একজন খেলোয়াড়ের ম্যাচপ্রতি কয়টা জার্সি লাগতে পারে? একটা, দুইটা, তিনটা? পাঁচটা? সর্বোচ্চ ১০টাই নাহোয় বলবেন। কিন্তু, একজন খেলোয়াড়েরই ম্যাচ প্রতি প্রয়োজন হয় ৩০০ জার্সির!
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। কারণ খেলোয়াড়টা যে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। যে মেসি পায়ের জাদুতে মাতিয়ে রেখে পুরো ফুটবল বিশ্বকে। যিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
কেনো মেসির জন্য প্রতি ম্যাচে এতো জার্সি বানানো হয় সেই কারণটা অনেকেরই অজানা। বিশ্বকাপের সময় সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেন আর্জেন্টিনার বাজপাখি খ্যাত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
মেসির জার্সি নিয়ে তিনি বলেন, আমি কৌতুহলবসতই জার্সি প্রস্তুতকারকদের জিজ্ঞেস করলাম - ম্যাচ প্রতি মেসির জন্য কতটি জার্সি বানানো হয়? তারা প্রতিত্তোরে আমাকে জানালো প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি!
কিন্তু প্রতি ম্যাচের জন্য একজন ফুটবলারের তিনটি করে জার্সি বানানোর নিয়ম। এর মধ্যে প্রথমার্ধে একটি, দ্বিতীয়ার্ধে একটি ও ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হয় একটি জার্সি। সেখানে মেসির বেলায় নিয়ম ভিন্ন কেনো সেটাই ভাবছেন অনেকে।
মেসির জন্য জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এক ম্যাচের জন্য তৈরি করেন ৩০০ জার্সি। আর তার মধ্য থেকে নিয়ম অনুযায়ী মেসি পান মাত্র ৩টি।
বাকি জার্সিগুলো পেয়ে থাকেন স্পন্সর, সতীর্থ অথবা বিপক্ষ দলের ফুটবলার, কোচিং স্টাফ, টিম স্টাফ, টেকনিশিয়ান সহ মেসির সমর্থকরা বা কাছের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুরা।
মেসির জার্সি নিয়ে ভক্ত-সমর্থক, সতীর্থদের মাঝে উন্মাদনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
এমন এলাহি কাণ্ড নিয়ে তিনি বলেন, যারা মেসির জার্সি পেয়ে চায়, তাদেরকেই দেওয়া হয়। বিশ্বকাপের আগেও আমরা দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছি।
সেসময় ওই জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেসির জন্য ৬৫০টি জার্সি বানিয়ে রেখেছিলো। যা পরে স্পন্সর, খেলোয়াড়, স্টাফ, টেকনিশিয়ানদের চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া হয়।
কারণ এটি তো ফুটবলের সেরা তারকা মেসির জার্সি। এমনকি আমি ভাগ্যবান যে সেখান থেকে আমিও একটি পেয়েছিলাম।
এমনকি লিগের ম্যাচেও মেসির জন্য সবচেয়ে বেশি জার্সি বরাদ্দ রাখা হয়। কারন আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের যে কোন স্মারকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে সবার মাঝে।
সময়ের সেরা এই তারকাকে ঘিরে উত্তেজনা, উন্মাদনার কমতি নেই সতীর্থ থেকে শুরু করে সমর্থকদের মাঝেও।
প্রতিপক্ষের সতীর্থ থেকে শুরু করে কোচ, স্টাফদেরও দেখা গেছে মেসির থেকে জার্সি চেয়ে নিতে। এমন ঘটনা ঘটেছে অনেকবার।
চলতি বিশ্বকাপে বল পায়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন লিওনেল মেসি। ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। কাতার বিশ্বকাপে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে দলকে তিনি টেনে তুলেছেন ফাইনালের মঞ্চে।
দ্যুতি ছড়িয়ে এখন অবধি গোল করেছেন ৫টি, আর অ্যাসিস্ট আছে তিনটি। গোল্ডেন বুট ও বলের লড়াইয়ে বেশ এগিয়ে আছেন এলএমটেন।
সেই সাথে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা ছোঁয়া থেকে এক হাত দূরত্বে আছেন এই তারকা।
সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই হারের পর রূপকথার গল্পের মতো ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। যার নেপথ্যে ছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনাকে টেনে এনেছেন বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে।
সাতবারের বর্ষসেরা এই তারকার জার্সি নিয়ে উন্মাদনা তৈরি হওয়াটাই বেশ স্বাভাবিক। মেসিসহ তার ১০ নাম্বার জার্সিটি বেশ পছন্দ ভক্তদের। শুধু আর্জেন্টিনা নয়, দেশের বাইরেও যার চাহিদা আকাশচুম্বী।
আর তাইতো প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে এলএমটেনের জার্সি তৈরি করা হয় তিনশটি। মেসির প্রয়োজন অনুযায়ী রেখে বাকিগুলো দিয়ে দেয়া হয় আশপাশের অনেককেই।
ভাগ্যবান সমর্থকদের কেউ তা পান, আবার অনেকেই চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় থাকেন প্রিয় তারকার জার্সি পেতে।