কাতার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মাঠে নামবে মরক্কো ও ফ্রান্স। ১৪ই ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১টায় মাঠে নামবে দুই দল।
আসরজুড়ে চমক দেখানো মরোক্কান আটলাস সিংহরা প্রথমবারের মতো খেলবে সেমিফাইনালে। একমাত্র আফ্রিকান ও মুসলিম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ চারে এসেছে মরক্কো।
অপরদিকে, গেলো আসরের শিরোপাজয়ীরা এবারও ধরে রেখেছে দাপট। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, গতিময় ফুটবলে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করছে ফরাসিরা।
বেশ কয়েকজন তারকার ইনজুরিতে পড়লেও আবারো শিরোপা জয়ের হাতছানি ফরাসিদের সামনে।
আন্তর্জাতিক ম্যাচে এখন পর্যন্ত ফ্রান্স ও মরক্কো মুখোমুখি হয়েছে সর্বমোট ১১ বার। সাত ম্যাচেই জয় পেয়েছে ফরাসিরা। বিপরীতে, মাত্র এক জয় আছে আটলাস সিংহদের।
বাকি তিন ম্যাচে হয়েছে ড্র। বিশ্বকাপে অবশ্য দুই দলের এখনো দেখাই হয়নি। প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলবে দুই দল।
তাই, পরিসংখ্যান আর দলগত শক্তিমত্তার বিচারে মরক্কোর চাইতে ফ্রান্স অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।
তবে, কাতার বিশ্বকাপ বদলে দিয়েছে সব পরিসংখ্যান আর অতীত ইতিহাস। বড় বড় বিশ্লেষকরাও এবার বোকা বনে গেছেন চমক আর অঘটনে ঠাঁসা এই বিশ্বকাপে।
আসরে মরক্কোর সবচেয়ে শক্তির জায়গা তাদের রক্ষণভাগ। এখন পর্যন্ত একটি গোলও হজম করেনি আটলাস সিংহরা।
কানাডার বিপক্ষে এক গোল হজম করলেও সেটি ছিলো আত্মঘাতি। সবশেষ ৯ ম্যাচে ওই আত্মঘাতি গোল ছাড়া কোনো প্রতিপক্ষই মরোক্কানদের জালে জড়াতে পারেনি বল।
এর জন্য মরক্কোর গোলবারের সামনে অতন্দ্র প্রহরীর হিসেবে থাকা ইয়াসিন বোনো অন্যতম নায়ক। বড় বড় দলগুলোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারের আসার পেছনে এই তারকার অবদান অনেক।
ডিফেন্সের পাশাপাশি মরক্কোর আক্রমণভাগও বেশ সফল। গোল যেমন হজম করেনি, তেমনি প্রতিপক্ষের জালে গোল দিয়ে ঠিকই তারা আদায় করেছে জয়।
ফ্রান্সের জন্য অবশ্যই মাথাব্যাথার কারণ হবে মরক্কোর ডিফেন্স ও গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো। তবে এমবাপ্পের গতি তারা রুখে দিতে পারে কি-না সেটাই দেখার বিষয়।
অপরদিকে, ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে বড় শক্তি দলের স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২৩ বছর বয়সী এই তরুণ তারকা ইতিমধ্যেই নিজের নাম লিখিয়েছেন রেকর্ড বইয়ে। হাতছানি আছে এই বয়সেই দুই বিশ্বকাপ ফাইনালেরও।
চলতি আসরে ৫ গোল দিয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্কোরার এমবাপ্পে। ফ্রান্সের হয়ে সেমিতেও তিনি হতে পারেন তুরুপের তাস। মরক্কোর ডিফেন্স গুড়িয়ে দিতে এমবাপ্পেকেই নিতে হবে গুরু দায়িত্ব।
এছাড়া মেসির সাথে আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করা অলিভার জিরুডও প্রতিপক্ষের জন্য হতে পারেন হুমকি।
ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড যেমন দুর্দান্ত, তেমনি ডিফেন্সও বেশ শক্ত। আর গোলবারের নিচে আছেন অভিজ্ঞ হুগো লরিস।
মিডফিল্ডে পগবা, কান্তেদের শূন্যতা খানিকটা বোঝা গেলেও তাদের দাপুটে খেলায় সেটা অনেকটাই মিশে গেছে।
ফ্রান্স ও মরক্কো দুই দলই ৪-৩-৩ ফর্মেশনেই খেলে আসছে বেশিরভাগ ম্যাচে। সেমিতেও এই ফর্মেশনেই মাঠে নামার সম্ভাবনা আছে দু'দলেরই।
ফ্রান্সের সম্ভাব্য একাদশ হলো গোলরক্ষক হুগো লোরিস, কুন্ডে, ইব্রাহিমা কোনাটে, ডায়ট উপামেকানো, হার্নান্দেজ, আদ্রিয়েন রাবোয়িত, অরেলিয়েন টিচুয়ামেনি, ওসমানে ডেম্বেলে, অলিভার জিরুড, আন্দোনিও গ্রিজম্যান ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।
মরক্কোর সম্ভাব্য একাদশে আছেন গোলরক্ষক ইয়াসিনে বোনু, রোমাইন সাইস, জায়েদ আল ইয়ামিক, আতিয়াতাল্লাহ, আশরাফ হাকিমি, সোফিয়ান আম্বারাত, সেলিম আমাল্লা, আজেদিন ওনাহি, ইউসুফ আন নেসারি, সোফিয়ান বৌফাল ও হাকিম জিয়েচ।
বুধবার রাতে আল বাইত স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে ফ্রান্স ও মরক্কো। আটলাস সিংহদের সামনে সুযোগ আছে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে পা দেওয়ার।
অপরদিকে, টানা দুই আসরের ফাইনাল খেলার হাতছানি দিচ্ছে ফ্রান্সের সামনে। আফ্রিকানদের বিজয়গাঁথা নাকি ফরাসিদের দাপট - সেটার অপেক্ষায় এখন ফুটবলবিশ্ব।