আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্রের ও একদিন পতন হয়, এই অমোঘ সত্যকে ধারণ করে কাতার বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন একঝাঁক তারকা ফুটবলার।
দীর্ঘ সময়ের বর্ণিল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে নতুনদের সুযোগ করে দিতেই জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন তারা।
ক্লাব ফুটবলে সক্রিয় থাকলে ও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন না অবসরে যাওয়া এসব তারকা ফুটবলার।
অবসরের এই তালিকায় সবচে অবাক করা নাম করিম বেনজেমা। ইনজুরির কবলে পড়ে কাতার বিশ্বকাপ থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিলেন।
রোববার কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস এক ফাইনলে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও হেরে যায় ফ্রান্স। এর ঠিক একদিন দিন পরেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা।
২০০৭ সালে ফ্রান্সের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় বেনজেমার। কিন্তু ইনজুরি কবলে পড়ে ক্যারিয়ারে ৫ বিশ্বকাপ পার করে মোটের উপর বিশ্বকাপ খেলতে পেরেছেন একবার।
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ বাদে কোনোটাতেই খেলতে পারেননি তিনি। ফ্রান্সের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৯৭ ম্যাচ খেলে ৩৭টি গোল করেছেন ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ক্যারিয়ারে শীর্ষে আরোহণ করে সর্বশেষ ব্যালন ডি অর জিতেছিলেন তিনি।
অবসরের এই তালিকায় যোগ দিয়েছেন স্প্যানিশ অধিনায়ক সার্জিও বুসকেটস। বিশ্বকাপ থেকে স্পেনের ছিটকে যাওয়ার পরেই গুঞ্জন উঠেছিল সার্জিও বুসকেটস অবসর নেবেন।
সেই গুঞ্জন সত্যি করে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ ও ইউরো জিতেছেন এই তারকা ফুটবলার।
২০০৯ সালে স্পেনের হয়ে অভিষেক ঘটে বুসকেটসের। ২০১০ সালেই বিশ্বকাপ জিত নেন তিনি। দেশের হয়ে ১৪৩ ম্যাচে ৩ গোল করেছেন বর্তমান বার্সেলোনা অধিনায়ক।
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ী দল থেকে সবাই অবসর নিলেও টিকে ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক থেকে অবসর নিলেও বার্সেলোনার হয়ে আরো কিছুদিন খেলে যেতে চান বুসকেটস।
এদিকে মাত্র ৩১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে সমর্থকদের অবাক করেছেন বেলজিয়ামের স্ট্রাইকার ইডেন হ্যাজার্ড।
কাতারে বিশ্বকাপ থেকে বেলজিয়ামের হতাশাজনক বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন হ্যাজার্ড।
সর্বশেষ আসরে তৃতীয় হওয়া বেলজিয়াম এবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। আর বরাবরের মতোই হতাশ করেছেন হ্যাজার্ড। ৩ ম্যাচে গোলশুন্য থেকে বিবর্ণ ছিলেন তিনি।
২০০৮ সালে দেশের হয়ে অভিষেক ঘটে ৩১ বছর বয়সী হ্যাজার্ড এর। আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ১২৬ ম্যাচে খেকে করেছেন ৩৩ গোল।
সাম্প্রতিক সময়ে বেলজিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। অপরদিকে ইনজুরি আর বাজে ফর্ম মিলিয়ে ক্লাব পর্যায়েও ছন্দে ছিলেন না হ্যাজার্ড।
তিউনিসিয়ার কিংবদন্তি ফুটবলার ওয়াহবি খাজরিও যোগ্য দিয়েছেন অবসরের তালিকায়। কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্স কে ধরাশায়ী করে চমক দেখিয়েছিল দেশটি।
কিন্তু বাকি ম্যাচগুলো হেরে যাওয়ায় গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় তিউনিসিয়ার। কাতার বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স এর পর মাত্র ৩১ বছর বয়সেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিউনিসিয়ার অধিনায়ক।
তিউনিসিয়ার হয়ে ২০১৩ সালে অভিষেক হয় খাজরির। ইথিওপিয়ার বিপক্ষে সর্বপ্রথম তিউনিসিয়ার জার্সি গায়ে চাপান ৭৪ ম্যাচে ২৫ গোল করা এই স্ট্রাইকার।
তিউনিসিয়ার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল স্কোরার হিসেবে মর্যাদা পেয়েছেন তিনি। ৩৬ গোল করে এই তালিকার প্রথমে আছেন ইসাম জেমা।