বিশ্বকাপের মাঠে সাহসী পোশাক পরে ভাইরাল ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে সুন্দরি তরুনি। শরীর দেখানো পোশাক পরে নিয়মিত স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে গিয়েছেন তিনি।
সেই ছবিও পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই আরো বেশি সাহস দেখিয়েছেন এই মডেল। বিকিনি পরে ছবি তুলেছেন সমুদ্র সৈকতে।
এতোদিন স্বল্প পোশাকে স্টেডিয়াম মাতালেও ধরা পড়েননি এই মডেল। তবে সর্বশেষ ক্রোয়েশিয়া ব্রাজিল ম্যাচে নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছে ধরা পড়ে বিপাকে পড়েছিলেন তিনি।
ক্রোয়েশিয়ার আলোচিত এই মডেলের নাম ইভানা নল। ৩০ বছর বয়সী এই নারী মিস ক্রোয়েশিয়া নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাকে বলা হয় ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে সেক্সি চিয়ার লিডার।
এবার বিশ্বকাপে অশ্লীল পোশাক পরে তুমুল আলোচিত হয়েছেন তিনি। শোনা যাচ্ছে এই কারণে তাকে জেলেও নিতে পারে কাতারের প্রশাসন।
ইতিহাসে প্রথমবারের মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ কাতারে বিশ্বকাপের আসর বসেছে। এই উপলক্ষে মুসলিম আইন অনুযায়ী দর্শকদের জন্যেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।
বিশ্বকাপের আগেই কাতার জানিয়েছিলো, কোন নারী মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে অশালীন পোশাক পরতে পারবেন না। এই নিয়ম না মানলে জেলে নেয়ার হুশিয়ারি জানিয়েছে দেশটি।
যার কারণে ইউরোপের নারীরা এবার খেলা দেখতে আসলেও পোশাকের ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে ব্যতিক্রম ক্রোয়েশিয়ার মডেল ইভানা নল।
গত বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়া এবারো খেলছে কাতারে। নিজ দেশকে সমর্থন জানাতে কাতারে এসেছেন সাবেক মিস ক্রোয়েশিয়া।
কিন্তু কাতারে এসে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন এই মডেল। নিজের স্বভাবজাত ছোট ছোট পোশাক পরে কাতারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি।
বিশ্বকাপের প্রায় প্রতি ম্যাচেই তার উপস্থিতি ছিলো স্টেডিয়ামে। ক্রোয়েশিয়ার পতাকার আদলে ডিজাইন করা খোলামেলা ড্রেসে গ্যালারি মাতিয়েছেন তিনি।
যার ছবি আবার নিজেই শেয়ার করেছেন সামাজিক মাধ্যমে।
ইভানার এসব ছবি প্রকাশিত হতেই শুরু হয় বিতর্ক। স্থানীয় সংস্কৃতির কথা তুলে অনেকেই প্রশ্ন করেছিলেন তার পোশাক নিয়ে।
তবে সেসব প্রশ্ন কানে তুলেন নি মিস ক্রোয়েশিয়া। উলটা কাতারের সমুদ্র সৈকতে বিকিনি পরে হাজির হয়েছেন তিনি।
তবে এতোদিন কোন বাধার শিকার না হলেও ব্রাজিল ক্রোয়েশীয়া ম্যাচে বিপাকে পড়েছিলেন ইভানা নল।
সেদিন তিনি মাঠে গিয়েছিলেন লাল অন্তর্বাস ও গায়ের সাথে সেঁটে থাকা লাল-সাদা প্যান্ট পরে! যাতে আঁকা ছিল ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় পতাকার নকশা।
এরপর এরকম পোশাকে গ্যালারি থেকে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেন তিনি।
শুধু তাই নয়, স্টেডিয়ামের গ্যালারি তে বারবার এদিক ওদিক ঘোরাফেরাও করছিলেন তিনি। বেশ কয়েকবার নেমে এসেছেন গ্যালারির নিচে। আর এসব করতে গিয়েই নিরাপত্তা কর্মীদের চোখে পড়েন আলোচিত এই মডেল।
এরপর নিরাপত্তা কর্মীদের কড়া জেরার মুখামুখি হতে হয় তাকে। তবে শেষপর্যন্ত নিজের আসনে বসে খেলা দেখার শর্তে ছেড়ে দেয়া হয় তাকে।
অন্যদিকে শুরু থেকেই গনমাধ্যমের নজর কেড়েছেন আলোচিত এই নারী। বলা হচ্ছে জেলেও নেয়া হতে পারে তাকে।
কারণ কাতারের আইন অনুযায়ী এ ধরণের পোশাক পরা নিষিদ্ধ। বিশ্বকাপের আগেই এ নিয়ে সতর্ক করেছিলো দেশটির সরকার।
প্রশাসনের তরফ থেকে বলা হয়, কাতারের স্থানীয় সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে বিদেশিরা যাতে খোলামেলা পোশাক পরা থেকে বিতর্ক থাকেন।
কাতারের নিয়ম অনুযায়ী পুরুষ মহিলা সবাইকে কাধ এবং হাটু ঢাকা পোশাক পরিধান করতে হবে। এই নিয়ম না মানলে শাস্তির হুশিয়ারি দিয়েছে তারা।
দেশটির নিয়মের প্রতি সম্মান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন ও। ফিফার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ফুটবলভক্তরা কাতারে তাঁদের পছন্দ মতো পোশাক পরতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে কাতারের আইনকে যেন সম্মান করেন তারা।
কিন্তু এসব নিয়ম কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন মিস ক্রোয়েশিয়া। তাতেই চটেছে কাতারের প্রশাসন। বিভিন্ন গনমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পোশাকের কারণে গ্রেফতার হতে পারেন এই মডেল।
তবে যাকে নিয়ে এত বিতর্ক, সেই ইভানা জেলের হুমকিকেও পাত্তা দিচ্ছেন না। গ্রেফতার হওয়াকে ভয় পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
গনমাধ্যমের কাছে ইভানা বলেছেন, পোশাক পরে তিনি কারো ক্ষতি করছেন না। এমনকি কাতারের অনেক মানুষ ছবি তুলেছেন তার সাথে।
এ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ইভানা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কাতারের মানুষ তার পোষাক নিয়ে আপত্তি করলে ছবি তুলতে আসতো না।