ক্রোয়েশিয়া কে হারিয়ে সপ্নের ফাইনালে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা। আগামী ১৮ ডিসেম্বরের ফাইনালে মরক্কো কিংবা ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে আলবেসিলেস্তেরা।
বুধবার কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হয় লিওনেল মেসিরা।
পুরনো সুখস্মৃতি সঙ্গে নিয়ে চার ডিফেন্ডারের সঙ্গে চার মিডফিল্ডার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। কখনো সেমিফাইনাল না হারা আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
ম্যাচের ৩১ মিনিটে নাহুয়েল মলিনার চোখ এড়িয়ে বাঁ দিক থেকে আর্জেন্টিনার বক্সে ঢুলে পড়েন ইভান পেরিসিচ। তবে তাঁর শট রদ্রিগো দি পলের গায়ে লেগে চলে যায় মাঠের বাইরে। সেটা রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়ায় কর্নার পায়নি ক্রোয়েশিয়া। সে যাত্রায় বেচে যায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের ৩২ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের অসাধারণ এক পাস থেকে ডি বক্সের ভেতর বল পান জুলিয়ান আলভারেজ। সেখানে আলভারেজকে ফাউল করে বসেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক লিভাকোভিচ।
আর এতে সাথে সাথেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পেনাল্টি কিক থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩৩ মিনিটে এগিয়ে নেন লিওনেল মেসি।
এই গোলের মধ্যে দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের মালিক হন লিওনেল মেসি। চলতি বিশ্বকাপে মোট ৫ টি গোল সহ সব মিলিয়ে ১১টি গোল করে কিংবদন্তি গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তাকে ছাড়িয়ে যান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
প্রথম গোলের পর দ্বিতীয় গোলের জন্যে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি আলবেসিলেস্তিওদের। খেলার ৩৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে মেসির পাস থেকে বল পেয়ে ক্ষিপ্র গতিতে বল নিয়ে ডি বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন আলভারেজ।
ক্রোয়েশিয়ার দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল নিশ্চিত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই তরুণ স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপে এ নিয়ে ৪টি গোল করে সবচে বেশি গোল করা ফুটবলারদের তালিকায় ঢুকে পড়েছেন তিনি।
বিরতির পর গোল শোধরানোর জন্যে মরিয়া ক্রোয়াটদের আবারো হতাশ করেন মেসিরা। ৬৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ডি বক্সের মধ্যে থাকা আলভারেজকে পাস করেন লিওনেল মেসি।
সেখান থেকে দৃষ্টিনন্দন এক গোল করেন আলভারেজ। দুর্দান্ত এই গোলে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেন লিওনেল স্কোলানীর শিষ্যরা।
শেষপর্যন্ত আর্জেন্টিনার একপেশে প্রতাপের জন্যে কোনো সুযোগ ই পায়নি ব্রাজিলকে হারিয়ে সেমিতে আসা ক্রোয়েশিয়া।
নির্ধারিত সময় শেষে ৩-০ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। আর এর মধ্য দিয়েই বিদায় নিশ্চিত হয় গত আসরের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়ার।
এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে আফ্রিকার মুসলিম দেশ মরক্কো। এই ম্যাচে যারা জিতবে তারা আগামী ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টায় ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনার সঙ্গে।
আর্জেন্টিনা - ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের আগে দুজন ‘এলএম-টেন’ নিয়ে মাতামাতি শুরু হয় ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে। গোল্ডেন বল কিংবা বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট, সব তকমা ই সমানভাবে প্রযোজ্য ছিল সময়ের দুই সেরা খেলোয়াড়ের জন্যে।
কিন্তু একজনকে বিদায় নিতেই হবে সেই নিশ্চিত যাত্রায় অসাধারণ শৈল্পিক ফুটবল উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনা। এতেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে ক্রোয়েশিয়ান ‘এলএম-টেন’ এর।
এদিকে প্রথম ম্যাচে সৌদির কাছে হেরে সমর্থকদের ভরসা রাখতে বলেছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সেই ম্যাচের পর থেকে ক্ষুরধার মেসির দুর্দান্ত প্রতাপ আর অসাধারন নৈপুণ্য বারবার প্রমাণ করে দিচ্ছে, এই বিশ্বকাপ আসলে মেসির।