ফুটবলের শান্ত শিষ্ট আর ভদ্র ছেলে বলা হয় লিওনেল মেসিকে। ফাউল কিংবা কটু কথায় কখনো বিভ্রান্ত হোননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
শরীরী ভাষায় প্রতিবাদ না জানালেও অসাধারণ নৈপূণ্যে খোঁচা আর অপমানের জবাব দিয়েছেন ক্যারিয়ার জুড়ে।
লিওনেল মেসিকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে মেসিকে খাটো করে পত্রিকার হেডলাইন হয়েছেন অসংখ্য ফুটবলার থেকে শুরু করে দলের ম্যানেজাররা।
কিন্তু মেসি সেসব উপেক্ষা করে বরাবর ই জবাব দিয়েছেন মাঠের পারফরম্যান্সে, কুলুপ এঁটে দিয়েছেন খোঁচা আর অপমানের।
চলমান কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে আলোচনায় আসে মেসির অনন্য সেলিব্রেশন।
কিন্তু এই সেলিব্রেশনের মধ্যে দিয়ে ডাচ কোচকে চরম এক শিক্ষা দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর পেছনে রয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবলার রোমান রিকয়েলমির প্রতি ডাচ কোচের অবিচার।
২০০৩ সালে আর্জেন্টিনার ক্লাব বোকা জুনিয়রস ছেড়ে স্পানিশ ক্লাব বার্সেলোনা তে পাড়ি জমান আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রোমান রিকয়েলমি।
সে সময়ে রোমান রিকয়েলমি ছিলেন আর্জেন্টিনার সেরা মিডফিল্ডারের মধ্যে একজন।
কিন্তু বার্সেলোনায় তৎকালীন কোচ লুই ভ্যান গ্যাল এর অধীনে ভালো পারফরম্যান্স করেও দিনের পর দিন বেঞ্চে বসে থাকতে হয় এই মিডফিল্ডারকে।
গোল কিংবা এ্যাসিস্ট পাওয়ার পরেও কোচের খারাপ মন্তব্য শোনা প্রতিদিনকার বিষয় হয়ে উঠেছিল রোমান রিকয়েলমির।
বর্তমান ডাচ কোচ লুই ভ্যান গ্যাল এর জন্যই মাত্র 6 বছরে ইউরোপীয় ফুটবল অধ্যায় শেষ করেন রোমান রিকয়েলমি।
বাধ্য হয়ে আবারও ফিরে যান বোকা জুনিয়রস ক্লাবে। আর তখন থেকেই ছন্দ হারিয়ে ফেলেন এই প্রতিভাবান ফুটবলার। সময়ের ব্যবধানে ক্যারিয়ারের ইতি টানেন রোমান রিকয়েলমি।
শনিবার ডাচদের বিপক্ষে গোল করে ডাচ কোচের সামনে গিয়ে সেই রোমান রিকয়েলমির গোল সেলিব্রেশন নকল করেব মেসি। এর মাধ্যমে তাকে রিকয়েলমির প্রতি করা অবিচার মনে করিয়ে দেন লিওনেল মেসি।
শুধু তাই নয়, ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হলে সোজা ডাচ কোচ কে শাসিয়ে আসেন সাত বারের ব্যালন ডি অর জয়ী এই তারকা।
মেসির বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে স্পষ্ট বোঝা গিয়েছিল, ম্যাচের আগে ডাচ কোচের থেকে পাওয়া অপমান তিনি হজম করতে পারেননি।
তাই বিপক্ষের কোচকে বুঝিয়ে দিলেন যে, ' অনেক বয়স হয়েছে, এবার চুপ করে বিশ্রাম নিন!'
মেসি ও ভ্যান গালের এই উত্তাপজনক মুহূর্তের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ডাচ কোচকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার সমর্থকদের প্রশংসায় ভাসছেন মেসি।
কাতার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরে লজ্জার রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রোল শুরু হয় মেসিকে নিয়ে।
মেক্সিকোর সঙ্গে দ্বিতীয় ম্যাচের আগ পর্যন্ত চলতে থাকে হাসি ঠাট্টা। Where is Messi ? স্লোগানে উল্লাসে মেতে ওঠেন বিপক্ষ দলের সমর্থকরা।
তবে ম্যাচের দিন সেই হাসি ঠাট্টার জবাব দিয়েছেন মেক্সিকোকে হারিয়ে। দৃষ্টিনন্দন গোল করে মেক্সিকো সমর্থকদের মুখ বন্ধ করেন মেসি।
একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে শেষ ষোলোতে। ম্যাচের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ ভাঙ্গা যখন অসম্ভব মনে হচ্ছিল, মেসি তখন কর্নারে বল নিয়ে এগোচ্ছিলেন।
গ্যালারি থেকে তখন ও ভেসে আসছিল Where is messi? এর ঠিক ৩০ সেকেন্ড পরেই অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে গোল করেন লিওনেল মেসি। আর এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকদের মাঝে নেমে আসে সুনসান নীরবতা।
পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই মেসি ঠাট্টা আর কটু কথার জবাব দিয়েছেন মাঠের পারফরম্যান্সে। বার্সায় থাকা কালীন লীগ টাইটেল জেতার জন্যে এল ক্লাসিকো জেতা অপরিহার্য ছিল বার্সেলোনার।
তাই মেসিকে রুখতে ট্যাকলের আশ্রয় নেয় রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা। কিন্তু মেসির শেষ মুহূর্তের গোলে সেদিন সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায় রিয়াল মাদ্রিদের। নীল রংয়ের জার্সি উচিয়ে সেদিন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিরবতা এনে দেন লিওনেল মেসি।