আরো এক বিশ্বকাপ, আরো এক ফাইনালের মঞ্চ। যে মঞ্চে ম্যাজিকাল পারফরম্যান্সে মেসি, মারিয়ারা বিশ্বকাপটা করে নিতে চায় নিজেদের।
সৌদি আরবের কাছে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানো, সেখান থেকে টানা ৫ ম্যাচে জয় দিয়ে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা।
স্বপ্ন সত্যি হতে প্রয়োজন আর মাত্র এক জয়। ৩৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে আলবিসেলেস্তারা।
একদিকে, শিরোপা জয়ের হাতছানি আরেকদিকে, ১৯৯০ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি হবার শঙ্কা। সৌদি আরবের কাছে হারের পরই ৯০ এর বিশ্বকাপের স্মৃতি মনে করে আবারো আশায় বুক বেধেছিলো আর্জেন্টাইন ভক্তরা।
কিন্তু এবার যদি তা পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে আরো একবার আক্ষেপের আগুনে পুড়তে হবে আর্জেন্টাইনদের।
কাতার বিশ্বকাপের মতোই ৯০ এর বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী শক্তিশালী আর্জেন্টিনা ক্যামেরুনের কাছে ১-০ গোলে হেরে সেবার বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে।
গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিলো ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা। পরের ম্যাচে ছিলো শক্তিশালী সোভিয়েত ইউনিয়ন। সেসময় বেশ শক্তিশালী ফুটবল দল ছিলো তারা। কিন্তু আর্জেন্টাইন তারকাদের জাদুতে সেই ম্যাচে ২-০ তে জয় পায় আলবিসেলেস্তারা।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে রোমানিয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র করে ম্যারাডোনার দল। খাদের কিনারে থেকে কোনোমতে গ্রুপ পর্ব পার হয় আলবিসেলেস্তারা।
রাউন্ড অব সিক্সটিনে ব্রাজিলের মুখোমুখি হয় তারা। দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে অবশ্য সেবার শেষ হাসি হেসেছিলো আর্জেন্টিনা।
সেবার সেলেসাওদের শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ১-০ তে জয় পায় ম্যারাডোনা বাহিনী। শেষ আটে প্রতিপক্ষ ছিলো যুগোস্লাভিয়া।
সেসমসয় ফুটবলের অন্যতম শক্ত এক প্রতিপক্ষ ছিলো তারা। নির্ধারিত সময় দুই দলের গোলশূন্য থাকায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।
সেখানেও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ভাগ্যটা ছিলো আর্জেন্টিনার পক্ষেই। পেনাল্টি শুটআউটে ৩-২ গোলের জয়ে সেমিতে পা দেয় আলবিসেলেস্তারা।
সেমিতে তাদের প্রতিপক্ষ ছিলো স্বাগতিক দেশ ইতালি। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতা থাকায় এ ম্যাচেও খেলা গড়ায় পেনাল্টিতে। এবারও আর্জেন্টিনা মাঠ ছাড়ে বিজেতা বেশে। টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয় পায় আলবিসেলেস্তারা।
গ্রুপ পর্বে ধুঁকতে থাকা দলটাই সেবার ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে যায়। ফাইনালের মঞ্চে তাদের প্রতিপক্ষ ছিলো তৎকালীন জায়ান্ট ওয়েস্ট জার্মানি।
পুরো টুর্নামেন্টে ভাগ্য সহায় হলেও শেষ ম্যাচে ফুটবল বিধাতা যেনো মুখ ফিরিয়ে নিলো। ম্যাচের ৮৫ মিনিটের গোলে ১-০ তে জয় পায় পশ্চিম জার্মানি। পর পর ডাবলস জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার।
তবে, সেবার গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে হেরেও আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলাটা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে কাতার বিশ্বকাপেও।
সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে এবার ২-১ গোলে হারের পর মেক্সিকো, পোল্যান্ড দুই দলের বিপক্ষেই দাপুটে খেলে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
এরপর রাউন্ড অব সিক্সটিনে অস্ট্রেলিয়া ও শেষ আটে নেদারল্যান্ডসকে গুড়িয়ে সেমি নিশ্চিত করে তারা। সেমিতে গেলো আসরের ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট।
এবার হয়তো আর্জেন্টাইন সমর্থকরা নিশ্চই চাইবে না ৯০ এর বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি হোক। ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় শিরোপা জিততে চাইবে আলবিসেলেস্তারা।
১৯৯০ এর বিশ্বকাপের সাথে আরো এক মিল হলো, সেবার ম্যারাডোনা একাই দলকে টেনে তুলেছিলেন ফাইনালে। আর এবার কাতার বিশ্বকাপে মেসি একাই পায়ের জাদুতে দলকে উঠিয়ে এনেছেন ফাইনালে।
২০১০ সালেও গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচেই হেরেছিলো স্পেন। কিন্তু সেবার টুর্নামেন্টের বাকিটা পথ দুর্দান্ত খেলে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিলো স্প্যানিশরা। এখান থেকে অবশ্য খানিকটা ভরসা পেতেই পারে আর্জেন্টাইনরা।
তবে, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে নাকি নতুন করে রচিত হবে ইতিহাস সেটার উত্তর মিলবে ফাইনাল ম্যাচ শেষে।