কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল জিতে অধরা ট্রফি নিজের করে নেয়াতে অন্য এক মাত্রা পেয়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসির জনপ্রিয়তা।
তবে ফুটবল শুধু মেসিকে জনপ্রিয়তাই দেয়নি, দিয়েছে ব্যাপক অর্থ-সম্পদও। বিশ্বের সেরা ধনী অ্যাথলেটদের তালিকায় উপরের দিকেই অবস্থান এই তারকার।
স্বাভাবিকভাবেই তাই মেসির জীবনযাত্রায় রয়েছে বিলাসিতার ছাপ। পিএসজি ফরোয়ার্ডের মালিকানায় আছে বিলাসবহুল সব বাড়ি ও গাড়ি।
বিশ্বের চারটি স্থানে প্রাসাদের মত চারটি বাড়ি রয়েছে তাঁর, যেগুলোর মোট মূল্য কয়েকশত কোটি টাকা।
স্পেনের বার্সেলোনার সাথে লিওনেল মেসির সম্পর্ক একেবারে গভীর। এই শহরেই তাঁর বেড়ে ওঠা, সেরা ফুটবলার হয়ে উঠা। এখানে একটি বিলাসবহুল ম্যানশন তাই নিজের জন্য কিনে নিয়েছেন তিনি।
২০০৯ সালে প্রাচীন এই ম্যানশন কিনতে ১৮ লাখ ইউরো ব্যয় করেন সাবেক বার্সা সুপারস্টার। এরপর নিজের পছন্দ অনুযায়ী বাড়িটি মেরামত ও অন্দরসজ্জায় আরো প্রায় ৬০ লাখ ইউরো ব্যয় করেছেন তিনি।
ক্যাম্প ন্যু থেকে বারো মাইল দূরে অবস্থিত এই বাড়িটি। স্প্যানিশ ম্যানশনটির লিভিংরুম লিওনেল মেসির বেশ প্রিয়। প্রায়ই মেসিকে বাচ্চাদের নিয়ে এই লিভিংরুমে সময় কাটাতে দেখা যায়।
বাড়ির সমান আয়তনের একটি সুইমিংপুলও রয়েছে এখানে। সাঁতার কাটা মেসির প্রিয় অভ্যাসগুলোর একটি। আবার কাতালান পাহাড় ও ভূমধ্যসাগরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করার জন্য প্রশস্ত বারান্দা ও জানালা রয়েছে বাড়িটিতে৷
এছাড়া একটা রুমের পুরোটা জুড়ে রয়েছে মেসির জার্সি কালেকশন। মেসির স্প্যানিশ ম্যানশনটি নো ফ্লাই জোনের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ এটির উপর দিয়ে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ।
বার্সেলোনা ছাড়াও নিজের জন্মস্থান রোজারিওতে বিলাসি এক ম্যানশনের মালিক লিওনেল মেসি। প্রায় ৩০ লাখ পাউন্ড খরচ করে এই বাড়িটি নির্মাণ করেছেন তিনি।
প্রায় তিন বছর সময় ব্যয় করে নির্মিত বাড়িতে রয়েছে ২০ থেকে ২৫টি কক্ষ। মিলান, ইসরায়েল এবং প্যারিস থেকে বিভিন্ন আসবাব এনে বাড়িটি সাজানো হয়েছে।
এছাড়া এখানে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক জিম এবং বিশাল খেলার মাঠ। অবসরে প্রিয় কুকুর এবং সন্তানদের সাথে এই মাঠে খেলাধুলা করেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার।
তাছাড়া বাড়িতে রয়েছে পুরো একটি সিনেমা হল। আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা গ্যারেজটিও বেশ নজরকাড়া। ফুটবল থেকে অবসরের পর বেশিরভাগ সময় এখানেই কাটাতে চান লিও।
স্থায়ীভাবে কিংবা লম্বা সময়ের জন্য কখনো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস না করলেও দেশটির মিয়ামি শহরে ব্যয়বহুল একটি বাড়ি কিনেছেন লিওনেল মেসি। বাড়িটির মূল্য প্রায় ৭৫ লাখ পাউন্ড।
মিয়ামি সমুদ্র সৈকতের কাছেই এটি অবস্থিত। বাড়িতে বসে সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগ করতে পারাটা এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
এছাড়া মিয়ামিতে অবস্থিত বাড়িটির অন্যতম দিক হলো উন্নত পার্কিং ব্যবস্থা। এতে রয়েছে কার লিফট, যা বাসিন্দাদের উচু তলায় গাড়ি পার্ক করার সুযোগ করে দিয়েছে। উচ্চ সিলিং সহ বিশাল কক্ষ এবং প্রত্যাশামাফিক সব বিলাসি সুবিধা রয়েছে এখানে।
সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের ইবিজা দ্বীপে আরো একটি বাড়ি ক্রয় করেছেন লিওনেল মেসি। সুইস ব্যবসায়ী টাইকুন ফিলিপ আমনের কাছ থেকে ৯৫ লক্ষ পাউন্ডের বিনিময়ে বাড়িটি কিনেছিলেন তিনি।
ইবিজা দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত সম্পত্তিটি বিশ হাজার বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত। প্রায় বাড়ির সমান আকারে একটি বিশাল সুইমিং পুল এবং একটি বড় ফুটবল মাঠ আছে এখানে।
ম্যানশনটির নির্মাণ কাজ কিছু বাকি থাকায় এখনো এটি বসবাসের উপযোগী হয়নি। তবে মজার বিষয় হলো, পিএসজির হয়ে খেলা সত্ত্বেও প্যারিসে এখনো ভাড়া বাড়িতেই থাকেন লিওনেল মেসি।