মাত্র ৮ বছর বয়সে জন্মশহর পোর্তোর ক্লাব গ্রেমিওর ইয়ুথ একাডেমি থেকে যাত্রা শুরু হয় বিশ্ব-ফুটবলের অন্যতম উজ্জল তারকা রোনালদিনহোর।
১৩ বছর বয়সে স্থানীয় এক ক্লাবের বিপক্ষে বড় কোন ম্যাচে খেলার সুযোগ তার। আর সেই ম্যাচে দিনহোর ক্লাব ২৩-০ গোলে জয়লাভ করে।
অনেকেই জেনে অবাক হবেন, ২৩ গোলের সব গুলোই করেছিলেন ড্রিবলিং মাস্টার রোনালদো ডে আসিস মোরেরা।
ফুটবলে লুকিয়া থাকা শত অজানা রহস্য আর উত্তেজনা, সব যেন খুঁজে পেয়েছেন ছোট্ট বয়সেই। তাইতো বিশ্বফুটবলে নিজের পা ছোয়ানোর পর, বিপক্ষে থাকা যে কোন দলের জন্য বিপদ হয়ে উঠেছিলেন দিনহো।
খেলার হাতে খড়ি নিয়েছিলেন তার বাবা এবং বড় ভাই রবার্তোর কাছে। ভাইয়ের হাত ধরেই রোনালদিনহো যুক্ত হয়েছিলেন গ্রেমিও ক্লাবে।
দীর্ঘদিন ঐই ক্লাবে খেলার পরে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল চিনতে শুরু করেন ১৯৯৭ সালে ব্রাজিলের অনুর্ধ্ব উনিশ যুব বিশ্বকাপের মধ্যে দিয়ে।
সে বছর জিতে যায় তার দল। দুই গোল করে রোনালদিনহো অর্জন করে ব্রোঞ্জ বল। সেই সাথে সেরা তিন প্লেয়ারের মধ্যে একজন হয়ে যান।
দিনহো মাত্র উনিশ বছর বয়সে ১৯৯৯ সালের নিজ দেশ ব্রাজিলের জাতীয় দলে যুক্ত হয়। দলের হয়ে ঐই বছরই খেলেন কোপা আমেরিকা। ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয় আর রোনালদো পান জীবনের প্রথম বড় ট্রফি ছুয়ে দেখার স্বাদ।
তার পায়ের জাদু দেখে তাক লেগে যায় ব্রাজিলসহ সারা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের। এরপরই আসে জীবনের সবচেয়ে বড় চমক। ২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে খেলেন প্রথম বিশ্বকাপ।
জীবনের প্রথম বিশ্বকাপেই সৌদির বিপক্ষে হ্যাট্ট্রিক করেন নন্দিত এই ফুটবলার। দুর্দান্ত খেলে সেবছর জিতে নেন ফিফা বিশ্বকাপ।
শুধু যে অসংখ্য দর্শক ভক্তের কাছেই তিনি নিজেকে সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে তা নয়। তখনকার সময়ে ফুটবলে আসা সেরাদের সেরা হিসেবে যায়গা করে নিয়েছিলেন।
ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর সময় কাটান স্পেনীশ ক্লাব বার্সাতে যুক্ত হবার পর। নিজের দেশের পর সবচেয়ে নান্দনিক ফুটবল খেলেছিলেন তিনি এই ক্লাবের হয়ে।
বার্সায় থাকাকালীন সময় ম্যারাডোনা ,ইনিয়েস্তার পরে দিনহোই পেয়েছিলেন স্ট্যান্ডিং অভেশন উপাধি।
ক্লাব পর্যায়ে রোনালদোর সতীর্থ প্লেয়ার ছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিওনেল মেসি। তিনি এক সাক্ষাতকারে শ্রদ্ধাভারে বলেন,
তার চোখে এই ব্রাজিলিয়ান তারকাই আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে সেরা প্রতিভাবান। যে সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে রেখেছে নিজেকে, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে করেছে অসম্ভব রকম রঙিন।
তাছাড়াও ৯৪ বিশ্বকাপ কাপ জয়ী ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক কার্লোস দুঙ্গা বলেন, রোনালদিনহোর মত এমন স্কিলড খেলোয়াড় তিনি তাঁর জীবনে দেখেননি!
২০১৫ সালে নিজ দেশের ক্লাব ফ্লুমিনেস থেকে বের হয়ে সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসর নেন এই তারকা ফুটবলার। একজন রোনালদিনহো শতকে একটা জন্মায় আর টিকে থাকে আজীবন।
ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে রুপান্তরকারী হিসেবে যে কয় জনের নাম সবার প্রথমে উল্লেখ্য করতে হয় তার মধ্যেলদিনহো অন্যতম।
অসাধারন সব কৌশল আর গতিশীল ফুটবলে সমৃদ্ধ করেছিলেন তার সময়ের ব্রাজিলিয় ফুটবলকে। যা এখনও অনেকের হৃদয়ে ছন্দ তৈরি করে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দিনহো অর্জন করেছেন অসংখ্য পুরস্কার। সেই তালিকায় আছে ফিফা কনফেডেরেশান কাপ, গোল্ডেন বল, ব্রোঞ্জ বল, গোল্ডেন বুট, ওয়ার্ল্ড সকার ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা, ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অভ দ্যা ইয়ার, ব্যালন ডি অর এর মত সব পুরস্কার।
আদতে এইসব পুরস্কারের অনেক উর্ধে দিনহোর ক্যারিয়ার। কীর্তিমান এই ফুটবলারকে সারা পৃথিবী স্মরন করবে শত বছর।