সংখ্যার হিসেবে বয়স বেড়েছে, কিন্তু ফুটবল মাঠে বল পায়ে মেসির একটিভিটি এখনো মনে করিয়ে দেয় বিশ বছর বয়সী কোন তরুনের কথা।
ফুটবল বোদ্ধারা তার এই দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতাকে গড গিফটেড বলে ব্যাখ্যা করেন। তবে তিনিও মানুষ। ফিটনেসের সার্থে মেনে চলতে হয় বেশ কিছু নিয়ম কানুন।
তার খাবার কিংবা ব্যায়ামের তালিকা তৈরির জন্য রয়েছে আলাদা বিশেষজ্ঞ। গনমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী মেসি ব্যায়ামের ক্ষেত্রে নিজের গতিশীলতা বাড়ানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।
কোমড় এবং পায়ের জন্য আলাদা এক্সারসাইজ করেন। পিলার ব্রিজ-ফ্রন্ট, লাঞ্জেস, হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেসেস, পিলার স্কিপস তাঁর নিয়মিত ব্যায়াম।
তবে ট্রেনিং গ্রাউন্ডে তাকে মাঝেমধ্যে হার্ডল হপ ও স্প্লিট স্কোয়াটসের মত প্রচুর কষ্টসাধ্য ব্যায়াম ও করতে দেখা যায়।
খেলার মাঠে বল পায়ে মেসির যে টার্ন এবং ফ্লেক্সিবলিটি দেখা যায়, সেটি মুলত পিলার স্কিপস, স্কিপিং রোপস এবং নিয়মিত স্কোয়াট দেওয়ার ফসল।
গোল ডটকমের তথ্য অনুযায়ী ব্যায়ামের পর এই আর্জেন্টেনাইন তারকা শরীরে অতিরিক্ত পানির চাহিদা পুরন করতে বেশ ঘন ঘন পানি পান করেন।
নিজেকে ফিট রাখতে ব্যায়াম বাদেও খাবারের প্রতি আলাদা গুরুত্ব দেন মাঝ মাঠের এই জাদুকর। তবে তিনি প্রচন্ড পরিমান মাংস খেতে পছন্দ করেন।
জাতিগত ভাবেই আর্জেন্টিনা এবং উরুগুয়ের মানুষেরা মাংশ খেতে পছন্দ করে। সে স্বভাবের উর্ধে নয় মেসি। তার প্রথম পছন্দ রোস্টেড চিকেন।
বার্সেলোনায় খেলাকালীন ক্লাবটির পক্ষ থেকে ভক্ত সমর্থকদের জন্যে মেসির প্রিয় রোস্টেড চিকেনের একটি রেসিপিও প্রকাশ করা হয়েছিল।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সাক্ষাতকারে গরুর মাংস থেকে তৈরি আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় খাবার মিলানোসার প্রতি দুর্বলতা প্রকাশ করেছেন মেসি।
তবে মাংস হজম করা কিছুটা কঠিন। তাই মাংস কম খেতে পরামর্শ দেন তার পুষ্টিবিদ। ইতালিয় পুষ্টিবিদ গিওলিয়ানো ২০১৪ থেকেই ফিটনেস নিয়ন্ত্রনে মেসির সাথে কাজ করছেন।
তাঁর পরামর্শে মেসির নিয়মিত খাদ্য তালিকা প্রস্তুত হয়। সেখানে প্রাধান্য দেওয়া হয় পানি, অলিভ অয়েল, হোল গ্রেইন, তাজা শাক সবজির ওপর ।
ফিটনেসের জন্য এই ফুটবল ঈশ্বরের সবচেয়ে বড় শত্রু চিনি। তিনি একেবারে চিনি খাননা বলেই চলে। কারন চিনি মাংসপেশির জন্য খুবই ক্ষতিকর।
ফুসফুস কিংবা হার্ট ঠিক ঠাক রাখতে এই ফুটবলার বাদাম ও বীজনির্ভর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন। তার খাবার তৈরিতে রিফাইন্ড ময়দার পরিবর্তে খাটি গম ব্যবহার করা হয়।
এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন পিৎজা তার খুবই পছন্দ। তবে সাস্থ্য ঠিক রাখতে তাকে জিব সংবরন করতে হয়।
মেসিকে অনেকেই মনে করেন গড গিফটেড প্লেয়ার। খেলাধুলার সার্থে তাকে কিছুই করতে হয়না। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত এসব তথ্য প্রমান করে ফিটনেস ঠিক রাখতে তাকে-ও মেনে চলতে হয় কঠোর নিয়ম-নীতি।
আর মাত্র একটা ম্যাচ পরেই হয়তো পুরন হবে লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ সপ্ন। চলতি কাতার বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার ঝুলিতে জমা হয়েছে ৫টি গোল এবং ৩টি এসিস্ট।
গোল্ডেন বুট এবং বলের দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে আছেন তিনি। এই ফুটবল জাদুকর তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার হয়ে।
এরপর ক্লাবের হয়ে করেছেন একের পর এক রেকর্ড। তবে আক্ষেপ রয়ে গেছে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ না জেতার। সেটিও হয়তো ঘুচতে যাচ্ছে এবার।
১৮ই ডিসেম্বর কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এটিই হতে যাচ্ছে মেসির বিশ্বকাপ জয়ের শেষ সুযোগ।