কাতার বিশ্বকাপের আগেই বলেছিলেন হয়তো এটাই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। এমনকি ব্রাজিলের হয়ে কয়দিন খেলতে পারবেন সে নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।
টুর্নামেন্টে ফেবারিট হিসেবেই খেলতে এসেছিলো ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচের পর ইনজুরিতে পড়া নেইমারও ফেরার জন্য দিয়েছেন সেরাটা।
কিন্তু তাতে আর লাভ হয়নি। ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে পুরো দলকে। ৯০ মিনিটে গোলশূন্য থাকার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত মিনিটে।
ম্যাচের ১০৫ মিনিটে ক্রোয়াট প্রাচীর ভেদ করে ম্যাজিকাল এক গোল দেন নেইমার। পুরো এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামজুড়ে তখন ব্রাজিল সমর্থকদের উল্লাস।
দল যখন খাবি খাচ্ছিলো, নেইমারের পায়ে তখন গোলের দেখা। এরপরই সেমির অপেক্ষা। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হয় একদম শেষ মূহুর্তে।
জয় থেকে মাত্র ৩ মিনিট দূরে থাকতে গোলের নেশায় যখন ব্রাজিল, সুযোগে উল্টো গোল করে বসে ক্রোয়েশিয়া।
সেখান থেকেই খেলা গড়ায় পেনাল্টিতে। টাইব্রেকারে ব্রাজিলের ৪-২ গোলে হারে স্বপ্নভঙ্গ হয়। কিন্তু দলের সেরা তারকা নেইমার শ্যুট করারই সুযোগ পায়নি! তার আগেই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ হয়ে গেছে।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোলের সাথে সাথে পেলেকে ছুঁয়েছেন নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলে পেলের পাশে এখন এই তারকা। ৭৭ গোল করে দুইজনই আছে তালিকার শীর্ষে।
দলের জার্সিতে এখন পর্যন্ত মোট ১২৪ ম্যাচ খেলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন পিএসজি তারকা। একই কীর্তি গড়তে পেলের লেগেছিল ৯২ ম্যাচ।
ব্যক্তিগত ৭৫ গোল নিয়েই বিশ্বকাপে খেলতে আসেন নেইমার। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ায় পরের দুই ম্যাচে খেলার সুযোগ হয়নি তার।
রাউন্ড অব সিক্সটিনে ফিরেই দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল পান এই তারকা।
এরপর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে স্বপ্নভঙ্গের ম্যাচে দুর্দান্ত এক গোল করে পেলের পাশে নাম লেখান ।
নেইমারের ঝুলিতে সব আছে, নেই শুধু বিশ্বকাপ। কনফেডারেশন্স কাপ থেকে শুরু করে অলিম্পিক স্বর্ণ, কোপা আমেরিকা- সবই নিজের নামে করেছেন। তবে বিশ্বকাপ জয়ের অধরা স্বপ্নটাই শুধু বাস্তবে রূপ দিতে পারেননি।
বয়স এখনো ত্রিশের কোঠায়। তবে বিশ্বমঞ্চে খেলার আর মানসিকতা হয়তো নেই নেইমাদের। ক্রোয়াটদের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হৃদয় ভাঙার পরই জানান ভবিষ্যতে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন শীগ্রই।
দুঃখ ভারাক্রান্ত কণ্ঠে চোখের পানি ফেলে নেইমার জানান, কোনো দরজা আমি বন্ধ করছি না, তবে আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছি না যে জাতীয় দলে ফিরে আসব। আমাকে এই বিষয়ে আরও একটু ভাবতে হবে।
যদিও কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনালদো লিমা চান নেইমার পরের বিশ্বকাপেও খেলবে। এই তারকার ডাকে কি নেইমার সাড়া দিবেন, নাকি কোটি ভক্তদের কাঁদিয়ে বিদায় জানাবেন বিশ্বকাপকে। সেটি জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরো বেশ কিছু সময়।
২০১৮ থেকে ২০২২; দুই আসর, দুই কোয়ার্টার ফাইনাল; ভেন্যু বদলালো, সময় বদলালো; শুধু অশ্রুসিক্ত নেইমারই যেনো বদলায়নি। চার বছর আগেও বিদায় নিয়েছেন কান্না চোখে, কাতার বিশ্বকাপেও দেখা মিললো একই চিত্র।